চাঁদাবাজির অভিযোগে দায়ের হওয়া একটি মামলায় দুই সাংবাদিকের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। পটুয়াখালীর বাউফলে সংখ্যালঘু একটি পরিবারকে জিম্মি করে চাঁদা আদায়ের অভিযোগে এই মামলা দায়ের করা হয়েছিল।
আজ রোববার পটুয়াখালী জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. শহীদুল্লাহ জামিন শুনানি শেষে এই আদেশ দেন। কারাগারে পাঠানো দুই সাংবাদিক হলেন—বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধি এনামুল হক ওরফে এনা (৩৫) এবং দৈনিক জাগো জনতার বাউফল উপজেলা প্রতিনিধি মো. রিয়াজ (৩৭)।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ২৬ জুলাই সাংবাদিক ও গোয়েন্দা পুলিশ পরিচয়ে বাউফল উপজেলার খেজুরবাড়িয়া গ্রামের একটি হিন্দু পরিবারের বাড়িতে যান এনামুল, রিয়াজসহ চারজন। অভিযোগ অনুযায়ী, তাঁরা পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি দেখিয়ে জিম্মি করে তিন লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন, পরে যা ২০ হাজার টাকায় নিষ্পত্তি হয়। সেদিনই নগদ ১০ হাজার টাকা দেওয়া হয় এবং বাকি ১০ হাজার টাকা পরদিন সকালে দেওয়ার কথা ছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য রতন মণ্ডল গত ২৮ জুলাই বাউফল থানায় চাঁদাবাজির অভিযোগে মামলা করেন, যেখানে এনামুল হক এনা ও মো. রিয়াজের পাশাপাশি আরও পাঁচ-ছয়জনকে অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করা হয়।
গত ১ সেপ্টেম্বর আদালতে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয় পুলিশ। তদন্তে দুই সাংবাদিকের সরাসরি সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়ার কথা জানিয়েছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ইব্রাহিম।
বাদীপক্ষের আইনজীবী এপিপি মো. জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, মামলা দায়েরের পর দুই সাংবাদিক আত্মগোপনে চলে যান। পরবর্তী সময়ে উচ্চ আদালত থেকে ছয় সপ্তাহের আগাম জামিন নেন তাঁরা। জামিনের মেয়াদ শেষে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করে স্থায়ী জামিনের আবেদন করলে উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে আদালত আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলার বাদী রতন মণ্ডল বলেন, তিন বছর আগে এক মুসলিম নারী প্রেমের সম্পর্কের সূত্রে এক হিন্দু যুবককে বিয়ে করেন এবং তাঁদের সংসারে আট মাস বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। পুরোনো এই ঘটনাকে সামনে এনে সাংবাদিক ও গোয়েন্দা পুলিশ পরিচয়ে তিন লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় এবং টাকা না দিলে ঘরে আগুন দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন। পরে স্থানীয়দের পরামর্শে মামলা করার কথা জানিয়ে রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন তিনি।
চলমান বার্তা ডেস্ক : 























