শিরোনাম :
কিয়েভের উপকণ্ঠে রাশিয়ার ড্রোন হামলায় নিহত ৩৭ গুম-খুন ও জুলাই শহীদ পরিবারের পাশে থাকার অঙ্গীকার প্রধানমন্ত্রীর তানজিন তিশার বিরুদ্ধে প্রতারণা ও হুমকির অভিযোগ, তদন্তে মেলেনি সত্যতা গুম-খুন ও জুলাই অভ্যুত্থানে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে থাকার অঙ্গীকার প্রধানমন্ত্রীর রংপুরে চার খুনকে সংখ্যালঘু নির্যাতন বলে ‘পানি ঘোলা’ করছে আ.লীগ: দুলু মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগে ৩৩৮টি রিক্রুটিং এজেন্সিকে অনুমোদন অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে মাঠে বিশেষ ইউনিট, তথ্য দিলে মিলবে পুরস্কার ফিফাকে ঘুষ দেওয়ার কথা স্বীকার দুই আর্জেন্টাইন নির্বাহীর সেলেনা গোমেজের বিরুদ্ধে ১২ লাখ ডলার জালিয়াতির অভিযোগ নেপালের বন্যা ও ভূমিধসে ৬১৬ জনের প্রাণহানি, নিখোঁজ দুই হাজারের বেশি

ট্যাবলেট খেয়ে ঠেকানো যাবে অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসার, নতুন গবেষণায় আশার আলো

অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসারকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হিসেবে ধরা হয়। এই রোগ শনাক্ত হতে হতেই তা প্রায়ই শরীরের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়ে, ফলে জটিল অস্ত্রোপচার বা দীর্ঘমেয়াদি কেমোথেরাপি ছাড়া উপায় থাকে না রোগীর সামনে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতি সত্ত্বেও এই ক্যানসারে বেঁচে থাকার হার এখনো তুলনামূলকভাবে সবচেয়ে কম, আর সে কারণেই একে সবচেয়ে প্রাণঘাতী ক্যানসারগুলোর একটি হিসেবে গণ্য করা হয়। তবে এবার এই কঠিন লড়াইয়ে নতুন আশার কথা শোনাচ্ছেন গবেষকরা। যন্ত্রণাদায়ক কেমোথেরাপির বিকল্প হিসেবে মুখে খাওয়ার একটি ওষুধ তৈরি হয়েছে, যা রোগীর বেঁচে থাকার সময়কাল উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিতে পারে বলে দাবি করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান রেভল্যুশন মেডিসিনস তৈরি করেছে ডারাক্সোনরাসিব নামের এই ওষুধ। এটি মূলত একটি লক্ষ্যভিত্তিক বা টার্গেটেড থেরাপি, যা ক্যানসার সৃষ্টিকারী আরএএস নামের একটি প্রোটিনের কার্যকারিতা নষ্ট করে দেয়। এই প্রোটিনই অগ্ন্যাশয় ক্যানসারের কোষ তৈরি ও বৃদ্ধিতে মূল ভূমিকা রাখে বলে বিজ্ঞানীরা মনে করেন। প্রচলিত কেমোথেরাপি শরীরের সুস্থ কোষকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে, কিন্তু এই ওষুধ নির্দিষ্টভাবে ক্যানসার-সংশ্লিষ্ট প্রোটিনকে লক্ষ্য করে কাজ করায় পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তুলনামূলক কম হতে পারে বলে গবেষকদের ধারণা।
সম্প্রতি প্রকাশিত তৃতীয় পর্যায়ের একটি বৃহৎ ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের ফল বলছে, যেসব রোগীর ক্যানসার আগের চিকিৎসায়ও বেড়ে গিয়েছিল, তাদের মধ্যে যারা এই ওষুধ গ্রহণ করেছেন, তারা গড়ে প্রায় সাড়ে তেরো মাস বেঁচে থেকেছেন। অন্যদিকে প্রচলিত কেমোথেরাপি নেওয়া রোগীদের বেঁচে থাকার গড় সময় ছিল প্রায় সাড়ে ছয় মাস। অর্থাৎ নতুন ওষুধটি ব্যবহারে মৃত্যুঝুঁকি প্রায় ষাট শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব হয়েছে বলে দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। গবেষণার এই ফলাফলের ভিত্তিতেই যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন এফডিএ দ্রুত পর্যালোচনার আওতায় ওষুধটির অনুমোদন প্রক্রিয়া এগিয়ে নিচ্ছে।
গবেষকরা বলছেন, নতুন রোগ নির্ণয় হওয়া রোগীদের জন্যও আলাদাভাবে এই ওষুধের কার্যকারিতা যাচাই করা হচ্ছে, আবার অস্ত্রোপচারের পর রোগ ফিরে আসা ঠেকাতেও এর সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ভবিষ্যতে অন্য ওষুধের সঙ্গে মিলিয়েও এটি ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের একটি স্বনামধন্য ক্যানসার গবেষণা কেন্দ্রের একজন বিশেষজ্ঞ এই ফলাফলকে পুরো ক্ষেত্রের জন্য বড় ধরনের আশাব্যঞ্জক অগ্রগতি বলে অভিহিত করেছেন, যা ভবিষ্যতে অন্যান্য দুরারোগ্য ক্যানসারের চিকিৎসাতেও পথ দেখাতে পারে বলে তার ধারণা।
দক্ষিণ এশিয়াতেও অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসার ক্রমেই উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠছে। বাংলাদেশের চিকিৎসকরাও দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছেন, এই ক্যানসারের প্রাথমিক পর্যায়ে তেমন কোনো লক্ষণ প্রকাশ পায় না বলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই রোগ ধরা পড়ে অনেক দেরিতে, যখন তা শরীরের অন্য অঙ্গে ছড়িয়ে পড়েছে। ধূমপান, দীর্ঘমেয়াদি ডায়াবেটিস, পরিবারে এই রোগের ইতিহাস, অগ্ন্যাশয়ের প্রদাহ ও অতিরিক্ত ওজনকে এর প্রধান ঝুঁকির কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেন তারা। দেশের হাসপাতালগুলোতেও এখন পর্যন্ত মূলত অস্ত্রোপচার আর প্রচলিত কেমোথেরাপির ওপরই ভরসা করতে হয় রোগীদের, ফলে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে এই রোগ নিয়ে নতুন কোনো চিকিৎসা পদ্ধতির খোঁজ মিললে তা বাংলাদেশের রোগী ও চিকিৎসক উভয়ের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, ওষুধটি এখনো পূর্ণাঙ্গ অনুমোদন পায়নি এবং বাজারে সহজলভ্য হয়ে বাংলাদেশের মতো দেশের রোগীদের কাছে পৌঁছাতে আরও বেশ কিছুটা সময় লাগতে পারে। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ঠিক কতটা এবং দাম কেমন হতে পারে, তা নিয়েও এখনো স্পষ্ট কিছু জানা যায়নি। তবু প্রাথমিক এই ফলাফল অগ্ন্যাশয় ক্যানসারের চিকিৎসায় একটি সম্ভাবনাময় নতুন দিক খুলে দিয়েছে বলেই মনে করছেন গবেষকরা।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

ট্যাবলেট খেয়ে ঠেকানো যাবে অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসার, নতুন গবেষণায় আশার আলো

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

নেপালের বন্যা ও ভূমিধসে ৬১৬ জনের প্রাণহানি, নিখোঁজ দুই হাজারের বেশি

২৯ আগস্ট ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

ট্যাবলেট খেয়ে ঠেকানো যাবে অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসার, নতুন গবেষণায় আশার আলো

আপডেট সময় ০৭:৩৫:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬

অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসারকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হিসেবে ধরা হয়। এই রোগ শনাক্ত হতে হতেই তা প্রায়ই শরীরের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়ে, ফলে জটিল অস্ত্রোপচার বা দীর্ঘমেয়াদি কেমোথেরাপি ছাড়া উপায় থাকে না রোগীর সামনে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতি সত্ত্বেও এই ক্যানসারে বেঁচে থাকার হার এখনো তুলনামূলকভাবে সবচেয়ে কম, আর সে কারণেই একে সবচেয়ে প্রাণঘাতী ক্যানসারগুলোর একটি হিসেবে গণ্য করা হয়। তবে এবার এই কঠিন লড়াইয়ে নতুন আশার কথা শোনাচ্ছেন গবেষকরা। যন্ত্রণাদায়ক কেমোথেরাপির বিকল্প হিসেবে মুখে খাওয়ার একটি ওষুধ তৈরি হয়েছে, যা রোগীর বেঁচে থাকার সময়কাল উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিতে পারে বলে দাবি করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান রেভল্যুশন মেডিসিনস তৈরি করেছে ডারাক্সোনরাসিব নামের এই ওষুধ। এটি মূলত একটি লক্ষ্যভিত্তিক বা টার্গেটেড থেরাপি, যা ক্যানসার সৃষ্টিকারী আরএএস নামের একটি প্রোটিনের কার্যকারিতা নষ্ট করে দেয়। এই প্রোটিনই অগ্ন্যাশয় ক্যানসারের কোষ তৈরি ও বৃদ্ধিতে মূল ভূমিকা রাখে বলে বিজ্ঞানীরা মনে করেন। প্রচলিত কেমোথেরাপি শরীরের সুস্থ কোষকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে, কিন্তু এই ওষুধ নির্দিষ্টভাবে ক্যানসার-সংশ্লিষ্ট প্রোটিনকে লক্ষ্য করে কাজ করায় পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তুলনামূলক কম হতে পারে বলে গবেষকদের ধারণা।
সম্প্রতি প্রকাশিত তৃতীয় পর্যায়ের একটি বৃহৎ ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের ফল বলছে, যেসব রোগীর ক্যানসার আগের চিকিৎসায়ও বেড়ে গিয়েছিল, তাদের মধ্যে যারা এই ওষুধ গ্রহণ করেছেন, তারা গড়ে প্রায় সাড়ে তেরো মাস বেঁচে থেকেছেন। অন্যদিকে প্রচলিত কেমোথেরাপি নেওয়া রোগীদের বেঁচে থাকার গড় সময় ছিল প্রায় সাড়ে ছয় মাস। অর্থাৎ নতুন ওষুধটি ব্যবহারে মৃত্যুঝুঁকি প্রায় ষাট শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব হয়েছে বলে দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। গবেষণার এই ফলাফলের ভিত্তিতেই যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন এফডিএ দ্রুত পর্যালোচনার আওতায় ওষুধটির অনুমোদন প্রক্রিয়া এগিয়ে নিচ্ছে।
গবেষকরা বলছেন, নতুন রোগ নির্ণয় হওয়া রোগীদের জন্যও আলাদাভাবে এই ওষুধের কার্যকারিতা যাচাই করা হচ্ছে, আবার অস্ত্রোপচারের পর রোগ ফিরে আসা ঠেকাতেও এর সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ভবিষ্যতে অন্য ওষুধের সঙ্গে মিলিয়েও এটি ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের একটি স্বনামধন্য ক্যানসার গবেষণা কেন্দ্রের একজন বিশেষজ্ঞ এই ফলাফলকে পুরো ক্ষেত্রের জন্য বড় ধরনের আশাব্যঞ্জক অগ্রগতি বলে অভিহিত করেছেন, যা ভবিষ্যতে অন্যান্য দুরারোগ্য ক্যানসারের চিকিৎসাতেও পথ দেখাতে পারে বলে তার ধারণা।
দক্ষিণ এশিয়াতেও অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসার ক্রমেই উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠছে। বাংলাদেশের চিকিৎসকরাও দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছেন, এই ক্যানসারের প্রাথমিক পর্যায়ে তেমন কোনো লক্ষণ প্রকাশ পায় না বলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই রোগ ধরা পড়ে অনেক দেরিতে, যখন তা শরীরের অন্য অঙ্গে ছড়িয়ে পড়েছে। ধূমপান, দীর্ঘমেয়াদি ডায়াবেটিস, পরিবারে এই রোগের ইতিহাস, অগ্ন্যাশয়ের প্রদাহ ও অতিরিক্ত ওজনকে এর প্রধান ঝুঁকির কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেন তারা। দেশের হাসপাতালগুলোতেও এখন পর্যন্ত মূলত অস্ত্রোপচার আর প্রচলিত কেমোথেরাপির ওপরই ভরসা করতে হয় রোগীদের, ফলে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে এই রোগ নিয়ে নতুন কোনো চিকিৎসা পদ্ধতির খোঁজ মিললে তা বাংলাদেশের রোগী ও চিকিৎসক উভয়ের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, ওষুধটি এখনো পূর্ণাঙ্গ অনুমোদন পায়নি এবং বাজারে সহজলভ্য হয়ে বাংলাদেশের মতো দেশের রোগীদের কাছে পৌঁছাতে আরও বেশ কিছুটা সময় লাগতে পারে। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ঠিক কতটা এবং দাম কেমন হতে পারে, তা নিয়েও এখনো স্পষ্ট কিছু জানা যায়নি। তবু প্রাথমিক এই ফলাফল অগ্ন্যাশয় ক্যানসারের চিকিৎসায় একটি সম্ভাবনাময় নতুন দিক খুলে দিয়েছে বলেই মনে করছেন গবেষকরা।

Share this news as a Photo Card