শিরোনাম :
আকস্মিক পরিদর্শনে পাঁচ চিকিৎসককে দীর্ঘদিন ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত পেয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী বিদ্যুৎ, জ্বালানি, গভীর সমুদ্রবন্দর, শিল্প ও প্রযুক্তিতে জাপান-বাংলাদেশ সমন্বিতভাবে কাজ করবে ‘মহব্বত’-এ শাকিব খানের নায়িকা কি পাকিস্তানের কিনজা হাশমি ইসরায়েলে ভোট: প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ডানপন্থী জোট পাচ্ছে না সংখ্যাগরিষ্ঠতা বড় ধরনের যুদ্ধে বিদ্যুৎ ছাড়াই ৯০ দিন টিকবে মার্কিন ঘাঁটি মহাসংকটে দেশীয় চলচ্চিত্র, উত্তরণের পথ খুঁজলেন নির্মাতারা ‘ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে যাব’, তারেক রহমানকে নিয়ে এক্স পোস্টে তাকাইচি মেট্রোরেল লাইন-১ প্রকল্পের সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকার কাজ পেল ভারতের এলঅ্যান্ডটি দেশে স্মার্টফোন উৎপাদনের উদ্যোগ সরকারের, মিলবে পাঁচ হাজার টাকায় ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ মৃত্যু, হামে ঝরল ৭ শিশুর প্রাণ

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের ইতিহাস গড়া টেস্ট জয়

শক্তি, অভিজ্ঞতা, র‍্যাঙ্কিং কিংবা টেস্ট ক্রিকেটের দীর্ঘ ঐতিহ্য—কোনো বিচারেই অস্ট্রেলিয়ার ধারেকাছে ছিল না বাংলাদেশ। বিশ্বের নামীদামি দলগুলোও ক্যাঙ্গারুদের মাটিতে গিয়ে যেখানে হিমশিম খায়, সেখানে দাঁড়িয়ে অসম্ভবকে সম্ভব করে দেখাল বাংলাদেশ। টানা চার দিন প্রতিপক্ষকে চাপে রেখে তারা লিখল নতুন ইতিহাস।
তৃতীয় দিন শেষেই ম্যাচের ফল অনেকটা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল। বাকি ছিল কেবল সময়ের অপেক্ষা। শনিবার সকালে খেলা শুরু হতেই স্বাগতিকদের ইনিংস গুটিয়ে দিতে বেশি সময় নেয়নি সফরকারীরা। এরপর মাত্র ৫৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ১৪.২ ওভারে ১ উইকেট হারিয়েই কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পেয়ে যায় নাজমুল হোসেন শান্তর দল। ফলাফল—৯ উইকেটের বিশাল জয়, যা অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে দলটির প্রথম টেস্ট জয়ের গৌরব এনে দিল।
প্রথম ইনিংসে ব্যাট হাতে দাপট দেখিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে মাত্র ১৯৮ রানে গুটিয়ে দেওয়ার পর জবাবে ৪২৬ রানের বিশাল সংগ্রহ গড়ে বাংলাদেশ। এই ইনিংসে সেঞ্চুরি করেন ওপেনার তানজিদ হাসান। জবাবে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে অস্ট্রেলিয়া তোলে ২৮৪ রান।
জয়ের লক্ষ্যে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। কোনো রান না করেই জস হ্যাজলউডের বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন আগের ইনিংসে সেঞ্চুরি করা তানজিদ। তবে সেই ধাক্কা সামলে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন সাদমান ইসলাম ও মুমিনুল হক। দ্বিতীয় উইকেটে অবিচ্ছিন্ন ৫৩ রানের জুটি গড়েন তারা। সাদমান অপরাজিত থাকেন ২৫ রানে, মুমিনুলের ব্যাট থেকে আসে অপরাজিত ৩০ রান।
চতুর্থ দিনের খেলা শুরুর আগে ৬ উইকেট হাতে রেখে ১৬১ রান নিয়ে ব্যাট করছিল অস্ট্রেলিয়া। ক্যামেরন গ্রিন ও অ্যালেক্স ক্যারির গড়া জুটিই ছিল তাদের শেষ ভরসা। তবে দিনের শুরুতেই সেই জুটি ভাঙেন মেহেদী হাসান মিরাজ। উইকেটের পেছনে ক্যাচ বানিয়ে ক্যারিকে ফেরান তিনি, যিনি ৭২ বলে করেন ৩০ রান।
এরপর একে একে বিউ ওয়েবস্টার ও অধিনায়ক প্যাট কামিন্সকেও প্যাভিলিয়নের পথ দেখান মিরাজ। মাঝে মিচেল স্টার্ককে ফেরান তাসকিন আহমেদ। তবে পুরো ইনিংসে একাই লড়াই চালিয়ে যান ক্যামেরন গ্রিন। প্রতিপক্ষের একমাত্র সেঞ্চুরিয়ান হিসেবে ২০১ বলে ১০৪ রান করা এই অলরাউন্ডারকে শেষ পর্যন্ত বোল্ড করে ফেরান হাসান মাহমুদ। এরপর নাথান লায়নকে এলবিডব্লিউ করে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসের সমাপ্তি টানেন মিরাজ, সেই সঙ্গে পূর্ণ করেন নিজের পাঁচ উইকেট শিকার।
উল্লেখ্য, এই টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের হয়ে পাঁচ উইকেট নেওয়া দ্বিতীয় বোলার মিরাজ। প্রথম ইনিংসে এই কীর্তি গড়েছিলেন হাসান মাহমুদ, যিনি ম্যাচসেরার পুরস্কারও ঘরে তোলেন।
দুই ম্যাচের সিরিজে এই জয়ে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ। ইতিহাসের পাতায় নতুন এক অধ্যায় যুক্ত হলো টাইগারদের ক্রিকেট যাত্রায়।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

জনপ্রিয় সংবাদ

ভূরুঙ্গামারীতে আন্তঃজেলা মোবাইল চোরাকারবারি চক্রের হোতা গ্রেপ্তার, উদ্ধার ৪ লাখ টাকার ভারতীয় মোবাইল

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ মৃত্যু, হামে ঝরল ৭ শিশুর প্রাণ

২৭ অক্টোবর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের ইতিহাস গড়া টেস্ট জয়

আপডেট সময় ০১:১৫:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬

শক্তি, অভিজ্ঞতা, র‍্যাঙ্কিং কিংবা টেস্ট ক্রিকেটের দীর্ঘ ঐতিহ্য—কোনো বিচারেই অস্ট্রেলিয়ার ধারেকাছে ছিল না বাংলাদেশ। বিশ্বের নামীদামি দলগুলোও ক্যাঙ্গারুদের মাটিতে গিয়ে যেখানে হিমশিম খায়, সেখানে দাঁড়িয়ে অসম্ভবকে সম্ভব করে দেখাল বাংলাদেশ। টানা চার দিন প্রতিপক্ষকে চাপে রেখে তারা লিখল নতুন ইতিহাস।
তৃতীয় দিন শেষেই ম্যাচের ফল অনেকটা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল। বাকি ছিল কেবল সময়ের অপেক্ষা। শনিবার সকালে খেলা শুরু হতেই স্বাগতিকদের ইনিংস গুটিয়ে দিতে বেশি সময় নেয়নি সফরকারীরা। এরপর মাত্র ৫৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ১৪.২ ওভারে ১ উইকেট হারিয়েই কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পেয়ে যায় নাজমুল হোসেন শান্তর দল। ফলাফল—৯ উইকেটের বিশাল জয়, যা অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে দলটির প্রথম টেস্ট জয়ের গৌরব এনে দিল।
প্রথম ইনিংসে ব্যাট হাতে দাপট দেখিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে মাত্র ১৯৮ রানে গুটিয়ে দেওয়ার পর জবাবে ৪২৬ রানের বিশাল সংগ্রহ গড়ে বাংলাদেশ। এই ইনিংসে সেঞ্চুরি করেন ওপেনার তানজিদ হাসান। জবাবে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে অস্ট্রেলিয়া তোলে ২৮৪ রান।
জয়ের লক্ষ্যে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। কোনো রান না করেই জস হ্যাজলউডের বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন আগের ইনিংসে সেঞ্চুরি করা তানজিদ। তবে সেই ধাক্কা সামলে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন সাদমান ইসলাম ও মুমিনুল হক। দ্বিতীয় উইকেটে অবিচ্ছিন্ন ৫৩ রানের জুটি গড়েন তারা। সাদমান অপরাজিত থাকেন ২৫ রানে, মুমিনুলের ব্যাট থেকে আসে অপরাজিত ৩০ রান।
চতুর্থ দিনের খেলা শুরুর আগে ৬ উইকেট হাতে রেখে ১৬১ রান নিয়ে ব্যাট করছিল অস্ট্রেলিয়া। ক্যামেরন গ্রিন ও অ্যালেক্স ক্যারির গড়া জুটিই ছিল তাদের শেষ ভরসা। তবে দিনের শুরুতেই সেই জুটি ভাঙেন মেহেদী হাসান মিরাজ। উইকেটের পেছনে ক্যাচ বানিয়ে ক্যারিকে ফেরান তিনি, যিনি ৭২ বলে করেন ৩০ রান।
এরপর একে একে বিউ ওয়েবস্টার ও অধিনায়ক প্যাট কামিন্সকেও প্যাভিলিয়নের পথ দেখান মিরাজ। মাঝে মিচেল স্টার্ককে ফেরান তাসকিন আহমেদ। তবে পুরো ইনিংসে একাই লড়াই চালিয়ে যান ক্যামেরন গ্রিন। প্রতিপক্ষের একমাত্র সেঞ্চুরিয়ান হিসেবে ২০১ বলে ১০৪ রান করা এই অলরাউন্ডারকে শেষ পর্যন্ত বোল্ড করে ফেরান হাসান মাহমুদ। এরপর নাথান লায়নকে এলবিডব্লিউ করে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসের সমাপ্তি টানেন মিরাজ, সেই সঙ্গে পূর্ণ করেন নিজের পাঁচ উইকেট শিকার।
উল্লেখ্য, এই টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের হয়ে পাঁচ উইকেট নেওয়া দ্বিতীয় বোলার মিরাজ। প্রথম ইনিংসে এই কীর্তি গড়েছিলেন হাসান মাহমুদ, যিনি ম্যাচসেরার পুরস্কারও ঘরে তোলেন।
দুই ম্যাচের সিরিজে এই জয়ে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ। ইতিহাসের পাতায় নতুন এক অধ্যায় যুক্ত হলো টাইগারদের ক্রিকেট যাত্রায়।

Share this news as a Photo Card