শিরোনাম :
নেতানিয়াহুর বিকল্প গাদি আইজেনকোট: সেনাপ্রধান থেকে সরকার গঠনের দৌড়ে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি পুনর্গঠন মাদক সেবনে বাধা, ছুরিকাঘাতে নিহত বিকাশ-রকেট এজেন্টকে কুপিয়ে টাকা ও মোবাইল ছিনতাই মার্কিন শুল্ক চুক্তি নিয়ে স্বচ্ছতা ও খোলামেলা আলোচনা চান ব্যবসায়ীরা মদিনা থেকে জেদ্দা যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় ৭ বাংলাদেশির মৃত্যু খুলনায় ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চাইনিজ কুড়াল হাতে পাঁচ যুবকের হামলা ২৪২ রানে অপরাজিত সেঞ্চুরিতে ইতিহাস গড়লেন হৃদয় শিশুদের শিক্ষার মান বাড়াতে ৩০ কোটি ডলার দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক অভিষেকের বাড়িতে রাত ২টায় সশস্ত্র হামলার অভিযোগ, উড়িয়ে দিল বিজেপি

নেতানিয়াহুর বিকল্প গাদি আইজেনকোট: সেনাপ্রধান থেকে সরকার গঠনের দৌড়ে

ইসরায়েলের রাজনীতিতে এখন সবচেয়ে বেশি আলোচিত নাম গাদি আইজেনকোট। দেশটির সাবেক এই সেনাপ্রধানকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দিতে যাচ্ছেন প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ। ২৭ অক্টোবরের সাধারণ নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় এই সিদ্ধান্ত। ৭ নভেম্বর হারজগ তাঁর সিদ্ধান্ত জানান। এতে নেতানিয়াহুর ক্ষমতায় থাকা নিয়ে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

তবে কে এই আইজেনকোট? সৈনিকের পোশাক ছেড়ে কীভাবে রাজনীতির মাঠে এলেন তিনি? আর নেতানিয়াহুকে সরিয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার পথ কতটা কঠিন?

সেনাবাহিনীতে বেড়ে ওঠা

আইজেনকোটের জন্ম ১৯৬০ সালে তিবেরিয়াস শহরে। পরে তিনি বেড়ে ওঠেন দক্ষিণের শহর ইলাতে। ১৯৭৮ সালে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর গোলানি পদাতিক ব্রিগেডে যোগ দিয়ে শুরু করেন সামরিক জীবন।

৪১ বছরের এই পথচলায় তিনি উত্তরাঞ্চলীয় কমান্ডের প্রধান, সামরিক অভিযানের পরিচালক ও সেনাবাহিনীর উপপ্রধানের দায়িত্ব সামলেছেন। ২০১৫ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি তিনি ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) ২১তম চিফ অব জেনারেল স্টাফ হন। মেয়াদ শেষ হয় ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে। এ সময় লেবাননের হিজবুল্লাহ, সিরিয়ায় ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী এবং গাজা সীমান্তের নিরাপত্তা পরিস্থিতি মোকাবিলায় তাঁর ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ।

সেনাপ্রধান থেকে রাজনীতিক

অবসরের পর সরাসরি রাজনীতিতে যুক্ত হন আইজেনকোট। ২০২২ সালে বেনি গান্তজের ন্যাশনাল ইউনিটি পার্টিতে যোগ দিয়ে তিনি ২৫তম নেসেটের (পার্লামেন্ট) সদস্য নির্বাচিত হন।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর নেতানিয়াহু সরকার জরুরি ভিত্তিতে জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠন করে। সেই সরকারে যোগ দিয়ে যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভার পর্যবেক্ষক হন আইজেনকোট। কিন্তু যুদ্ধ পরিচালনা, জিম্মিদের মুক্তি ও সরকারের নীতিগত অবস্থান নিয়ে মতভেদ দেখা দেয়। ২০২৪ সালের জুনে গান্তজের সঙ্গে তিনিও সরকার ছাড়েন। পরে গান্তজের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব তৈরি হয় এবং ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে তিনি নিজস্ব দল ইয়াশার প্রতিষ্ঠা করেন।

নির্বাচনের হিসাব

১২০ সদস্যের পার্লামেন্টে সরকার গঠনে দরকার ৬১ আসন। এবারের নির্বাচনে কোনো পক্ষই তা পায়নি। নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ডানপন্থি ও ধর্মীয় দলগুলোর জোট পেয়েছে ৫৩ আসন। আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন চার দলের জোট পেয়েছে ৪৮ আসন।

ফলে নির্ণায়ক হয়ে ওঠে আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলো। তাদের ১৯ জন আইনপ্রণেতা আইজেনকোটকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেওয়ার পক্ষে মত দেন। নেতানিয়াহুর পক্ষে ছিলেন ৪৬ জন।

সামনে তিন চ্যালেঞ্জ

আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব পাওয়ার পর সরকার গঠনের জন্য আইজেনকোট পাবেন ২৮ দিন। প্রয়োজনে আরও ১৪ দিন বাড়ানো যাবে। তবে পথটি মসৃণ নয়।

প্রথম চ্যালেঞ্জ আরব দলগুলোর সমর্থন। তাদের ছাড়া সংখ্যাগরিষ্ঠতা কঠিন, আবার তাদের সমর্থন নিলে নিজ জোটের কয়েকটি দল আপত্তি তুলতে পারে।

দ্বিতীয়ত, ধর্মীয় দলগুলোর সঙ্গে সমঝোতা। অতি-রক্ষণশীল ইহুদি দলগুলোর সমর্থন পেলে সংখ্যাগরিষ্ঠতার সুযোগ আছে। কিন্তু সেনাবাহিনীতে ধর্মীয় শিক্ষার্থীদের বাধ্যতামূলক নিয়োগ থেকে অব্যাহতির প্রশ্নে মতপার্থক্য রয়েছে।

তৃতীয়ত, নেতানিয়াহুর প্রভাব। তাঁর লিকুদ পার্টি এখনো পার্লামেন্টের বৃহত্তম একক দল। তাই সরকার গঠনের আলোচনা সহজ হওয়ার সম্ভাবনা কম।

রয়টার্সের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, আইজেনকোট ব্যর্থ হলে প্রেসিডেন্ট নেতানিয়াহুকেও সরকার গঠনের সুযোগ দিতে পারেন। দুই পক্ষই ব্যর্থ হলে নতুন নির্বাচনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

ক্ষমতায় এলে কী বদলাতে পারে

অতীতে আইজেনকোট ইরান ও তার আঞ্চলিক মিত্রদের ইসরায়েলের নিরাপত্তার বড় হুমকি বলে চিহ্নিত করেছেন। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার পর নিরাপত্তাব্যবস্থার ব্যর্থতা ও সরকারের জবাবদিহি নিয়েও তিনি কথা বলেছেন। সরকার গঠন করতে পারলে নিরাপত্তানীতি, বাধ্যতামূলক সেনা নিয়োগ, জিম্মি ইস্যু ও যুদ্ধ পরিচালনা নিয়ে তাঁর অবস্থান হবে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। নেতানিয়াহুর নীতির সঙ্গে তাঁর সম্ভাব্য সরকারের পার্থক্য কতটা হবে, তা নির্ভর করবে জোটের সমঝোতা ও রাজনৈতিক বাস্তবতার ওপর।

সূত্র: রয়টার্স

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

জনপ্রিয় সংবাদ

নেতানিয়াহুর বিকল্প গাদি আইজেনকোট: সেনাপ্রধান থেকে সরকার গঠনের দৌড়ে

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

অভিষেকের বাড়িতে রাত ২টায় সশস্ত্র হামলার অভিযোগ, উড়িয়ে দিল বিজেপি

০৭ নভেম্বর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

নেতানিয়াহুর বিকল্প গাদি আইজেনকোট: সেনাপ্রধান থেকে সরকার গঠনের দৌড়ে

আপডেট সময় ১২:৪৩:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬

ইসরায়েলের রাজনীতিতে এখন সবচেয়ে বেশি আলোচিত নাম গাদি আইজেনকোট। দেশটির সাবেক এই সেনাপ্রধানকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দিতে যাচ্ছেন প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ। ২৭ অক্টোবরের সাধারণ নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় এই সিদ্ধান্ত। ৭ নভেম্বর হারজগ তাঁর সিদ্ধান্ত জানান। এতে নেতানিয়াহুর ক্ষমতায় থাকা নিয়ে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

তবে কে এই আইজেনকোট? সৈনিকের পোশাক ছেড়ে কীভাবে রাজনীতির মাঠে এলেন তিনি? আর নেতানিয়াহুকে সরিয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার পথ কতটা কঠিন?

সেনাবাহিনীতে বেড়ে ওঠা

আইজেনকোটের জন্ম ১৯৬০ সালে তিবেরিয়াস শহরে। পরে তিনি বেড়ে ওঠেন দক্ষিণের শহর ইলাতে। ১৯৭৮ সালে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর গোলানি পদাতিক ব্রিগেডে যোগ দিয়ে শুরু করেন সামরিক জীবন।

৪১ বছরের এই পথচলায় তিনি উত্তরাঞ্চলীয় কমান্ডের প্রধান, সামরিক অভিযানের পরিচালক ও সেনাবাহিনীর উপপ্রধানের দায়িত্ব সামলেছেন। ২০১৫ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি তিনি ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) ২১তম চিফ অব জেনারেল স্টাফ হন। মেয়াদ শেষ হয় ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে। এ সময় লেবাননের হিজবুল্লাহ, সিরিয়ায় ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী এবং গাজা সীমান্তের নিরাপত্তা পরিস্থিতি মোকাবিলায় তাঁর ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ।

সেনাপ্রধান থেকে রাজনীতিক

অবসরের পর সরাসরি রাজনীতিতে যুক্ত হন আইজেনকোট। ২০২২ সালে বেনি গান্তজের ন্যাশনাল ইউনিটি পার্টিতে যোগ দিয়ে তিনি ২৫তম নেসেটের (পার্লামেন্ট) সদস্য নির্বাচিত হন।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর নেতানিয়াহু সরকার জরুরি ভিত্তিতে জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠন করে। সেই সরকারে যোগ দিয়ে যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভার পর্যবেক্ষক হন আইজেনকোট। কিন্তু যুদ্ধ পরিচালনা, জিম্মিদের মুক্তি ও সরকারের নীতিগত অবস্থান নিয়ে মতভেদ দেখা দেয়। ২০২৪ সালের জুনে গান্তজের সঙ্গে তিনিও সরকার ছাড়েন। পরে গান্তজের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব তৈরি হয় এবং ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে তিনি নিজস্ব দল ইয়াশার প্রতিষ্ঠা করেন।

নির্বাচনের হিসাব

১২০ সদস্যের পার্লামেন্টে সরকার গঠনে দরকার ৬১ আসন। এবারের নির্বাচনে কোনো পক্ষই তা পায়নি। নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ডানপন্থি ও ধর্মীয় দলগুলোর জোট পেয়েছে ৫৩ আসন। আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন চার দলের জোট পেয়েছে ৪৮ আসন।

ফলে নির্ণায়ক হয়ে ওঠে আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলো। তাদের ১৯ জন আইনপ্রণেতা আইজেনকোটকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেওয়ার পক্ষে মত দেন। নেতানিয়াহুর পক্ষে ছিলেন ৪৬ জন।

সামনে তিন চ্যালেঞ্জ

আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব পাওয়ার পর সরকার গঠনের জন্য আইজেনকোট পাবেন ২৮ দিন। প্রয়োজনে আরও ১৪ দিন বাড়ানো যাবে। তবে পথটি মসৃণ নয়।

প্রথম চ্যালেঞ্জ আরব দলগুলোর সমর্থন। তাদের ছাড়া সংখ্যাগরিষ্ঠতা কঠিন, আবার তাদের সমর্থন নিলে নিজ জোটের কয়েকটি দল আপত্তি তুলতে পারে।

দ্বিতীয়ত, ধর্মীয় দলগুলোর সঙ্গে সমঝোতা। অতি-রক্ষণশীল ইহুদি দলগুলোর সমর্থন পেলে সংখ্যাগরিষ্ঠতার সুযোগ আছে। কিন্তু সেনাবাহিনীতে ধর্মীয় শিক্ষার্থীদের বাধ্যতামূলক নিয়োগ থেকে অব্যাহতির প্রশ্নে মতপার্থক্য রয়েছে।

তৃতীয়ত, নেতানিয়াহুর প্রভাব। তাঁর লিকুদ পার্টি এখনো পার্লামেন্টের বৃহত্তম একক দল। তাই সরকার গঠনের আলোচনা সহজ হওয়ার সম্ভাবনা কম।

রয়টার্সের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, আইজেনকোট ব্যর্থ হলে প্রেসিডেন্ট নেতানিয়াহুকেও সরকার গঠনের সুযোগ দিতে পারেন। দুই পক্ষই ব্যর্থ হলে নতুন নির্বাচনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

ক্ষমতায় এলে কী বদলাতে পারে

অতীতে আইজেনকোট ইরান ও তার আঞ্চলিক মিত্রদের ইসরায়েলের নিরাপত্তার বড় হুমকি বলে চিহ্নিত করেছেন। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার পর নিরাপত্তাব্যবস্থার ব্যর্থতা ও সরকারের জবাবদিহি নিয়েও তিনি কথা বলেছেন। সরকার গঠন করতে পারলে নিরাপত্তানীতি, বাধ্যতামূলক সেনা নিয়োগ, জিম্মি ইস্যু ও যুদ্ধ পরিচালনা নিয়ে তাঁর অবস্থান হবে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। নেতানিয়াহুর নীতির সঙ্গে তাঁর সম্ভাব্য সরকারের পার্থক্য কতটা হবে, তা নির্ভর করবে জোটের সমঝোতা ও রাজনৈতিক বাস্তবতার ওপর।

সূত্র: রয়টার্স

Share this news as a Photo Card