শিরোনাম :
শিক্ষাগত যোগ্যতা লাগবে না স্থানীয় নির্বাচনে: প্রতিমন্ত্রী স্ত্রীসহ ফারইস্ট লাইফের সাবেক চেয়ারম্যানের ৫৭ কোটি টাকার সম্পদ ক্রোক দলীয় প্রতীকবিহীন স্বচ্ছ নির্বাচনের অঙ্গীকার সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রীর বার্সেলোনায় ২০৩০ সাল পর্যন্ত থাকছেন ‘মিশরের হালান্ড’ খ্যাত হামজা আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জ করা রিট খারিজ হাইকোর্টে আমিশা প্যাটেলের মুম্বাইয়ের বাড়িতে চুরি, গৃহকর্মী গ্রেফতার হরমুজ প্রণালি খুলতে ইরানের ৭ শর্ত, উত্তেজনা তুঙ্গে বিয়ে থেকে ফেরার পথে মাইক্রোবাস দুর্ঘটনায় ঝরল ৪ প্রাণ জোরপূর্বক পদত্যাগ অবৈধ : হাইকোর্ট মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির ডাক দিয়ে ঐতিহাসিক বিবৃতি ব্রিকসের

স্ত্রীসহ ফারইস্ট লাইফের সাবেক চেয়ারম্যানের ৫৭ কোটি টাকার সম্পদ ক্রোক

ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম ও তার স্ত্রী তাসলিমা ইসলামের নামে থাকা অর্ধশত কোটি টাকারও বেশি মূল্যের স্থাবর সম্পদ জব্দের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। প্রতিষ্ঠানের সাধারণ গ্রাহকদের হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে অভিযুক্ত নজরুল ইসলামকে এই কেলেঙ্কারির মূল হোতা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

ঢাকার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক মো. শাহজাহান কবির দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের ভিত্তিতে এই ক্রোক আদেশ জারি করেন। দুদকের অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা ও উপপরিচালক মো. মশিউর রহমান দুদক বিধিমালা, ২০০৭ (সংশোধিত ২০১৯)-এর বিধি ১৮ অনুযায়ী এই আবেদন করেছিলেন।

আদালতের পর্যালোচনায় উঠে আসে, স্থায়ীভাবে মুন্সীগঞ্জের পানাম গ্রামের বাসিন্দা নজরুল ইসলাম গ্রাহকদের সঞ্চিত অর্থে বিভিন্ন ব্যাংকে রাখা এফডিআর আত্মসাৎ এবং প্রতিষ্ঠানের নামে অতিরিক্ত দামে জমি কিনে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়াসহ নানা অনিয়মে জড়িত। সম্পত্তি ক্রোক না করা হলে তা হস্তান্তর বা পাচার হয়ে যাওয়ার শঙ্কা থেকে ঢাকা, ময়মনসিংহ, মুন্সীগঞ্জ, পটুয়াখালী, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরের জেলা রেজিস্টারদের সংশ্লিষ্ট সম্পদ কোনোভাবেই হস্তান্তর না করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে দুদকের ঢাকা-১ কার্যালয়ে একাধিক মামলা চলমান। সর্বশেষ মামলার সূত্র ধরে ২০২৫ সালের ২৩ অক্টোবর তাকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়, যেখানে তিনি নিজের বিভিন্ন সম্পদের তথ্য স্বীকার করেন বলে জানা গেছে।

আদালতের আদেশে দুটি পৃথক তালিকায় দম্পতির নামে অর্জিত সম্পদের বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে। নজরুল ইসলামের নামে উত্তরা, ভালুকা, কুয়াকাটা, যাত্রাবাড়ী, সূত্রাপুর, গুলশান, রূপগঞ্জ ও মুন্সীগঞ্জে ছড়িয়ে থাকা ২০টি দলিলের সম্পদের সরকারি মূল্য প্রায় ৩৮ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। এর মধ্যে গুলশানে ৮ কাঠা জমি ও বাড়ির দলিলমূল্য ১০ কোটি এবং কুয়াকাটায় ৬.১৮ একর জমির দলিলমূল্য সাড়ে দশ কোটি টাকারও বেশি।

অন্যদিকে তাসলিমা ইসলামের নামে গুলশান, খিলক্ষেত, ক্যান্টনমেন্ট, বাড্ডা, সূত্রাপুর, টঙ্গীবাড়ী ও গাজীপুরে থাকা ২২টি দলিলের সম্পদের মূল্য প্রায় ১৯ কোটি ২৩ লাখ টাকা। দুজনের নামে থাকা মোট সম্পত্তির সরকারি ক্রয়মূল্য ৫৭ কোটি ৬১ লাখ টাকা ছাড়িয়েছে, যদিও বর্তমান বাজারমূল্য এর চেয়ে বহুগুণ বেশি বলে জানা গেছে।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্তদের বিদেশে পাচার হওয়া সম্পদ ও যুক্তরাষ্ট্রে থাকা বাড়ির তথ্য সংগ্রহে শিগগিরই মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স রিকোয়েস্ট (এমএলএআর) পাঠানো হবে।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

জনপ্রিয় সংবাদ

শিক্ষাগত যোগ্যতা লাগবে না স্থানীয় নির্বাচনে: প্রতিমন্ত্রী

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির ডাক দিয়ে ঐতিহাসিক বিবৃতি ব্রিকসের

১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

স্ত্রীসহ ফারইস্ট লাইফের সাবেক চেয়ারম্যানের ৫৭ কোটি টাকার সম্পদ ক্রোক

আপডেট সময় ০২:০৬:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম ও তার স্ত্রী তাসলিমা ইসলামের নামে থাকা অর্ধশত কোটি টাকারও বেশি মূল্যের স্থাবর সম্পদ জব্দের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। প্রতিষ্ঠানের সাধারণ গ্রাহকদের হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে অভিযুক্ত নজরুল ইসলামকে এই কেলেঙ্কারির মূল হোতা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

ঢাকার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক মো. শাহজাহান কবির দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের ভিত্তিতে এই ক্রোক আদেশ জারি করেন। দুদকের অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা ও উপপরিচালক মো. মশিউর রহমান দুদক বিধিমালা, ২০০৭ (সংশোধিত ২০১৯)-এর বিধি ১৮ অনুযায়ী এই আবেদন করেছিলেন।

আদালতের পর্যালোচনায় উঠে আসে, স্থায়ীভাবে মুন্সীগঞ্জের পানাম গ্রামের বাসিন্দা নজরুল ইসলাম গ্রাহকদের সঞ্চিত অর্থে বিভিন্ন ব্যাংকে রাখা এফডিআর আত্মসাৎ এবং প্রতিষ্ঠানের নামে অতিরিক্ত দামে জমি কিনে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়াসহ নানা অনিয়মে জড়িত। সম্পত্তি ক্রোক না করা হলে তা হস্তান্তর বা পাচার হয়ে যাওয়ার শঙ্কা থেকে ঢাকা, ময়মনসিংহ, মুন্সীগঞ্জ, পটুয়াখালী, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরের জেলা রেজিস্টারদের সংশ্লিষ্ট সম্পদ কোনোভাবেই হস্তান্তর না করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে দুদকের ঢাকা-১ কার্যালয়ে একাধিক মামলা চলমান। সর্বশেষ মামলার সূত্র ধরে ২০২৫ সালের ২৩ অক্টোবর তাকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়, যেখানে তিনি নিজের বিভিন্ন সম্পদের তথ্য স্বীকার করেন বলে জানা গেছে।

আদালতের আদেশে দুটি পৃথক তালিকায় দম্পতির নামে অর্জিত সম্পদের বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে। নজরুল ইসলামের নামে উত্তরা, ভালুকা, কুয়াকাটা, যাত্রাবাড়ী, সূত্রাপুর, গুলশান, রূপগঞ্জ ও মুন্সীগঞ্জে ছড়িয়ে থাকা ২০টি দলিলের সম্পদের সরকারি মূল্য প্রায় ৩৮ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। এর মধ্যে গুলশানে ৮ কাঠা জমি ও বাড়ির দলিলমূল্য ১০ কোটি এবং কুয়াকাটায় ৬.১৮ একর জমির দলিলমূল্য সাড়ে দশ কোটি টাকারও বেশি।

অন্যদিকে তাসলিমা ইসলামের নামে গুলশান, খিলক্ষেত, ক্যান্টনমেন্ট, বাড্ডা, সূত্রাপুর, টঙ্গীবাড়ী ও গাজীপুরে থাকা ২২টি দলিলের সম্পদের মূল্য প্রায় ১৯ কোটি ২৩ লাখ টাকা। দুজনের নামে থাকা মোট সম্পত্তির সরকারি ক্রয়মূল্য ৫৭ কোটি ৬১ লাখ টাকা ছাড়িয়েছে, যদিও বর্তমান বাজারমূল্য এর চেয়ে বহুগুণ বেশি বলে জানা গেছে।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্তদের বিদেশে পাচার হওয়া সম্পদ ও যুক্তরাষ্ট্রে থাকা বাড়ির তথ্য সংগ্রহে শিগগিরই মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স রিকোয়েস্ট (এমএলএআর) পাঠানো হবে।

Share this news as a Photo Card