ইউরোপীয় ইউনিয়ন শিশু-কিশোরদের সুরক্ষায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে কড়া বিধিনিষেধ আরোপের উদ্যোগ নিয়েছে। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেয়েন বুধবার এই ঘোষণা দেন।
ফ্রান্সের স্ট্রাসবুর্গে ইউরোপীয় পার্লামেন্টে ‘স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন’ ভাষণে তিনি জানান, ১৩ বছরের কম বয়সী কোনো শিশুর জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের সুযোগ থাকবে না। পাশাপাশি ১৫ বছরের কম বয়সীরা ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট খুলতে পারবে না।
তবে ১৩ ও ১৪ বছর বয়সীদের জন্য থাকছে ব্যতিক্রম। এই বয়সসীমার কিশোর-কিশোরীরা ইউরোপীয় ইউনিয়নে ‘মিনি অ্যাকাউন্ট’ ব্যবহার করতে পারবে, যা অভিভাবকের তত্ত্বাবধানে চলবে এবং যার সুযোগ-সুবিধা থাকবে সীমিত। এসব অ্যাকাউন্ট দৈনিক সর্বোচ্চ এক ঘণ্টা ব্যবহারের সীমা বেঁধে দেওয়া হবে।
ফন ডার লেয়েন জানান, শিশুদের সুরক্ষার লক্ষ্যে ইউরোপীয় কমিশন বৃহস্পতিবার নতুন একটি ‘কিডস অ্যাক্ট’ প্রস্তাব করবে। এই প্রস্তাবিত আইনে দায় প্রমাণের দায়িত্ব কার ওপর বর্তাবে, তাতে পরিবর্তন আনা হবে।
ভাষণে তিনি বলেন, অনেকে মনে করেন বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর ক্ষমতা এতটাই বিস্তৃত হয়ে গেছে যে তা নিয়ন্ত্রণে আনা আর সম্ভব নয়। কিন্তু নিজে তিনি এই ধারণার সঙ্গে একমত নন বলে জানান।
শিশু-কিশোরদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার সীমিত করার এই বৈশ্বিক প্রবণতার সঙ্গেই তাল মিলিয়ে এগোচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। ইতিমধ্যে জোটের কয়েকটি সদস্যদেশ নিজ নিজ পর্যায়ে কিশোরদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা কার্যকর করেছে। উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে অস্ট্রেলিয়া বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ করে।
এখন পর্যন্ত প্রস্তাবিত ‘কিডস অ্যাক্ট’-এর বিস্তারিত ধারা প্রকাশ পায়নি; বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিক উপস্থাপনার পরই এর পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা জানা যাবে।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : 



















