শিরোনাম :
বিদ্যুৎ, জ্বালানি, গভীর সমুদ্রবন্দর, শিল্প ও প্রযুক্তিগত অবকাঠামো উন্নয়নে জাপান-বাংলাদেশ সমন্বিতভাবে কাজ করবে ‘মহব্বত’-এ শাকিব খানের নায়িকা কি পাকিস্তানের কিনজা হাশমি ইসরায়েলে ভোট: প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ডানপন্থী জোট পাচ্ছে না সংখ্যাগরিষ্ঠতা বড় ধরনের যুদ্ধে বিদ্যুৎ ছাড়াই ৯০ দিন টিকবে মার্কিন ঘাঁটি মহাসংকটে দেশীয় চলচ্চিত্র, উত্তরণের পথ খুঁজলেন নির্মাতারা ‘ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে যাব’, তারেক রহমানকে নিয়ে এক্স পোস্টে তাকাইচি মেট্রোরেল লাইন-১ প্রকল্পের সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকার কাজ পেল ভারতের এলঅ্যান্ডটি দেশে স্মার্টফোন উৎপাদনের উদ্যোগ সরকারের, মিলবে পাঁচ হাজার টাকায় ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ মৃত্যু, হামে ঝরল ৭ শিশুর প্রাণ দুই দিন পিছিয়ে শনিবার প্রকাশ হচ্ছে এইচএসসি ও সমমানের ফল

ঢাকায় যানজট ঠেকাতে এবার আকাশে ড্রোন

রাজধানীর সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে এবার আকাশপথে নজরদারির প্রস্তুতি নিচ্ছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ। এর আগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-চালিত ক্যামেরা বসিয়ে ট্রাফিক সিগন্যাল নিয়ন্ত্রণের পরীক্ষা চালিয়েছিল সংস্থাটি, এবার সেই ধারাবাহিকতায় যুক্ত হচ্ছে ড্রোন প্রযুক্তি।

প্রাথমিকভাবে একটি মাত্র ড্রোন দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও যানজটপ্রবণ সড়কে তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু হবে। ভবিষ্যতে এতে স্বয়ংক্রিয় নম্বর প্লেট শনাক্তকরণ প্রযুক্তি যুক্ত করে আইন ভঙ্গকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে সরাসরি ভিডিও মামলা দেওয়ারও পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিছুর রহমান।

সম্প্রতি ডিএমপি সদর দপ্তরে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, বিশ্বের বহু দেশে ড্রোন সার্ভিলেন্স প্রচলিত হলেও বাংলাদেশের জন্য এটি একেবারে নতুন ধারণা। সড়কের পাশাপাশি ফ্লাইওভার ও এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতেও প্রায়ই যানজট তৈরি হয়, আর অনেক সময় সেই যানজটের প্রকৃত কারণ দ্রুত জানা যায় না। এই সমস্যার সমাধানেই গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ড্রোন ব্যবহার করে তাৎক্ষণিক তথ্য পাওয়ার চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি।
আনিছুর রহমান জানান, ড্রোনে ভয়েস বা সাউন্ড সিস্টেম যুক্ত থাকবে, যার মাধ্যমে সরাসরি আইন ভঙ্গকারী চালককে সতর্ক করা যাবে। তবে বর্তমানে পুরোপুরি স্বয়ংক্রিয় মামলা দেওয়ার পর্যায়ে যায়নি পুলিশ। ভুল হওয়ার আশঙ্কা থাকায় আগে ফুটেজ বিশ্লেষণ করে তারপর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। তার ভাষ্যে, মামলার সংখ্যা বাড়ানো লক্ষ্য নয়, বরং মানুষ যেন সড়ক আইন মেনে চলে, সেটাই মূল উদ্দেশ্য।
ঢাকার যানজটের অন্যতম বড় কারণ হিসেবে গণপরিবহনের সিন্ডিকেট প্রথা তুলে ধরেন তিনি। বাসমালিকদের কাছ থেকে চুক্তিভিত্তিক বাস চালান শ্রমিকরা, যাদের প্রতিদিন নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা মালিককে দিতে হয়। এই আর্থিক চাপ থেকেই যাত্রী পাওয়ার প্রতিযোগিতা তৈরি হয়, ফলে নির্ধারিত স্টপেজে না থেমে যততত্র বাস দাঁড় করিয়ে সড়ক ব্লক করে দেওয়ার প্রবণতা দেখা যায় বলে মন্তব্য করেন তিনি। উন্নত দেশের মতো নির্দিষ্ট সময়সূচি মেনে বাস পরিচালনার ব্যবস্থা এখানে না থাকাকেই এর মূল কারণ বলে মনে করেন এই কর্মকর্তা। ই-টিকিটিং ব্যবস্থা ও বাস রুট যৌক্তিকীকরণ ছাড়া এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয় বলেও মত দেন তিনি।
প্রযুক্তিটি বাস্তবায়নে ইতিমধ্যে পুলিশ সদস্যদের প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে। প্রথম দফায় তেজগাঁও বিভাগের একটি দল প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছে, আগামী সপ্তাহ থেকে উত্তরা বিভাগের সদস্যদেরও প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে বলে জানা গেছে।
রিয়েল টাইম তথ্য পাওয়ার প্রযুক্তিগত সক্ষমতা থাকলেও এর জন্য প্রয়োজনীয় ইন্টারনেট ও সার্ভার অবকাঠামো গড়ে তুলতে বাড়তি ব্যয় ও প্রস্তুতির প্রয়োজন হবে বলে স্বীকার করেন আনিছুর রহমান।
উল্লেখ্য, এর আগে এআই প্রযুক্তির আওতায় শাহবাগ এলাকার ১৪টি ও লেক রোডের একটি— মোট ১৫টি সিগন্যাল যুক্ত করা হয়েছিল। এই উদ্যোগ এখনো প্রাথমিক পরীক্ষার পর্যায়ে থাকলেও, নাগরিকদের ট্রাফিক আইন মেনে চলার অভ্যাস গড়ে তুলতে কিছুটা সময় লাগবে বলে মনে করছে ডিএমপি। কোনো নেতিবাচক দিক ধরা পড়লে ড্রোন প্রকল্প পুরোপুরি বাস্তবায়ন না করারও সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

জনপ্রিয় সংবাদ

বিদ্যুৎ, জ্বালানি, গভীর সমুদ্রবন্দর, শিল্প ও প্রযুক্তিগত অবকাঠামো উন্নয়নে জাপান-বাংলাদেশ সমন্বিতভাবে কাজ করবে

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

দুই দিন পিছিয়ে শনিবার প্রকাশ হচ্ছে এইচএসসি ও সমমানের ফল

২৭ অক্টোবর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

ঢাকায় যানজট ঠেকাতে এবার আকাশে ড্রোন

আপডেট সময় ১১:০৫:৩২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬

রাজধানীর সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে এবার আকাশপথে নজরদারির প্রস্তুতি নিচ্ছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ। এর আগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-চালিত ক্যামেরা বসিয়ে ট্রাফিক সিগন্যাল নিয়ন্ত্রণের পরীক্ষা চালিয়েছিল সংস্থাটি, এবার সেই ধারাবাহিকতায় যুক্ত হচ্ছে ড্রোন প্রযুক্তি।

প্রাথমিকভাবে একটি মাত্র ড্রোন দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও যানজটপ্রবণ সড়কে তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু হবে। ভবিষ্যতে এতে স্বয়ংক্রিয় নম্বর প্লেট শনাক্তকরণ প্রযুক্তি যুক্ত করে আইন ভঙ্গকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে সরাসরি ভিডিও মামলা দেওয়ারও পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিছুর রহমান।

সম্প্রতি ডিএমপি সদর দপ্তরে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, বিশ্বের বহু দেশে ড্রোন সার্ভিলেন্স প্রচলিত হলেও বাংলাদেশের জন্য এটি একেবারে নতুন ধারণা। সড়কের পাশাপাশি ফ্লাইওভার ও এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতেও প্রায়ই যানজট তৈরি হয়, আর অনেক সময় সেই যানজটের প্রকৃত কারণ দ্রুত জানা যায় না। এই সমস্যার সমাধানেই গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ড্রোন ব্যবহার করে তাৎক্ষণিক তথ্য পাওয়ার চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি।
আনিছুর রহমান জানান, ড্রোনে ভয়েস বা সাউন্ড সিস্টেম যুক্ত থাকবে, যার মাধ্যমে সরাসরি আইন ভঙ্গকারী চালককে সতর্ক করা যাবে। তবে বর্তমানে পুরোপুরি স্বয়ংক্রিয় মামলা দেওয়ার পর্যায়ে যায়নি পুলিশ। ভুল হওয়ার আশঙ্কা থাকায় আগে ফুটেজ বিশ্লেষণ করে তারপর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। তার ভাষ্যে, মামলার সংখ্যা বাড়ানো লক্ষ্য নয়, বরং মানুষ যেন সড়ক আইন মেনে চলে, সেটাই মূল উদ্দেশ্য।
ঢাকার যানজটের অন্যতম বড় কারণ হিসেবে গণপরিবহনের সিন্ডিকেট প্রথা তুলে ধরেন তিনি। বাসমালিকদের কাছ থেকে চুক্তিভিত্তিক বাস চালান শ্রমিকরা, যাদের প্রতিদিন নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা মালিককে দিতে হয়। এই আর্থিক চাপ থেকেই যাত্রী পাওয়ার প্রতিযোগিতা তৈরি হয়, ফলে নির্ধারিত স্টপেজে না থেমে যততত্র বাস দাঁড় করিয়ে সড়ক ব্লক করে দেওয়ার প্রবণতা দেখা যায় বলে মন্তব্য করেন তিনি। উন্নত দেশের মতো নির্দিষ্ট সময়সূচি মেনে বাস পরিচালনার ব্যবস্থা এখানে না থাকাকেই এর মূল কারণ বলে মনে করেন এই কর্মকর্তা। ই-টিকিটিং ব্যবস্থা ও বাস রুট যৌক্তিকীকরণ ছাড়া এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয় বলেও মত দেন তিনি।
প্রযুক্তিটি বাস্তবায়নে ইতিমধ্যে পুলিশ সদস্যদের প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে। প্রথম দফায় তেজগাঁও বিভাগের একটি দল প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছে, আগামী সপ্তাহ থেকে উত্তরা বিভাগের সদস্যদেরও প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে বলে জানা গেছে।
রিয়েল টাইম তথ্য পাওয়ার প্রযুক্তিগত সক্ষমতা থাকলেও এর জন্য প্রয়োজনীয় ইন্টারনেট ও সার্ভার অবকাঠামো গড়ে তুলতে বাড়তি ব্যয় ও প্রস্তুতির প্রয়োজন হবে বলে স্বীকার করেন আনিছুর রহমান।
উল্লেখ্য, এর আগে এআই প্রযুক্তির আওতায় শাহবাগ এলাকার ১৪টি ও লেক রোডের একটি— মোট ১৫টি সিগন্যাল যুক্ত করা হয়েছিল। এই উদ্যোগ এখনো প্রাথমিক পরীক্ষার পর্যায়ে থাকলেও, নাগরিকদের ট্রাফিক আইন মেনে চলার অভ্যাস গড়ে তুলতে কিছুটা সময় লাগবে বলে মনে করছে ডিএমপি। কোনো নেতিবাচক দিক ধরা পড়লে ড্রোন প্রকল্প পুরোপুরি বাস্তবায়ন না করারও সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা।

Share this news as a Photo Card