শিরোনাম :
পদত্যাগ প্রশ্নে বিরক্ত রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রপতি পদে ‘জনপ্রিয়তার শীর্ষে’ কে এই খাইরুল দেওয়ান ? শুক্রবার সারা ভারতে জুড়ে বিক্ষোভের ডাক ককরোচ পার্টির ভেনিস উৎসবে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের সিনেমা ‘ব্যক্তিগত মুহূর্তের’ ভিডিও বিতর্কের জেরে জামাত নেতা গাজী নজরুলকে বহিষ্কার, ইসি-স্পিকারকে চিঠি শাহজাদপুরে ১৫৫ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই, ব্যাহত শিক্ষা কার্যক্রম কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের দায়ে এনসিপি নেতা গ্রেপ্তার নয়াদিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ মোদির সাংবিধানিকভাবে পদত্যাগ করবেন রাষ্ট্রপতি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ২০৩৪ সালে ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির অঙ্গীকার প্রধানমন্ত্রীর

সাতক্ষীরায় জামায়াত এমপির বিরুদ্ধে ক্ষোভ

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের ‘ব্যক্তিগত মুহূর্তের’ ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। বিতর্কিত এই ঘটনার জেরে তাঁকে নিজ এলাকায় অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। একই সঙ্গে তাঁর সংসদ সদস্য পদ বাতিল এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তুলেছেন বিএনপির স্থানীয় নেতা-কর্মী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।

​আজ বুধবার বেলা ১১টার দিকে সাতক্ষীরার শ্যামনগর সদর এলাকায় ‘শ্যামনগরের সচেতন নাগরিক সমাজ’–এর ব্যানারে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিএনপি ও এর অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষ এবং বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে বিক্ষুব্ধ জনতা গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে নানা স্লোগান দেন।

অবাঞ্ছিত ঘোষণা ও বিচারের দাবি

​মানববন্ধন শেষে অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর গোটা এলাকায় তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। একজন জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ ওঠায় শ্যামনগরের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে। সমাবেশে আসা বিএনপির স্থানীয় নেতারা বলেন, এই ঘটনার মাধ্যমে ওই সংসদ সদস্যের নৈতিক পদস্খলন ঘটেছে, যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

​উপজেলা বিএনপির সদস্য আশেক–ই–এলাহী বলেন, বিষয়টি এখন সারা দেশে আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই কেবল ব্যক্তিগত ব্যাখ্যা দিয়েই দায়িত্ব শেষ করা সম্ভব নয়। তিনি জামায়াতে ইসলামীকে দ্রুত সাংগঠনিক পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি সরকার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা পেলে যেন তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়, সে দাবিও জানান তিনি।

​কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া পদ্মপুকুর ইউপি চেয়ারম্যান আমজাদুল ইসলাম তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, জনগণ পরিবর্তনের আশায় দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দিয়েছিল। কিন্তু নির্বাচিত হওয়ার পর একের পর এক বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণে মানুষ আজ প্রতারিত বোধ করছে। তিনি সরাসরি গাজী নজরুল ইসলামকে শ্যামনগরে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন এবং তাঁর সংসদ সদস্য পদ বাতিলের জোর দাবি জানান।

নারী নিরাপত্তা ও সাংগঠনিক পদক্ষেপের আহ্বান

​সমাবেশে নারী নিরাপত্তার বিষয়টিও জোরালোভাবে উঠে আসে। উপজেলা জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভানেত্রী নুরজাহান পারভীন বলেন, কেবল কথায় নয়, কাজের মাধ্যমে নারীদের প্রকৃত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। সংসদ সদস্যের মতো দায়িত্বশীল পদে থেকে যদি এমন অভিযোগ ওঠে, তবে নারীদের সুরক্ষা চরম হুমকির মুখে পড়ে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান।

​বক্তাদের মূল বক্তব্য ছিল, ভিডিওটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে যা অনভিপ্রেত। গুরুতর এই নৈতিক ভঙ্গের অভিযোগের পর ওই পদে বহাল থাকার কোনো অধিকার জামায়াত এমপির নেই। তাই জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে উদ্যোগী হয়ে অবিলম্বে তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করারও আহ্বান জানানো হয়।

​উল্লেখ্য, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই বিতর্কিত ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পরপরই সাতক্ষীরা জুড়েই ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়। তবে জামায়াত নেতা গাজী নজরুল ইসলাম তাঁর ফেসবুক পেজে এ নিয়ে একটি ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তাতেও স্থানীয় অসন্তোষ কমেনি, যার পরিণতিতে আজকের এই রাজপথের কর্মসূচি।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

জনপ্রিয় সংবাদ

পদত্যাগ প্রশ্নে বিরক্ত রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

২০৩৪ সালে ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির অঙ্গীকার প্রধানমন্ত্রীর

২৩ জুলাই ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

সাতক্ষীরায় জামায়াত এমপির বিরুদ্ধে ক্ষোভ

আপডেট সময় ০৫:৩৬:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের ‘ব্যক্তিগত মুহূর্তের’ ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। বিতর্কিত এই ঘটনার জেরে তাঁকে নিজ এলাকায় অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। একই সঙ্গে তাঁর সংসদ সদস্য পদ বাতিল এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তুলেছেন বিএনপির স্থানীয় নেতা-কর্মী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।

​আজ বুধবার বেলা ১১টার দিকে সাতক্ষীরার শ্যামনগর সদর এলাকায় ‘শ্যামনগরের সচেতন নাগরিক সমাজ’–এর ব্যানারে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিএনপি ও এর অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষ এবং বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে বিক্ষুব্ধ জনতা গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে নানা স্লোগান দেন।

অবাঞ্ছিত ঘোষণা ও বিচারের দাবি

​মানববন্ধন শেষে অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর গোটা এলাকায় তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। একজন জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ ওঠায় শ্যামনগরের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে। সমাবেশে আসা বিএনপির স্থানীয় নেতারা বলেন, এই ঘটনার মাধ্যমে ওই সংসদ সদস্যের নৈতিক পদস্খলন ঘটেছে, যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

​উপজেলা বিএনপির সদস্য আশেক–ই–এলাহী বলেন, বিষয়টি এখন সারা দেশে আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই কেবল ব্যক্তিগত ব্যাখ্যা দিয়েই দায়িত্ব শেষ করা সম্ভব নয়। তিনি জামায়াতে ইসলামীকে দ্রুত সাংগঠনিক পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি সরকার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা পেলে যেন তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়, সে দাবিও জানান তিনি।

​কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া পদ্মপুকুর ইউপি চেয়ারম্যান আমজাদুল ইসলাম তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, জনগণ পরিবর্তনের আশায় দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দিয়েছিল। কিন্তু নির্বাচিত হওয়ার পর একের পর এক বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণে মানুষ আজ প্রতারিত বোধ করছে। তিনি সরাসরি গাজী নজরুল ইসলামকে শ্যামনগরে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন এবং তাঁর সংসদ সদস্য পদ বাতিলের জোর দাবি জানান।

নারী নিরাপত্তা ও সাংগঠনিক পদক্ষেপের আহ্বান

​সমাবেশে নারী নিরাপত্তার বিষয়টিও জোরালোভাবে উঠে আসে। উপজেলা জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভানেত্রী নুরজাহান পারভীন বলেন, কেবল কথায় নয়, কাজের মাধ্যমে নারীদের প্রকৃত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। সংসদ সদস্যের মতো দায়িত্বশীল পদে থেকে যদি এমন অভিযোগ ওঠে, তবে নারীদের সুরক্ষা চরম হুমকির মুখে পড়ে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান।

​বক্তাদের মূল বক্তব্য ছিল, ভিডিওটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে যা অনভিপ্রেত। গুরুতর এই নৈতিক ভঙ্গের অভিযোগের পর ওই পদে বহাল থাকার কোনো অধিকার জামায়াত এমপির নেই। তাই জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে উদ্যোগী হয়ে অবিলম্বে তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করারও আহ্বান জানানো হয়।

​উল্লেখ্য, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই বিতর্কিত ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পরপরই সাতক্ষীরা জুড়েই ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়। তবে জামায়াত নেতা গাজী নজরুল ইসলাম তাঁর ফেসবুক পেজে এ নিয়ে একটি ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তাতেও স্থানীয় অসন্তোষ কমেনি, যার পরিণতিতে আজকের এই রাজপথের কর্মসূচি।

Share this news as a Photo Card