মিরপুর মেট্রো স্টেশনে বোমা সন্দেহে তল্লাশি, মিলল পান-সুপারির কৌটা

রাজধানীর ব্যস্ততম এলাকা মিরপুরে শনিবার দুপুরে হঠাৎই ছড়িয়ে পড়ে চাঞ্চল্য। মিরপুর-১০ নম্বর মেট্রো স্টেশনের বি গেট সংলগ্ন স্থানে একটি ব্যাগে মোড়ানো অবস্থায় সন্দেহজনক একটি বস্তু নজরে আসে, যা দেখতে অনেকটা ককটেল বা বোমার মতো। মুহূর্তেই খবরটি চাউর হয়ে পড়ে আশপাশে, আর তাতেই ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক।
জানা গেছে, দুপুর সোয়া ১২টার দিকে এমআরটি পুলিশের সদস্যরা প্রথম বস্তুটি দেখতে পান। বিষয়টি বিলম্ব না করে জানানো হয় মিরপুর মডেল থানা পুলিশকে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন থানা পুলিশের সদস্যরা এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে বিশেষায়িত দল ডাকার সিদ্ধান্ত নেন। এরপর খবর দেওয়া হয় ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের বোম ডিসপোজাল টিমকে।
মাত্র কুড়ি মিনিটের মধ্যেই, দুপুর ১টা ৫ মিনিট নাগাদ ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় বিশেষজ্ঞ দলটি। অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে শুরু হয় তল্লাশি কার্যক্রম। এতক্ষণে অবশ্য গোটা এলাকা ঘিরে জড়ো হয়েছেন উৎসুক পথচারী ও যাত্রীরা। কেউ কেউ নিরাপদ দূরত্বে সরে দাঁড়িয়ে পুরো ঘটনা প্রত্যক্ষ করেন, আবার কেউ কেউ মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করতে থাকেন।
তল্লাশি শেষে অবশেষে স্বস্তির খবর মেলে। ব্যাগের ভেতর থেকে বোমা বা কোনো ধরনের বিস্ফোরক পাওয়া যায়নি। বরং পাওয়া যায় নিতান্তই সাধারণ কিছু জিনিস— পান, সুপারি ও জর্দার কৌটা। বস্তুটির বাহ্যিক আকৃতি ককটেল বোমার মতো হওয়ায় প্রাথমিকভাবে বিভ্রান্তি তৈরি হলেও, ভেতরে ভয়ংকর কিছু না থাকায় স্বস্তি ফেরে সবার মধ্যে।
এ প্রসঙ্গে মিরপুর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মোস্তাক সরকার সাংবাদিকদের জানান, বোমার মতো দেখতে ব্যাগ থেকে মূলত পান, সুপারি ও জর্দার কৌটা উদ্ধার হয়েছে। তার ভাষায়, ওই স্থান থেকে বোমা কিংবা বিস্ফোরকজাতীয় কোনো বস্তু মেলেনি।
নিরাপত্তা বিষয়ক সূত্রগুলো জানিয়েছে, ঘটনার পুরো সময়জুড়ে মিরপুর মডেল থানা পুলিশের পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা এনএসআইসহ একাধিক সংস্থার সদস্যরা এলাকায় নিরাপত্তা বলয় জোরদার করেন। যাত্রী চলাচল ব্যাহত না হয় সেদিকেও নজর রাখেন দায়িত্বরতরা। বস্তুটির প্রকৃত পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পরই ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে আসে পরিস্থিতি এবং মেট্রো স্টেশন এলাকায় ফিরে আসে চিরচেনা কর্মব্যস্ততা।
তবে ঘটনাটি সাময়িকভাবে হলেও রাজধানীবাসীর মনে নতুন করে নিরাপত্তা প্রশ্ন উসকে দিয়েছে। ব্যস্ততম গণপরিবহন কেন্দ্রগুলোতে সন্দেহজনক বস্তু নিয়ে সতর্কতা কতটা জরুরি, তা আরও একবার সামনে এনেছে এই ঘটনা। বিশেষত মেট্রো স্টেশনের মতো জনবহুল স্থানে যেকোনো অস্বাভাবিক বস্তু দেখলে তাৎক্ষণিক প্রশাসনকে জানানোর গুরুত্ব নতুন করে অনুভূত হচ্ছে অনেকের কাছে।
পুলিশ বলছে, নাগরিকদের সতর্কতা ও সময়মতো তথ্য দেওয়ার কারণেই সম্ভাব্য বড় কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে। যদিও শেষ পর্যন্ত আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়ানো বস্তুটি নিছক পান-সুপারির কৌটা ছিল, তবু নিরাপত্তা বাহিনীর দ্রুত সাড়া দেওয়ার বিষয়টি স্বস্তিদায়ক বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। বর্তমানে মিরপুর-১০ এলাকায় স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরে এসেছে এবং মেট্রোরেল চলাচলও অব্যাহত রয়েছে কোনোরূপ বিঘ্ন ছাড়াই।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

শেখ হাসিনা দেশে ফিরলেই আইনি ব্যবস্থা: আইনমন্ত্রী

৩০ জুলাই ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

মিরপুর মেট্রো স্টেশনে বোমা সন্দেহে তল্লাশি, মিলল পান-সুপারির কৌটা

আপডেট সময় ০২:৪৩:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬

রাজধানীর ব্যস্ততম এলাকা মিরপুরে শনিবার দুপুরে হঠাৎই ছড়িয়ে পড়ে চাঞ্চল্য। মিরপুর-১০ নম্বর মেট্রো স্টেশনের বি গেট সংলগ্ন স্থানে একটি ব্যাগে মোড়ানো অবস্থায় সন্দেহজনক একটি বস্তু নজরে আসে, যা দেখতে অনেকটা ককটেল বা বোমার মতো। মুহূর্তেই খবরটি চাউর হয়ে পড়ে আশপাশে, আর তাতেই ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক।
জানা গেছে, দুপুর সোয়া ১২টার দিকে এমআরটি পুলিশের সদস্যরা প্রথম বস্তুটি দেখতে পান। বিষয়টি বিলম্ব না করে জানানো হয় মিরপুর মডেল থানা পুলিশকে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন থানা পুলিশের সদস্যরা এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে বিশেষায়িত দল ডাকার সিদ্ধান্ত নেন। এরপর খবর দেওয়া হয় ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের বোম ডিসপোজাল টিমকে।
মাত্র কুড়ি মিনিটের মধ্যেই, দুপুর ১টা ৫ মিনিট নাগাদ ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় বিশেষজ্ঞ দলটি। অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে শুরু হয় তল্লাশি কার্যক্রম। এতক্ষণে অবশ্য গোটা এলাকা ঘিরে জড়ো হয়েছেন উৎসুক পথচারী ও যাত্রীরা। কেউ কেউ নিরাপদ দূরত্বে সরে দাঁড়িয়ে পুরো ঘটনা প্রত্যক্ষ করেন, আবার কেউ কেউ মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করতে থাকেন।
তল্লাশি শেষে অবশেষে স্বস্তির খবর মেলে। ব্যাগের ভেতর থেকে বোমা বা কোনো ধরনের বিস্ফোরক পাওয়া যায়নি। বরং পাওয়া যায় নিতান্তই সাধারণ কিছু জিনিস— পান, সুপারি ও জর্দার কৌটা। বস্তুটির বাহ্যিক আকৃতি ককটেল বোমার মতো হওয়ায় প্রাথমিকভাবে বিভ্রান্তি তৈরি হলেও, ভেতরে ভয়ংকর কিছু না থাকায় স্বস্তি ফেরে সবার মধ্যে।
এ প্রসঙ্গে মিরপুর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মোস্তাক সরকার সাংবাদিকদের জানান, বোমার মতো দেখতে ব্যাগ থেকে মূলত পান, সুপারি ও জর্দার কৌটা উদ্ধার হয়েছে। তার ভাষায়, ওই স্থান থেকে বোমা কিংবা বিস্ফোরকজাতীয় কোনো বস্তু মেলেনি।
নিরাপত্তা বিষয়ক সূত্রগুলো জানিয়েছে, ঘটনার পুরো সময়জুড়ে মিরপুর মডেল থানা পুলিশের পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা এনএসআইসহ একাধিক সংস্থার সদস্যরা এলাকায় নিরাপত্তা বলয় জোরদার করেন। যাত্রী চলাচল ব্যাহত না হয় সেদিকেও নজর রাখেন দায়িত্বরতরা। বস্তুটির প্রকৃত পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পরই ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে আসে পরিস্থিতি এবং মেট্রো স্টেশন এলাকায় ফিরে আসে চিরচেনা কর্মব্যস্ততা।
তবে ঘটনাটি সাময়িকভাবে হলেও রাজধানীবাসীর মনে নতুন করে নিরাপত্তা প্রশ্ন উসকে দিয়েছে। ব্যস্ততম গণপরিবহন কেন্দ্রগুলোতে সন্দেহজনক বস্তু নিয়ে সতর্কতা কতটা জরুরি, তা আরও একবার সামনে এনেছে এই ঘটনা। বিশেষত মেট্রো স্টেশনের মতো জনবহুল স্থানে যেকোনো অস্বাভাবিক বস্তু দেখলে তাৎক্ষণিক প্রশাসনকে জানানোর গুরুত্ব নতুন করে অনুভূত হচ্ছে অনেকের কাছে।
পুলিশ বলছে, নাগরিকদের সতর্কতা ও সময়মতো তথ্য দেওয়ার কারণেই সম্ভাব্য বড় কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে। যদিও শেষ পর্যন্ত আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়ানো বস্তুটি নিছক পান-সুপারির কৌটা ছিল, তবু নিরাপত্তা বাহিনীর দ্রুত সাড়া দেওয়ার বিষয়টি স্বস্তিদায়ক বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। বর্তমানে মিরপুর-১০ এলাকায় স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরে এসেছে এবং মেট্রোরেল চলাচলও অব্যাহত রয়েছে কোনোরূপ বিঘ্ন ছাড়াই।

Share this news as a Photo Card