২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে ২ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি শিশু আটক হয়েছে। তাদের মধ্যে অন্তত ৩৫০ জন এখনো ইসরায়েলের বিভিন্ন কারাগারে কঠোর ও অমানবিক পরিস্থিতিতে আছে বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনি প্রিজনার্স সোসাইটি। সংগঠনটির প্রতিবেদনের বরাতে খবরটি প্রকাশ করেছে আল জাজিরা।
ফিলিস্তিনি বন্দিদের বিষয়ে কাজ করা এই সংস্থার প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, ফিলিস্তিনি শিশুদের লক্ষ্য করে নানা ধরনের দমনমূলক পদক্ষেপ নিচ্ছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। সংস্থাটির ভাষ্য অনুযায়ী, এসব পদক্ষেপ শুরু হয় ভয়ভীতি দেখানো ও গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে। পরে তা গড়ায় নির্যাতন, অনাহারে রাখা এবং চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত করার মতো পরিস্থিতিতে।
কারাগারের ভেতরের অভিজ্ঞতা
প্রতিবেদনে কয়েকজন শিশুর ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে। সংস্থাটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওফার কারাগারে আটক ১৫ বছর বয়সী মোহাম্মদ হামিদ স্ক্যাবিসে আক্রান্ত হন। পরে তাঁর হৃদরোগের অস্ত্রোপচার হয় এবং একটি পা কেটে ফেলতে হয়। আর মেগিদো কারাগারে ছয় মাস বন্দি থাকার পর ২০২৫ সালের মার্চে মারা যান ১৭ বছর বয়সী ওয়ালিদ আহমেদ।
সংস্থাটি আরও জানায়, আমেরিকান বংশোদ্ভূত বেশ কয়েকজন কিশোরকেও কোনো অভিযোগ ছাড়া আটকে রাখা হয়েছে। তাদের কাউকে রাতে বাড়ি থেকে তুলে নেওয়া হয়েছে, কারও জামিন বাতিল করা হয়েছে। নাম উল্লেখ করা হয়েছে ফ্লোরিডার বাসিন্দা মোহাম্মদ ইব্রাহিম, ১৮ বছর বয়সী আবদালকরিম ইসা আহমেদ সাফির এবং ১৬ বছর বয়সী আদম ওয়াজিজ ক্যারেকরার।
আটকের ধরন নিয়ে প্রশ্ন
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিযোগ গঠন কিংবা মুক্তির নির্দিষ্ট তারিখ ছাড়াই শিশুদের আটক রাখা ইসরায়েলি নীতির অংশ। সংগঠনটির মতে, এটি শিশুদের অধিকার লঙ্ঘনের পাশাপাশি আরও গুরুতর অপরাধের শামিল। এ ধরনের আটক শিশুদের ঠেলে দিচ্ছে অনিশ্চয়তার মধ্যে। তারা পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হচ্ছে এবং স্বাভাবিক শিক্ষা ও পারিবারিক জীবন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
সর্বশেষ গ্রেপ্তারের কথাও উল্লেখ করেছে সংস্থাটি। গত মঙ্গলবার অধিকৃত পশ্চিম তীরের হেব্রন থেকে অন্তত ছয় শিশুকে গ্রেপ্তার করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। তবে গাজার চিত্র এখনো পরিষ্কার নয়। সেখানে চলমান জোরপূর্বক অন্তর্ধান ও নিখোঁজের ঘটনার কারণে আটক শিশুদের সঠিক সংখ্যা জানা যাচ্ছে না।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান
আটক শিশুদের মুক্তি নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ফিলিস্তিনি প্রিজনার্স সোসাইটি। সংগঠনটির দাবি, নির্বিচারে আটক শিশুদের মুক্তি দিতে হবে এবং এসব ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে। একই সঙ্গে নির্যাতন, অনাহারে রাখা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত করার মতো কর্মকাণ্ড বন্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। আটক শিশুদের সুরক্ষা, অধিকার এবং স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করতেও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও জোরালো ভূমিকা প্রয়োজন বলে মনে করে সংস্থাটি।
প্রেক্ষাপট
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে পশ্চিম তীর থেকে ২৫ হাজারের বেশি এবং গাজা থেকে হাজার হাজার ফিলিস্তিনিকে আটক করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে।
সূত্র: আল জাজিরা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : 




















