দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতির অবনতি অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায়, অর্থাৎ সোমবার সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ে এই মশাবাহিত রোগে আরও নয়জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে দেশজুড়ে বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ভর্তি হয়েছেন এক হাজার পাঁচশ একাত্তর জন রোগী। আজ মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত ডেঙ্গুবিষয়ক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মোট ১৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। মাসভিত্তিক হিসাবে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে আগস্ট মাসে, ৪৩ জন। এ ছাড়া জানুয়ারিতে দুইজন, ফেব্রুয়ারিতে দুইজন, মে মাসে একজন, জুনে ১৩ জন এবং জুলাইয়ে ৩৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। চলতি সেপ্টেম্বর মাসে এখন পর্যন্ত মারা গেছেন ৩৩ জন, যা প্রতিদিনের গড় হিসাবে উদ্বেগজনক প্রবণতার ইঙ্গিত দেয়।
রাজধানী ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এলাকাতেও রোগী ভর্তির সংখ্যা কম নয়। গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হয়েছেন ১৯৬ জন এবং দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ১৩৪ জন। তবে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের বাইরের এলাকায় এই সংখ্যা তুলনামূলক বেশি, সেখানে ভর্তি হয়েছেন ৪০৮ জন। এতে স্পষ্ট, ডেঙ্গুর বিস্তার এখন শুধু রাজধানীকেন্দ্রিক নেই, বরং তা দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়েছে।
বিভাগীয় পর্যায়ের তথ্যেও এই চিত্র স্পষ্ট হয়ে ওঠে। গত এক দিনে বরিশাল বিভাগে ১৪২ জন, চট্টগ্রামে ১৭৭ জন, খুলনায় ২৪২ জন, ময়মনসিংহে ৭৭ জন, রাজশাহীতে ১১৬ জন, রংপুরে ৭১ জন এবং সিলেটে আটজন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে খুলনা বিভাগে ভর্তির সংখ্যা সবচেয়ে বেশি, যা এই অঞ্চলে সংক্রমণের তীব্রতা নির্দেশ করে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সামগ্রিক পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মোট ৪৫ হাজার ৪৭৫ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ৪২ হাজার ১২৭ জন। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিন হাজার দুইশত আঠারো জন রোগী।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এই ধারাবাহিক পরিসংখ্যান থেকে বোঝা যায়, বর্ষার শেষ ভাগেও ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসেনি, বরং সেপ্টেম্বরে মৃত্যুর হার আগের কয়েক মাসের তুলনায় উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরেই বলে আসছেন, মশা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ ও জনসচেতনতা ছাড়া এই প্রবণতা ঠেকানো কঠিন। তবে এই প্রতিবেদনে বিশেষজ্ঞদের সাম্প্রতিক কোনো মন্তব্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি, কারণ প্রাপ্ত তথ্যে তা উল্লেখ নেই।
মিন্টু সরকার, ঢাকা : 



















