রোমান্টিক ইমেজ ভেঙে ভিলেন হতে চান পূর্ণিমা

বাংলাদেশের চলচ্চিত্রাঙ্গনে প্রায় তিন দশক ধরে রোমান্টিক নায়িকা হিসেবে পরিচিত একটি নাম—দিলারা হানিফ পূর্ণিমা। পর্দায় তাঁর হাসি, সৌন্দর্য আর ইতিবাচক চরিত্রের অভিনয়ই দর্শকদের মনে স্থায়ী জায়গা করে দিয়েছে। তবে দীর্ঘ এই পথচলার পর এবার নিজেকে একেবারেই ভিন্নভাবে দেখতে চান জনপ্রিয় এই অভিনেত্রী। তাঁর ইচ্ছা, এমন একটি নেগেটিভ বা ভিলেন চরিত্রে অভিনয় করা, যা দর্শকদের বিস্মিত করবে এবং একজন অভিনয়শিল্পী হিসেবে তাঁর নতুন দিকটি তুলে ধরবে।
সম্প্রতি নিজের অভিনয়জীবন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে পূর্ণিমা জানান, দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি নানা ধরনের চরিত্রে অভিনয় করলেও কখনো শক্তিশালী নেগেটিভ চরিত্রে কাজ করার সুযোগ পাননি। তাই এখন এমন একটি চরিত্রের অপেক্ষায় রয়েছেন, যা তাঁর পরিচিত ইমেজের সম্পূর্ণ বিপরীত হবে।
পূর্ণিমার ভাষায়, দর্শক তাঁকে সব সময় রোমান্টিক, পরিপাটি ও সুন্দরী নায়িকার রূপেই দেখে এসেছে। কিন্তু সেই প্রচলিত ধারণা ভেঙে এবার এমন একটি চরিত্রে অভিনয় করতে চান, যেটি দেখে দর্শকের মনে চরিত্রটির প্রতি ঘৃণা তৈরি হবে। তাঁর বিশ্বাস, এ ধরনের চরিত্রে নিজেকে প্রমাণ করতে পারলে একজন শিল্পী হিসেবে নতুনভাবে মূল্যায়িত হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
মাত্র ১৫ বছর বয়সে চলচ্চিত্রে পা রাখেন পূর্ণিমা। ১৯৯৮ সালে জাকির হোসেন রাজু পরিচালিত ‘এ জীবন তোমার আমার’ চলচ্চিত্রে রিয়াজের বিপরীতে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে বড় পর্দায় তাঁর অভিষেক ঘটে। প্রথম ছবিতেই দর্শকের নজর কাড়েন তিনি। এরপর একে একে ‘মনের মাঝে তুমি’, ‘হৃদয়ের কথা’, ‘বিয়ের প্রস্তাব’, ‘সুভা’, ‘পরাণ যায় জ্বলিয়া রে’, **‘সন্তান যখন শত্রু’**সহ বহু জনপ্রিয় ও ব্যবসাসফল চলচ্চিত্রে অভিনয় করে ঢালিউডের অন্যতম শীর্ষ নায়িকায় পরিণত হন।
সমসাময়িক প্রায় সব জনপ্রিয় নায়কের সঙ্গে জুটি বেঁধে অভিনয় করেছেন তিনি। অভিনয়ের স্বীকৃতি হিসেবে কাজী হায়াৎ পরিচালিত ‘ওরা আমাকে ভালো হতে দিলো না’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য অর্জন করেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার।
বর্তমানে আগের তুলনায় নিয়মিত অভিনয়ে দেখা না গেলেও চলচ্চিত্র থেকে নিজেকে সরিয়ে নেননি পূর্ণিমা। তাঁর অভিনীত ‘গাঙচিল’ ও ‘জ্যাম’ দীর্ঘদিন ধরে মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে। পাশাপাশি নতুন চলচ্চিত্রের প্রস্তাবও পাচ্ছেন। তবে তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, এখন আর শুধু পর্দায় উপস্থিত হওয়ার জন্য কাজ করতে চান না। বরং গল্প, চরিত্র এবং অভিনয়ের চ্যালেঞ্জ—এই তিনটি বিষয়কে গুরুত্ব দিয়েই নতুন সিনেমা বেছে নিতে চান।
অভিনয়জীবনের নতুন অধ্যায়ে তাই পূর্ণিমার সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা একটি ব্যতিক্রমী নেগেটিভ চরিত্র। তাঁর বিশ্বাস, এমন চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শক তাঁকে নতুন চোখে দেখবে এবং দীর্ঘদিনের রোমান্টিক নায়িকার পরিচয়ের বাইরে একজন বহুমাত্রিক অভিনয়শিল্পী হিসেবেও মূল্যায়ন করবে।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

জনপ্রিয় সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

মান্দেব প্রণালি বন্ধের পরিণতি হবে ভয়াবহ : কাতার

১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

রোমান্টিক ইমেজ ভেঙে ভিলেন হতে চান পূর্ণিমা

আপডেট সময় ০২:০০:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬

বাংলাদেশের চলচ্চিত্রাঙ্গনে প্রায় তিন দশক ধরে রোমান্টিক নায়িকা হিসেবে পরিচিত একটি নাম—দিলারা হানিফ পূর্ণিমা। পর্দায় তাঁর হাসি, সৌন্দর্য আর ইতিবাচক চরিত্রের অভিনয়ই দর্শকদের মনে স্থায়ী জায়গা করে দিয়েছে। তবে দীর্ঘ এই পথচলার পর এবার নিজেকে একেবারেই ভিন্নভাবে দেখতে চান জনপ্রিয় এই অভিনেত্রী। তাঁর ইচ্ছা, এমন একটি নেগেটিভ বা ভিলেন চরিত্রে অভিনয় করা, যা দর্শকদের বিস্মিত করবে এবং একজন অভিনয়শিল্পী হিসেবে তাঁর নতুন দিকটি তুলে ধরবে।
সম্প্রতি নিজের অভিনয়জীবন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে পূর্ণিমা জানান, দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি নানা ধরনের চরিত্রে অভিনয় করলেও কখনো শক্তিশালী নেগেটিভ চরিত্রে কাজ করার সুযোগ পাননি। তাই এখন এমন একটি চরিত্রের অপেক্ষায় রয়েছেন, যা তাঁর পরিচিত ইমেজের সম্পূর্ণ বিপরীত হবে।
পূর্ণিমার ভাষায়, দর্শক তাঁকে সব সময় রোমান্টিক, পরিপাটি ও সুন্দরী নায়িকার রূপেই দেখে এসেছে। কিন্তু সেই প্রচলিত ধারণা ভেঙে এবার এমন একটি চরিত্রে অভিনয় করতে চান, যেটি দেখে দর্শকের মনে চরিত্রটির প্রতি ঘৃণা তৈরি হবে। তাঁর বিশ্বাস, এ ধরনের চরিত্রে নিজেকে প্রমাণ করতে পারলে একজন শিল্পী হিসেবে নতুনভাবে মূল্যায়িত হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
মাত্র ১৫ বছর বয়সে চলচ্চিত্রে পা রাখেন পূর্ণিমা। ১৯৯৮ সালে জাকির হোসেন রাজু পরিচালিত ‘এ জীবন তোমার আমার’ চলচ্চিত্রে রিয়াজের বিপরীতে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে বড় পর্দায় তাঁর অভিষেক ঘটে। প্রথম ছবিতেই দর্শকের নজর কাড়েন তিনি। এরপর একে একে ‘মনের মাঝে তুমি’, ‘হৃদয়ের কথা’, ‘বিয়ের প্রস্তাব’, ‘সুভা’, ‘পরাণ যায় জ্বলিয়া রে’, **‘সন্তান যখন শত্রু’**সহ বহু জনপ্রিয় ও ব্যবসাসফল চলচ্চিত্রে অভিনয় করে ঢালিউডের অন্যতম শীর্ষ নায়িকায় পরিণত হন।
সমসাময়িক প্রায় সব জনপ্রিয় নায়কের সঙ্গে জুটি বেঁধে অভিনয় করেছেন তিনি। অভিনয়ের স্বীকৃতি হিসেবে কাজী হায়াৎ পরিচালিত ‘ওরা আমাকে ভালো হতে দিলো না’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য অর্জন করেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার।
বর্তমানে আগের তুলনায় নিয়মিত অভিনয়ে দেখা না গেলেও চলচ্চিত্র থেকে নিজেকে সরিয়ে নেননি পূর্ণিমা। তাঁর অভিনীত ‘গাঙচিল’ ও ‘জ্যাম’ দীর্ঘদিন ধরে মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে। পাশাপাশি নতুন চলচ্চিত্রের প্রস্তাবও পাচ্ছেন। তবে তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, এখন আর শুধু পর্দায় উপস্থিত হওয়ার জন্য কাজ করতে চান না। বরং গল্প, চরিত্র এবং অভিনয়ের চ্যালেঞ্জ—এই তিনটি বিষয়কে গুরুত্ব দিয়েই নতুন সিনেমা বেছে নিতে চান।
অভিনয়জীবনের নতুন অধ্যায়ে তাই পূর্ণিমার সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা একটি ব্যতিক্রমী নেগেটিভ চরিত্র। তাঁর বিশ্বাস, এমন চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শক তাঁকে নতুন চোখে দেখবে এবং দীর্ঘদিনের রোমান্টিক নায়িকার পরিচয়ের বাইরে একজন বহুমাত্রিক অভিনয়শিল্পী হিসেবেও মূল্যায়ন করবে।

Share this news as a Photo Card