শিরোনাম :
হামে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৮১৮ ৪ বছরে ফ্যামিলি কার্ড পাবে ১ কোটি ৬০ লাখ পরিবার, আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ১৬ আগস্ট টেকনাফে দিনে দুপুরে বাস থামিয়ে ৫৭ লাখ টাকা লুট গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে ১১ দলের লংমার্চ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ২০ আগস্ট, ভোটগ্রহণের তারিখ আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হলো রাজধানীর নদী দূষণ রোধে কর্মপরিকল্পনার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর বিতর্কিত আয়ের পরিকল্পনা প্রত্যাহার করে ক্ষমা চাইলেন ফিফা প্রধান ক্ষেপণাস্ত্র মজুত নিয়ে উদ্বেগ উড়িয়ে দিলেন ট্রাম্প, ফাঁসকারীদের হুঁশিয়ারি জুলাই স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাকিব আল হাসানের মাগুরার বাড়িতে আগুন, পেট্রলবোমার বিস্ফোরণ

৪ বছরে ফ্যামিলি কার্ড পাবে ১ কোটি ৬০ লাখ পরিবার, আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ১৬ আগস্ট

১৬ আগস্ট পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হচ্ছে সরকারের বহুল আলোচিত ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি। প্রায় দুই বছর ধরে বিভিন্ন এলাকায় পরীক্ষামূলকভাবে পরিচালিত এই উদ্যোগ এবার আনুষ্ঠানিক রূপ পেতে চলেছে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার লতিফাবাদ ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড থেকে। সেদিন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্বয়ং কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। এরপর ধাপে ধাপে অক্টোবরের শেষ নাগাদ দেশের প্রতিটি উপজেলা ও ইউনিয়নে ছড়িয়ে পড়বে এই কার্যক্রম।

আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে ফ্যামিলি কার্ডসংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সামনে এসব তথ্য তুলে ধরেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

মন্ত্রী জানান, আগামী চার বছরের মধ্যে দেশের প্রায় এক কোটি ষাট লাখ পরিবারকে এই কর্মসূচির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। তবে মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ ও মূল্যায়নের ভিত্তিতে এই সংখ্যা ভবিষ্যতে আরও বাড়তে পারে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

সমাজকল্যাণমন্ত্রীর ভাষায়, ফ্যামিলি কার্ড কোনো স্থির তালিকা নয়; বরং এটি পরিচালিত হবে একটি গতিশীল সামাজিক নিবন্ধন ব্যবস্থার মাধ্যমে। মানুষের আর্থসামাজিক অবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নিয়মিত হালনাগাদ হবে তথ্যভাণ্ডার। ফলে কোনো পরিবার দারিদ্র্য থেকে নিম্নবিত্ত কিংবা মধ্যবিত্তে উত্তরণ ঘটালে, অথবা বিপরীতক্রমে দারিদ্র্যে ফিরে গেলে, তার প্রতিফলন ঘটবে নিবন্ধনেও।

প্রকৃত সুবিধাভোগীরা যেন কোনোভাবেই বাদ না পড়েন এবং অযোগ্য কেউ যেন তালিকায় স্থান না পান, সে লক্ষ্যে ইউনিয়ন পর্যায়ে চলবে কঠোর তথ্য যাচাই-বাছাই। মন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, ভাতা ও ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে বিদ্যমান দুর্বলতাগুলো দূর করে পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠাই সরকারের মূল লক্ষ্য।

তিনি আরও জানান, ধর্ম, গোত্র কিংবা রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে সুবিধা দেওয়া কিংবা বঞ্চিত করার কোনো সুযোগ থাকবে না এই কর্মসূচিতে। অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনের দর্শন থেকেই এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে গোটা উদ্যোগ।

বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে নারীর ক্ষমতায়নের দিকটিতেও। মন্ত্রী বলেন, পরিবারের নারী সদস্যদের হাতে সহায়তার অর্থ পৌঁছালে তা শিশুদের শিক্ষা, পুষ্টি ও স্বাস্থ্যসেবার পাশাপাশি হাঁস-মুরগি পালন, বৃক্ষরোপণ, কুটির শিল্প, সেলাই কিংবা ক্ষুদ্র উদ্যোগে অধিক কার্যকরভাবে ব্যবহৃত হবে। এতে একদিকে যেমন নারীর ক্ষমতায়ন সুদৃঢ় হবে, তেমনি গ্রামীণ দারিদ্র্য হ্রাসেও পড়বে ইতিবাচক প্রভাব।

দেশের ৫৬টি এলাকায় পরিচালিত পাইলট কার্যক্রমের ফলাফল নিয়েও কথা বলেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী। তিনি জানান, যশোর ও নেত্রকোনার দুটি এলাকায় তথ্য সংগ্রহে সামান্য জটিলতা দেখা দিলেও তা ইতিমধ্যে সংশোধন করা হয়েছে। বাকি ৫৪টি এলাকায় উল্লেখযোগ্য কোনো সমস্যা ধরা পড়েনি, আর ত্রুটির হারও ছিল তিন শতাংশের নিচে।

আগামী ১৬ আগস্ট থেকে নতুন প্রশ্নমালা ও নতুন পদ্ধতিতে সম্পূর্ণ অনলাইনভিত্তিক তথ্য সংগ্রহ শুরু হবে বলে জানানো হয়েছে। এরপর প্রতি মাসে হালনাগাদ হবে তথ্যভাণ্ডার, যাতে মৃত্যু, আর্থসামাজিক পরিবর্তন কিংবা অন্য যেকোনো পরিবর্তন দ্রুত নিবন্ধনে যুক্ত করা যায়।

কর্মসূচির স্বচ্ছতা নিশ্চিতে গড়ে তোলা হয়েছে তিন স্তরের তদারকি কাঠামো। ইউনিয়ন পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহের তদারকি করবেন প্রথম শ্রেণির সরকারি কর্মকর্তা। উপজেলায় নেতৃত্ব দেবেন ইউএনও, জেলায় জেলা প্রশাসক এবং বিভাগীয় পর্যায়ে থাকবেন বিভাগীয় কমিশনার। জাতীয় পর্যায়ের কমিটির নেতৃত্বে থাকবেন খোদ অর্থমন্ত্রী, আর প্রধানমন্ত্রী নিজেও নিয়মিত নজর রাখবেন কর্মসূচির অগ্রগতির ওপর।

মন্ত্রী শেষে জানান, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও অর্থ মন্ত্রণালয় তথ্য যাচাই করে নিশ্চিত করবে, যাতে একই ব্যক্তি একাধিক ভাতা বা সুবিধা না নিতে পারেন। পাশাপাশি অর্থ বিভাগ, আইএমইডি এবং দেশি-বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে চলবে স্বাধীন মূল্যায়নও, যাতে দারিদ্র্য হ্রাসে কর্মসূচির প্রকৃত প্রভাব যথাযথভাবে পরিমাপ করা সম্ভব হয়।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

সাকিব আল হাসানের মাগুরার বাড়িতে আগুন, পেট্রলবোমার বিস্ফোরণ

০৫ আগস্ট ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

৪ বছরে ফ্যামিলি কার্ড পাবে ১ কোটি ৬০ লাখ পরিবার, আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ১৬ আগস্ট

আপডেট সময় ০৫:১৩:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬

১৬ আগস্ট পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হচ্ছে সরকারের বহুল আলোচিত ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি। প্রায় দুই বছর ধরে বিভিন্ন এলাকায় পরীক্ষামূলকভাবে পরিচালিত এই উদ্যোগ এবার আনুষ্ঠানিক রূপ পেতে চলেছে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার লতিফাবাদ ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড থেকে। সেদিন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্বয়ং কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। এরপর ধাপে ধাপে অক্টোবরের শেষ নাগাদ দেশের প্রতিটি উপজেলা ও ইউনিয়নে ছড়িয়ে পড়বে এই কার্যক্রম।

আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে ফ্যামিলি কার্ডসংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সামনে এসব তথ্য তুলে ধরেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

মন্ত্রী জানান, আগামী চার বছরের মধ্যে দেশের প্রায় এক কোটি ষাট লাখ পরিবারকে এই কর্মসূচির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। তবে মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ ও মূল্যায়নের ভিত্তিতে এই সংখ্যা ভবিষ্যতে আরও বাড়তে পারে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

সমাজকল্যাণমন্ত্রীর ভাষায়, ফ্যামিলি কার্ড কোনো স্থির তালিকা নয়; বরং এটি পরিচালিত হবে একটি গতিশীল সামাজিক নিবন্ধন ব্যবস্থার মাধ্যমে। মানুষের আর্থসামাজিক অবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নিয়মিত হালনাগাদ হবে তথ্যভাণ্ডার। ফলে কোনো পরিবার দারিদ্র্য থেকে নিম্নবিত্ত কিংবা মধ্যবিত্তে উত্তরণ ঘটালে, অথবা বিপরীতক্রমে দারিদ্র্যে ফিরে গেলে, তার প্রতিফলন ঘটবে নিবন্ধনেও।

প্রকৃত সুবিধাভোগীরা যেন কোনোভাবেই বাদ না পড়েন এবং অযোগ্য কেউ যেন তালিকায় স্থান না পান, সে লক্ষ্যে ইউনিয়ন পর্যায়ে চলবে কঠোর তথ্য যাচাই-বাছাই। মন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, ভাতা ও ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে বিদ্যমান দুর্বলতাগুলো দূর করে পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠাই সরকারের মূল লক্ষ্য।

তিনি আরও জানান, ধর্ম, গোত্র কিংবা রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে সুবিধা দেওয়া কিংবা বঞ্চিত করার কোনো সুযোগ থাকবে না এই কর্মসূচিতে। অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনের দর্শন থেকেই এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে গোটা উদ্যোগ।

বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে নারীর ক্ষমতায়নের দিকটিতেও। মন্ত্রী বলেন, পরিবারের নারী সদস্যদের হাতে সহায়তার অর্থ পৌঁছালে তা শিশুদের শিক্ষা, পুষ্টি ও স্বাস্থ্যসেবার পাশাপাশি হাঁস-মুরগি পালন, বৃক্ষরোপণ, কুটির শিল্প, সেলাই কিংবা ক্ষুদ্র উদ্যোগে অধিক কার্যকরভাবে ব্যবহৃত হবে। এতে একদিকে যেমন নারীর ক্ষমতায়ন সুদৃঢ় হবে, তেমনি গ্রামীণ দারিদ্র্য হ্রাসেও পড়বে ইতিবাচক প্রভাব।

দেশের ৫৬টি এলাকায় পরিচালিত পাইলট কার্যক্রমের ফলাফল নিয়েও কথা বলেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী। তিনি জানান, যশোর ও নেত্রকোনার দুটি এলাকায় তথ্য সংগ্রহে সামান্য জটিলতা দেখা দিলেও তা ইতিমধ্যে সংশোধন করা হয়েছে। বাকি ৫৪টি এলাকায় উল্লেখযোগ্য কোনো সমস্যা ধরা পড়েনি, আর ত্রুটির হারও ছিল তিন শতাংশের নিচে।

আগামী ১৬ আগস্ট থেকে নতুন প্রশ্নমালা ও নতুন পদ্ধতিতে সম্পূর্ণ অনলাইনভিত্তিক তথ্য সংগ্রহ শুরু হবে বলে জানানো হয়েছে। এরপর প্রতি মাসে হালনাগাদ হবে তথ্যভাণ্ডার, যাতে মৃত্যু, আর্থসামাজিক পরিবর্তন কিংবা অন্য যেকোনো পরিবর্তন দ্রুত নিবন্ধনে যুক্ত করা যায়।

কর্মসূচির স্বচ্ছতা নিশ্চিতে গড়ে তোলা হয়েছে তিন স্তরের তদারকি কাঠামো। ইউনিয়ন পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহের তদারকি করবেন প্রথম শ্রেণির সরকারি কর্মকর্তা। উপজেলায় নেতৃত্ব দেবেন ইউএনও, জেলায় জেলা প্রশাসক এবং বিভাগীয় পর্যায়ে থাকবেন বিভাগীয় কমিশনার। জাতীয় পর্যায়ের কমিটির নেতৃত্বে থাকবেন খোদ অর্থমন্ত্রী, আর প্রধানমন্ত্রী নিজেও নিয়মিত নজর রাখবেন কর্মসূচির অগ্রগতির ওপর।

মন্ত্রী শেষে জানান, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও অর্থ মন্ত্রণালয় তথ্য যাচাই করে নিশ্চিত করবে, যাতে একই ব্যক্তি একাধিক ভাতা বা সুবিধা না নিতে পারেন। পাশাপাশি অর্থ বিভাগ, আইএমইডি এবং দেশি-বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে চলবে স্বাধীন মূল্যায়নও, যাতে দারিদ্র্য হ্রাসে কর্মসূচির প্রকৃত প্রভাব যথাযথভাবে পরিমাপ করা সম্ভব হয়।

Share this news as a Photo Card