রাজধানীর উত্তরায় ব্যাংকে টাকা জমা দিতে যাওয়ার পথে পেট্রোল পাম্পের কর্মচারীদের কুপিয়ে এক কোটি ২১ লাখ ২৫ হাজার টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। রোববার সকাল সাড়ে দশটার দিকে বিমানবন্দর সড়কের ক্রাউন প্লাজা হোটেলের সামনে এই ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার তারেক আহমেদ বেগ।
উত্তরায় অবস্থিত ডিএল পেট্রোল পাম্পের মালিক তাসীন আক্তার হক, যিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের খালাত ভাই বলে পরিচিত। তার প্রয়াত মা খুরশীদ জাহান হক ছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বড় বোন এবং বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে দীর্ঘদিন যুক্ত একজন ব্যক্তিত্ব। ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত তিনি সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন, এরপর ১৯৯৬-২০০১ এবং ২০০২-২০০৬ মেয়াদে দিনাজপুর সদর আসন থেকে নির্বাচিত হন। বিএনপি নেতৃত্বাধীন চার দলীয় জোট সরকারের আমলে তিনি মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বও পালন করেছিলেন।
পুলিশ জানায়, ঘটনার পর পেট্রোল পাম্পের ম্যানেজার আব্দুল করিম বিমানবন্দর থানায় অজ্ঞাতনামা ছয়-সাত জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ছিনতাই হওয়া অর্থ ডিএল পেট্রোল পাম্পেরই বিক্রয়লব্ধ টাকা।
অভিযোগ অনুযায়ী, সেদিন সকালে পাম্পের সহকারী ম্যানেজার মোহাম্মদ আল আমিন, সিএনজি অপারেটর সেলিমুজ্জামান এবং কাভার্ডভ্যানের চালক খোরশেদ টাকাভর্তি ব্যাগ নিয়ে উত্তরা ১ নম্বর সেক্টরের পূবালী ব্যাংকের উদ্দেশ্যে রওনা হন। পথিমধ্যে তিনটি মোটরসাইকেলে আসা ছয়-সাত জনের একটি দল কাভার্ডভ্যানের গতিরোধ করে। পিস্তল ঠেকিয়ে এবং আল আমিনকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে টাকাভর্তি ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে দুর্বৃত্তরা আব্দুল্লাহপুরের দিকে পালিয়ে যায়। পরে সেলিমুজ্জামান, খোরশেদ ও আশপাশের মানুষের সহায়তায় গুরুতর আহত আল আমিনকে কুয়েত বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতালে নেওয়া হয়।
পাম্পের ম্যানেজার আব্দুল করিম জানান, ডিএল পেট্রোল পাম্পে প্রতিদিন গড়ে ৪৫ থেকে ৫০ লাখ টাকার লেনদেন হয়ে থাকে। সাধারণত পরদিন সকাল দশটা থেকে সাড়ে দশটার মধ্যে বিক্রির টাকা ব্যাংকে জমা দেওয়া হয়। শুক্র ও শনিবার ব্যাংক বন্ধ থাকায় ওই দুই দিনের টাকা একসঙ্গে রোববার জমা দেওয়ার জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, আর তখনই এই দুর্ঘটনার শিকার হন তারা।
তদন্তসংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রতিদিন একই সময়ে টাকা নিয়ে ব্যাংকে যাওয়ার বিষয়টি ছিনতাইকারীরা আগে থেকেই জানত বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এখন পর্যন্ত ছিনতাইয়ে জড়িত কারও পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি, তাদের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের নম্বরও এখনো চিহ্নিত করা যায়নি।
এ প্রসঙ্গে উপকমিশনার তারেক বেগ বলেন, এই ঘটনায় ইতোমধ্যে একটি মামলা রুজু হয়েছে এবং পুলিশের একাধিক ইউনিট এখন তদন্তে নেমেছে। জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের বিষয়ে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
উত্তরার মতো গুরুত্বপূর্ণ ও জনবহুল এলাকায় প্রকাশ্য দিবালোকে এমন সংঘবদ্ধ ছিনতাইয়ের ঘটনা নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। দৈনন্দিন লেনদেনের রুটিন আগে থেকে জেনে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানোর বিষয়টি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। পুলিশ বলছে, সংশ্লিষ্ট সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনাসহ প্রযুক্তিগত নানা পদ্ধতি ব্যবহার করে অভিযুক্তদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে।
চলমান বার্তা ডেস্ক : 



















