শিরোনাম :
জাতিসংঘে বাংলাদেশের ভিশন তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ছয়জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৫৬১ জন ব্রিকসে অর্থনৈতিক সহযোগিতার ডাক চীন, রাশিয়া ও ভারতের সান্তাহার বাফার গুদামে আবর্জনাসহ সার রিব্যাগিং, সরবরাহে ওজনে ও কম আসিফ মাহমুদের পর্তুগাল-সুইজারল্যান্ডসহ ৫ দেশে হাজার কোটি টাকা পাচার পাকিস্তান থেকে সরে ভারতের দিকে ঝুঁকছে চীন সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য ও বাস্তবতা ইরাকের ড্রোন হামলায় সৌদি পাইপলাইন বন্ধ, বাড়ছে তেলের দাম শিক্ষাগত যোগ্যতা লাগবে না স্থানীয় নির্বাচনে: প্রতিমন্ত্রী স্ত্রীসহ ফারইস্ট লাইফের সাবেক চেয়ারম্যানের ৫৭ কোটি টাকার সম্পদ ক্রোক

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রী হলে গোপন ভিডিওকাণ্ড, দম্পতি আটক

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ছাত্রী হলে ওয়াশরুমে লুকিয়ে ভিডিও ধারণের অভিযোগে হল ক্যানটিনের এক কর্মচারীকে হাতেনাতে ধরে ফেলেছেন শিক্ষার্থীরা। ঘটনাস্থলে উত্তেজিত পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার পর অভিযুক্তের স্ত্রীকেও আটক করা হয়েছে। গতকাল বুধবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিজয় ’২৪ হলে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি ইমাম হাসান ঘটনাস্থলে শিক্ষার্থীদের হাতে মারধরের শিকার হন, ফলে তাঁকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রিজন সেলে চিকিৎসাধীন রাখা হয়েছে। তাঁর স্ত্রীকে রাখা হয়েছে পুলিশি হেফাজতে।
পুলিশের ভাষ্যমতে, শিক্ষার্থীদের অভিযোগ ছিল, অভিযুক্ত ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে গোপনে ছাত্রীদের ছবি ও ভিডিও তুলে আসছিলেন। তাঁকে ধরে ফেলার পর তাঁর স্ত্রী ঘটনাস্থলে গিয়ে উত্তেজিত আচরণ করেন এবং সংগৃহীত ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন বলে অভিযোগ ওঠে। এই কারণেই তাঁকেও আটক করা হয়। ঘটনার আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ওই কর্মকর্তা।
শিক্ষার্থীদের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত ব্যক্তি বহুদিন ধরে হলের গণরুম–সংলগ্ন ওয়াশরুমের ভেন্টিলেটরের ফাঁকা জায়গা ব্যবহার করে গোপনে ভিডিও ধারণ করতেন, আর সেসব ভিডিও বিভিন্ন টেলিগ্রাম গ্রুপে পাঠিয়ে দিতেন। গতকাল রাতে একইভাবে এক ছাত্রীর ভিডিও তোলার চেষ্টার সময় বিষয়টি ধরা পড়ে যায়। ওই ছাত্রী তাৎক্ষণিকভাবে সহপাঠীদের জানালে মুহূর্তেই খবর ছড়িয়ে পড়ে এবং হলের বিভিন্ন ব্লক থেকে আবাসিক শিক্ষার্থীরা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন।
খবর পেয়ে নিরাপত্তাকর্মীরা প্রথমে হস্তক্ষেপ করেন এবং হলের ক্যানটিনে কর্মরত ইমাম হাসান ও তাঁর স্ত্রীকে আটক করেন। এরপর হল প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন এবং পুলিশে খবর দেওয়া হয়।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ক্ষোভ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। সম্প্রতি ক্যাম্পাসে ঘটে যাওয়া যৌন হয়রানির একাধিক ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এর ফলে আজ বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো ক্লাস অনুষ্ঠিত হচ্ছে না।
সংশ্লিষ্ট হলের প্রভোস্ট এই ঘটনাকে অত্যন্ত নিন্দনীয় বলে মন্তব্য করেছেন এবং জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনিক পর্যায়ে সভা চলছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি। এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক এ বিষয়ে পরবর্তীতে বিস্তারিত বক্তব্য দেবেন বলে জানিয়েছেন।
শিক্ষার্থীরা বলছেন, এ ধরনের ঘটনায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন হলে বসবাসরত ছাত্রীরা। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই গোপন কর্মকাণ্ড কীভাবে প্রশাসনের নজর এড়িয়ে গেল, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

জনপ্রিয় সংবাদ

জাতিসংঘে বাংলাদেশের ভিশন তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

স্ত্রীসহ ফারইস্ট লাইফের সাবেক চেয়ারম্যানের ৫৭ কোটি টাকার সম্পদ ক্রোক

১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রী হলে গোপন ভিডিওকাণ্ড, দম্পতি আটক

আপডেট সময় ০১:৪৫:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ছাত্রী হলে ওয়াশরুমে লুকিয়ে ভিডিও ধারণের অভিযোগে হল ক্যানটিনের এক কর্মচারীকে হাতেনাতে ধরে ফেলেছেন শিক্ষার্থীরা। ঘটনাস্থলে উত্তেজিত পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার পর অভিযুক্তের স্ত্রীকেও আটক করা হয়েছে। গতকাল বুধবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিজয় ’২৪ হলে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি ইমাম হাসান ঘটনাস্থলে শিক্ষার্থীদের হাতে মারধরের শিকার হন, ফলে তাঁকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রিজন সেলে চিকিৎসাধীন রাখা হয়েছে। তাঁর স্ত্রীকে রাখা হয়েছে পুলিশি হেফাজতে।
পুলিশের ভাষ্যমতে, শিক্ষার্থীদের অভিযোগ ছিল, অভিযুক্ত ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে গোপনে ছাত্রীদের ছবি ও ভিডিও তুলে আসছিলেন। তাঁকে ধরে ফেলার পর তাঁর স্ত্রী ঘটনাস্থলে গিয়ে উত্তেজিত আচরণ করেন এবং সংগৃহীত ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন বলে অভিযোগ ওঠে। এই কারণেই তাঁকেও আটক করা হয়। ঘটনার আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ওই কর্মকর্তা।
শিক্ষার্থীদের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত ব্যক্তি বহুদিন ধরে হলের গণরুম–সংলগ্ন ওয়াশরুমের ভেন্টিলেটরের ফাঁকা জায়গা ব্যবহার করে গোপনে ভিডিও ধারণ করতেন, আর সেসব ভিডিও বিভিন্ন টেলিগ্রাম গ্রুপে পাঠিয়ে দিতেন। গতকাল রাতে একইভাবে এক ছাত্রীর ভিডিও তোলার চেষ্টার সময় বিষয়টি ধরা পড়ে যায়। ওই ছাত্রী তাৎক্ষণিকভাবে সহপাঠীদের জানালে মুহূর্তেই খবর ছড়িয়ে পড়ে এবং হলের বিভিন্ন ব্লক থেকে আবাসিক শিক্ষার্থীরা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন।
খবর পেয়ে নিরাপত্তাকর্মীরা প্রথমে হস্তক্ষেপ করেন এবং হলের ক্যানটিনে কর্মরত ইমাম হাসান ও তাঁর স্ত্রীকে আটক করেন। এরপর হল প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন এবং পুলিশে খবর দেওয়া হয়।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ক্ষোভ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। সম্প্রতি ক্যাম্পাসে ঘটে যাওয়া যৌন হয়রানির একাধিক ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এর ফলে আজ বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো ক্লাস অনুষ্ঠিত হচ্ছে না।
সংশ্লিষ্ট হলের প্রভোস্ট এই ঘটনাকে অত্যন্ত নিন্দনীয় বলে মন্তব্য করেছেন এবং জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনিক পর্যায়ে সভা চলছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি। এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক এ বিষয়ে পরবর্তীতে বিস্তারিত বক্তব্য দেবেন বলে জানিয়েছেন।
শিক্ষার্থীরা বলছেন, এ ধরনের ঘটনায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন হলে বসবাসরত ছাত্রীরা। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই গোপন কর্মকাণ্ড কীভাবে প্রশাসনের নজর এড়িয়ে গেল, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

Share this news as a Photo Card