শিরোনাম :
স্থানীয় নির্বাচনে সরকারের সুস্পষ্ট নির্দেশনা পায়নি ইসি পঞ্চগড়ে মাইকে ঘোষণা দিয়ে চা বাগান দখলচেষ্টার অভিযোগ আওয়ামী লীগের নাশকতার সক্ষমতা নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আবর্জনা মুক্ত দেশ গড়তে সহযোগিতা প্রত্যাশা প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ বিতরণ বেসরকারি খাতে দিতে চায় সরকার, শঙ্কায় বিশেষজ্ঞরা বেনজীর আহমেদের জামিন বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু বেনজীরকে ফেরাতে সরকারের প্রক্রিয়া শুরু, জানালেন উপদেষ্টা ঢাকার চারপাশের নৌপথ সচলে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ ফের বাড়ল এলপিজি সিলিন্ডারের দাম, কার্যকর আজ সন্ধ্যা থে ওবায়দুল কাদেরসহ সাত নেতার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ, যুক্তিতর্ক ৪ আগস্ট

ফের বাড়ল এলপিজি সিলিন্ডারের দাম, কার্যকর আজ সন্ধ্যা থে

দেশের বাজারে ভোক্তা পর্যায়ে ব্যবহৃত তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস বা এলপিজি সিলিন্ডারের দাম আবারও বাড়ানো হয়েছে। সাধারণ মানুষের রান্নাঘরে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ১২ কেজি ওজনের সিলিন্ডারে এবার সংযোজিত হয়েছে অতিরিক্ত ৭০ টাকা। নতুন এই মূল্য আজ, অর্থাৎ ২ আগস্ট রোববার সন্ধ্যা ৬টা থেকেই কার্যকর হতে যাচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।
জ্বালানি খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই মূল্যবৃদ্ধির তথ্য নিশ্চিত করেছে। কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী, খুচরা বিক্রেতা পর্যায়ে মূল্য সংযোজন কর যুক্ত করে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৫৯৮ টাকায়, যেখানে আগের নির্ধারিত মূল্য ছিল ১ হাজার ৫২৮ টাকা। অর্থাৎ একলাফে দাম বেড়েছে ৭০ টাকা, যা শতাংশের হিসাবে সামান্য হলেও নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মাসিক বাজেটে এর প্রভাব অনুভূত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ভবিষ্যতে নতুন কোনো নির্দেশনা জারি না হওয়া পর্যন্ত এই মূল্যই বহাল থাকবে। অর্থাৎ পরবর্তী মাসগুলোতে দাম আবার সমন্বয় করা হতে পারে বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায়, তবে আপাতত এই নতুন হার অনুসারেই গ্যাস কিনতে হবে ভোক্তাদের।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, চলতি বছরের মধ্যেই এলপিজি সিলিন্ডারের দাম একাধিকবার সমন্বয় করা হয়েছে। মার্চ মাসের শেষদিকেও একবার সিলিন্ডারের মূল্য বাড়ানো হয়েছিল। এরপর এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি সময়ে সরকারের পক্ষ থেকে এলপিজি ব্যবহারকারীদের জন্য একটি বিশেষ কার্ড চালুর পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়, যার লক্ষ্য ছিল ভর্তুকি বা নিয়ন্ত্রিত মূল্যে গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা। একই মাসের শেষদিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে এলপিজি আমদানির ক্ষেত্রে ঋণসীমা তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছিল, যাতে আমদানিকারকরা প্রয়োজন অনুযায়ী গ্যাস আমদানি করতে পারেন।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল ও গ্যাসের মূল্যের ওঠানামা, ডলারের বিনিময় হার এবং আমদানি ব্যয়ের পরিবর্তনের কারণে দেশীয় বাজারেও এর প্রভাব পড়ে। যেহেতু দেশের বড় অংশের এলপিজি চাহিদা আমদানির মাধ্যমে পূরণ হয়ে থাকে, তাই বৈশ্বিক মূল্য পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে নিয়মিত বিরতিতে দাম সমন্বয় করতে হয়।
সাধারণ ভোক্তাদের মধ্যে এই মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। বিশেষত শহরাঞ্চলের নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো, যারা রান্নার প্রধান জ্বালানি হিসেবে সিলিন্ডার গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল, তাদের জন্য এই বাড়তি খরচ বাড়তি চাপ তৈরি করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। অন্যদিকে সরবরাহকারী ও বিতরণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, আন্তর্জাতিক বাজারদর ও আমদানি ব্যয় বিবেচনায় এই সমন্বয় অনিবার্য ছিল।
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন সাধারণত প্রতি মাসেই আন্তর্জাতিক বাজার পর্যালোচনা করে জ্বালানি তেল ও গ্যাসের মূল্য পুনর্নির্ধারণ করে থাকে। ফলে আগামী মাসগুলোতেও দাম আরও বাড়তে বা কমতে পারে, যা নির্ভর করবে বৈশ্বিক বাজার পরিস্থিতি ও স্থানীয় চাহিদা-সরবরাহের ভারসাম্যের ওপর।
সব মিলিয়ে, নতুন এই মূল্যবৃদ্ধির ফলে সাধারণ গ্রাহকদের এখন থেকে প্রতিটি ১২ কেজি সিলিন্ডার কিনতে অতিরিক্ত অর্থ গুনতে হবে। বাজার পর্যবেক্ষকদের আশঙ্কা, এর প্রভাব শুধু জ্বালানি ব্যয়েই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং খাদ্যপণ্যসহ অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয়েও এর ছাপ পড়তে পারে।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

স্থানীয় নির্বাচনে সরকারের সুস্পষ্ট নির্দেশনা পায়নি ইসি

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

ওবায়দুল কাদেরসহ সাত নেতার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ, যুক্তিতর্ক ৪ আগস্ট

০২ আগস্ট ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

ফের বাড়ল এলপিজি সিলিন্ডারের দাম, কার্যকর আজ সন্ধ্যা থে

আপডেট সময় ০৫:১৬:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬

দেশের বাজারে ভোক্তা পর্যায়ে ব্যবহৃত তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস বা এলপিজি সিলিন্ডারের দাম আবারও বাড়ানো হয়েছে। সাধারণ মানুষের রান্নাঘরে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ১২ কেজি ওজনের সিলিন্ডারে এবার সংযোজিত হয়েছে অতিরিক্ত ৭০ টাকা। নতুন এই মূল্য আজ, অর্থাৎ ২ আগস্ট রোববার সন্ধ্যা ৬টা থেকেই কার্যকর হতে যাচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।
জ্বালানি খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই মূল্যবৃদ্ধির তথ্য নিশ্চিত করেছে। কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী, খুচরা বিক্রেতা পর্যায়ে মূল্য সংযোজন কর যুক্ত করে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৫৯৮ টাকায়, যেখানে আগের নির্ধারিত মূল্য ছিল ১ হাজার ৫২৮ টাকা। অর্থাৎ একলাফে দাম বেড়েছে ৭০ টাকা, যা শতাংশের হিসাবে সামান্য হলেও নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মাসিক বাজেটে এর প্রভাব অনুভূত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ভবিষ্যতে নতুন কোনো নির্দেশনা জারি না হওয়া পর্যন্ত এই মূল্যই বহাল থাকবে। অর্থাৎ পরবর্তী মাসগুলোতে দাম আবার সমন্বয় করা হতে পারে বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায়, তবে আপাতত এই নতুন হার অনুসারেই গ্যাস কিনতে হবে ভোক্তাদের।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, চলতি বছরের মধ্যেই এলপিজি সিলিন্ডারের দাম একাধিকবার সমন্বয় করা হয়েছে। মার্চ মাসের শেষদিকেও একবার সিলিন্ডারের মূল্য বাড়ানো হয়েছিল। এরপর এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি সময়ে সরকারের পক্ষ থেকে এলপিজি ব্যবহারকারীদের জন্য একটি বিশেষ কার্ড চালুর পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়, যার লক্ষ্য ছিল ভর্তুকি বা নিয়ন্ত্রিত মূল্যে গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা। একই মাসের শেষদিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে এলপিজি আমদানির ক্ষেত্রে ঋণসীমা তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছিল, যাতে আমদানিকারকরা প্রয়োজন অনুযায়ী গ্যাস আমদানি করতে পারেন।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল ও গ্যাসের মূল্যের ওঠানামা, ডলারের বিনিময় হার এবং আমদানি ব্যয়ের পরিবর্তনের কারণে দেশীয় বাজারেও এর প্রভাব পড়ে। যেহেতু দেশের বড় অংশের এলপিজি চাহিদা আমদানির মাধ্যমে পূরণ হয়ে থাকে, তাই বৈশ্বিক মূল্য পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে নিয়মিত বিরতিতে দাম সমন্বয় করতে হয়।
সাধারণ ভোক্তাদের মধ্যে এই মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। বিশেষত শহরাঞ্চলের নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো, যারা রান্নার প্রধান জ্বালানি হিসেবে সিলিন্ডার গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল, তাদের জন্য এই বাড়তি খরচ বাড়তি চাপ তৈরি করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। অন্যদিকে সরবরাহকারী ও বিতরণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, আন্তর্জাতিক বাজারদর ও আমদানি ব্যয় বিবেচনায় এই সমন্বয় অনিবার্য ছিল।
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন সাধারণত প্রতি মাসেই আন্তর্জাতিক বাজার পর্যালোচনা করে জ্বালানি তেল ও গ্যাসের মূল্য পুনর্নির্ধারণ করে থাকে। ফলে আগামী মাসগুলোতেও দাম আরও বাড়তে বা কমতে পারে, যা নির্ভর করবে বৈশ্বিক বাজার পরিস্থিতি ও স্থানীয় চাহিদা-সরবরাহের ভারসাম্যের ওপর।
সব মিলিয়ে, নতুন এই মূল্যবৃদ্ধির ফলে সাধারণ গ্রাহকদের এখন থেকে প্রতিটি ১২ কেজি সিলিন্ডার কিনতে অতিরিক্ত অর্থ গুনতে হবে। বাজার পর্যবেক্ষকদের আশঙ্কা, এর প্রভাব শুধু জ্বালানি ব্যয়েই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং খাদ্যপণ্যসহ অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয়েও এর ছাপ পড়তে পারে।

Share this news as a Photo Card