কক্সবাজারের মহেশখালীতে অবস্থিত মাতারবাড়ি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শনে গেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার সকালে রাজধানী থেকে হেলিকপ্টারযোগে তিনি রওনা হন এবং বেলা সাড়ে দশটার দিকে বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রাঙ্গণে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
তাঁর আগমন উপলক্ষে সকাল থেকেই ব্যস্ততা দেখা গেছে গোটা এলাকা জুড়ে। জ্বালানি ও বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা ইতোমধ্যে কেন্দ্রে উপস্থিত হয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছেন এলাকার সংসদ সদস্য আলমগীর মোহাম্মদ মাহাফুজ উল্লাহ ফরিদ, সংসদ সদস্য শাহাজাহান চৌধুরী এবং সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য শামীম আরা স্বপ্না। উপস্থিত হয়েছেন প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারাও— জেলা প্রশাসক মো. আবদুল মান্নান, উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী জসিম উদ্দিন এবং জেলা পরিষদ প্রশাসক এটিএম নুরুল বশর চৌধুরী তাঁদের মধ্যে অন্যতম।
সরকারপ্রধানের সফরকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে ব্যাপকভাবে। মাতারবাড়ি ও এর আশপাশের এলাকা ঘিরে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন, যাতে অনুষ্ঠান নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়।
এই সফরকে ঘিরে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও দেখা গেছে ব্যাপক কৌতূহল ও আগ্রহ। বিদ্যুৎকেন্দ্র সংলগ্ন এলাকার মানুষ সরকারপ্রধানকে একনজর দেখার অপেক্ষায় সকাল থেকেই ভিড় জমিয়েছেন বিভিন্ন স্থানে। দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় থাকা এই মেগা প্রকল্পটি ঘিরে স্থানীয় অধিবাসীদের প্রত্যাশাও কম নয়।
উল্লেখ্য, মাতারবাড়ি কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র দেশের জ্বালানি খাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রকল্প হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে দীর্ঘদিন ধরে। এই কেন্দ্র থেকে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়া বিদ্যুৎ দেশের সামগ্রিক জ্বালানি চাহিদা মেটাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন। এমন একটি কৌশলগত স্থাপনায় সরকারপ্রধানের সরাসরি উপস্থিতি প্রকল্পের গুরুত্ব আরও স্পষ্ট করে তুলছে বলে মত দিয়েছেন স্থানীয় বিশ্লেষকরা।
সকালে ঢাকা ত্যাগের পর হেলিকপ্টারযোগে কক্সবাজারের উদ্দেশে যাত্রা করেন প্রধানমন্ত্রী। এর আগের দিনও তাঁর চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সফরের কর্মসূচি নিয়ে গণমাধ্যমে আলোচনা হয়েছিল। টানা কয়েক দিনের এই সফরসূচিতে জ্বালানি অবকাঠামো পরিদর্শনের পাশাপাশি স্থানীয় উন্নয়ন কার্যক্রম পর্যালোচনারও কথা রয়েছে বলে জানা গেছে।
মাতারবাড়ি পরিদর্শনের সময় প্রধানমন্ত্রী স্থানীয় কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়েও তিনি খোঁজখবর নিতে পারেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
সব মিলিয়ে, প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে ঘিরে মাতারবাড়ি এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে এক উৎসবমুখর পরিবেশ। প্রশাসনিক প্রস্তুতি, নিরাপত্তা তৎপরতা এবং স্থানীয় জনগণের উচ্ছ্বাস মিলিয়ে গোটা এলাকা যেন এখন অপেক্ষার প্রহর গুনছে সরকারপ্রধানের আগমনের।
শিরোনাম :
মাতারবাড়িতে প্রধানমন্ত্রীর অপেক্ষায় প্রশাসন ও জনতা
-
চলমান বার্তা ডেস্ক : - আপডেট সময় ১০:৫৯:৪৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬
- 15
জনপ্রিয় সংবাদ





















