শাহজাদপুরে মাদক ব্যবসার অভিযোগে নারীর বাড়িতে ভাঙচুর, আইন নিজের হাতে না নেওয়ার আহ্বান পুলিশের

শাহজাদপুর উপজেলায় মাদক ব্যবসার অভিযোগকে কেন্দ্র করে এক নারীর বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ জানিয়েও কার্যকর প্রতিকার না পাওয়ায় ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে এ ঘটনা ঘটে। তবে পুলিশ ও আইনজীবীরা বলছেন, কোনো অভিযোগই আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার বৈধতা দেয় না।

শনিবার (৪ জুলাই) দুপুর প্রায় ৩টার দিকে উপজেলার হাবিবুল্লাহ নগর ইউনিয়নের ডায়া খাঁপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্র জানায়, ডায়া খাঁপাড়া গ্রামের প্রায় ১০০ থেকে ১২০ জনের একটি দল অভিযুক্ত মোছা. আসমানী খাতুনের বাড়িতে ভাঙচুর চালায়। আসমানী খাতুন (৩৮) স্থানীয় রুবেল হোসেনের স্ত্রী।

শাহজাদপুর থানা পুলিশ জানায়, আসমানী খাতুন এলাকায় মাদক ব্যবসার অভিযোগে পরিচিত এবং অতীতে একাধিকবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, তিনি গোপনে অনৈতিক কর্মকাণ্ডেও জড়িত ছিলেন। ঘটনার সময় আসমানী ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে ছিলেন না। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, হাজী মনিরুল ইসলামের নেতৃত্বে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

গ্রামবাসীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার কারণে এলাকার যুবসমাজ বিপথগামী হচ্ছে। পাশাপাশি চুরি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধও বেড়েছে। এসব কারণে বহু পরিবার সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও দাবি করেন তারা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও স্থায়ী সমাধান হয়নি। কেন পুলিশকে খবর দেওয়া হয়নি—এমন প্রশ্নের জবাবে তারা বলেন, পুলিশের ওপর তাদের আস্থা কমে গেছে। তাদের দাবি, গ্রেপ্তারের পরও অভিযুক্তরা অল্প সময়ের মধ্যেই জামিনে বের হয়ে আসেন।

এ বিষয়ে শাহজাদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে থানায় লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত নজরদারি রাখা হয়েছে এবং পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।

শাহজাদপুর আদালতের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মতিয়ার রহমান বলেন, কারও বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার অভিযোগ থাকলেও তাঁর বাড়িঘর ভাঙচুর বা আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার সুযোগ নেই। অভিযোগের তদন্ত, সত্যতা যাচাই এবং বিচার সম্পূর্ণভাবে রাষ্ট্রের আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা ও বিচারব্যবস্থার দায়িত্ব। তাঁর মতে, মবের মাধ্যমে বিচার প্রতিষ্ঠার চেষ্টা আইনের শাসন ও জননিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (শাহজাদপুর সার্কেল) মো. হাফিজুর রহমানও বলেন, মাদকবিরোধী অবস্থানের আড়ালে কোনোভাবেই ভাঙচুর বা আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা যাতে আর না ঘটে, সে জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

রাইসা-লাবণ চ্যাম্পিয়ন, ১০ স্বল্পদৈর্ঘ্যে নতুন শিল্পীদের অভিষেক

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

খেলাপির শীর্ষে জনতা, সরকারি ব্যাংকে টাকা রাখা মানেই কি নিরাপদ?

১৯ আগস্ট ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

শাহজাদপুরে মাদক ব্যবসার অভিযোগে নারীর বাড়িতে ভাঙচুর, আইন নিজের হাতে না নেওয়ার আহ্বান পুলিশের

আপডেট সময় ০৬:১৬:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬

শাহজাদপুর উপজেলায় মাদক ব্যবসার অভিযোগকে কেন্দ্র করে এক নারীর বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ জানিয়েও কার্যকর প্রতিকার না পাওয়ায় ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে এ ঘটনা ঘটে। তবে পুলিশ ও আইনজীবীরা বলছেন, কোনো অভিযোগই আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার বৈধতা দেয় না।

শনিবার (৪ জুলাই) দুপুর প্রায় ৩টার দিকে উপজেলার হাবিবুল্লাহ নগর ইউনিয়নের ডায়া খাঁপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্র জানায়, ডায়া খাঁপাড়া গ্রামের প্রায় ১০০ থেকে ১২০ জনের একটি দল অভিযুক্ত মোছা. আসমানী খাতুনের বাড়িতে ভাঙচুর চালায়। আসমানী খাতুন (৩৮) স্থানীয় রুবেল হোসেনের স্ত্রী।

শাহজাদপুর থানা পুলিশ জানায়, আসমানী খাতুন এলাকায় মাদক ব্যবসার অভিযোগে পরিচিত এবং অতীতে একাধিকবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, তিনি গোপনে অনৈতিক কর্মকাণ্ডেও জড়িত ছিলেন। ঘটনার সময় আসমানী ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে ছিলেন না। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, হাজী মনিরুল ইসলামের নেতৃত্বে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

গ্রামবাসীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার কারণে এলাকার যুবসমাজ বিপথগামী হচ্ছে। পাশাপাশি চুরি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধও বেড়েছে। এসব কারণে বহু পরিবার সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও দাবি করেন তারা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও স্থায়ী সমাধান হয়নি। কেন পুলিশকে খবর দেওয়া হয়নি—এমন প্রশ্নের জবাবে তারা বলেন, পুলিশের ওপর তাদের আস্থা কমে গেছে। তাদের দাবি, গ্রেপ্তারের পরও অভিযুক্তরা অল্প সময়ের মধ্যেই জামিনে বের হয়ে আসেন।

এ বিষয়ে শাহজাদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে থানায় লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত নজরদারি রাখা হয়েছে এবং পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।

শাহজাদপুর আদালতের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মতিয়ার রহমান বলেন, কারও বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার অভিযোগ থাকলেও তাঁর বাড়িঘর ভাঙচুর বা আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার সুযোগ নেই। অভিযোগের তদন্ত, সত্যতা যাচাই এবং বিচার সম্পূর্ণভাবে রাষ্ট্রের আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা ও বিচারব্যবস্থার দায়িত্ব। তাঁর মতে, মবের মাধ্যমে বিচার প্রতিষ্ঠার চেষ্টা আইনের শাসন ও জননিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (শাহজাদপুর সার্কেল) মো. হাফিজুর রহমানও বলেন, মাদকবিরোধী অবস্থানের আড়ালে কোনোভাবেই ভাঙচুর বা আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা যাতে আর না ঘটে, সে জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

Share this news as a Photo Card