কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা একদিন মানুষের কাজ পুরোপুরি দখল করে নেবে কি না, এই প্রশ্ন এখন প্রায় সব পেশার মানুষের মনেই ঘুরছে। কেউ চাকরি হারানোর শঙ্কায় আছেন, কেউ ভাবছেন ভবিষ্যৎ নিয়ে। এই আশঙ্কাকেই হাসির মোড়কে পর্দায় এনেছে ভারতীয় স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘উই ওয়্যার হিয়ার’। ছবিটির নির্বাহী প্রযোজক হিসেবে যুক্ত হয়েছেন অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা চোপড়া জোনাস।
তিন অবসরপ্রাপ্ত মানুষের অভিনব প্রতিবাদ
প্রণব ভাসিনের লেখা ও পরিচালনায় তৈরি কমেডি মকুমেন্টারি ঘরানার এই ছবির কেন্দ্রে আছেন তিন অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি। তাঁদের ধারণা, প্রযুক্তির বিস্তারে একসময় মানুষের কাজের সুযোগ কমে যাবে। এর প্রতিবাদে তাঁরা বেছে নেন একেবারে অন্য ধরনের পথ। একজন মাইক্রোওয়েভ ওভেনের ছদ্মবেশ নেন, একজন গাড়ির রিভার্স ক্যামেরার, আরেকজন স্যাটেলাইট ডিশের।
প্রিয়াঙ্কা যা বলেছেন
ছবির বিষয়বস্তু প্রিয়াঙ্কার ভালো লেগেছে। নির্বাহী প্রযোজক হিসেবে যুক্ত হওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এই চলচ্চিত্র সময়োপযোগী একটি বিষয়কে নতুন ও বুদ্ধিদীপ্ত রসিকতার মাধ্যমে তুলে ধরেছে। সৃজনশীল এই দলের কাজকে আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে এবং তাদের মৌলিক ভাবনাকে যথাযথ পরিচিতি দিতে নির্বাহী প্রযোজক হিসেবে যুক্ত হওয়ার সুযোগটি আমি লুফে নিয়েছি।’
উৎসবে উৎসবে সাফল্য
এ পর্যন্ত ৮০টির বেশি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে দেখানো হয়েছে ছবিটি। জিতেছে ২০টিরও বেশি পুরস্কার। ক্লেরমঁ-ফেরাঁ আন্তর্জাতিক স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র উৎসবে এর আন্তর্জাতিক উদ্বোধনী প্রদর্শনী হয়, আর সেখানেই মেলে ক্যানাল প্লাস পুরস্কার। পাম স্প্রিংস আন্তর্জাতিক স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র উৎসবে সাফল্যের পর ৯৯তম অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ডসের জন্য যোগ্যতা অর্জন করে ছবিটি।
যুক্তরাষ্ট্রের সাউথ বাই সাউথওয়েস্ট (এসএক্সএসডব্লিউ) উৎসবে সেরা ন্যারেটিভ শর্ট বিভাগে দর্শক পুরস্কার পেয়েছে এটি। একই উৎসবে পেয়েছে রেডব্রেস্ট আনহিডেন অ্যাওয়ার্ডও। এই পুরস্কারের জন্য ছবিটি বেছে নিয়েছিলেন অভিনেতা অ্যান্ড্রু স্কট, যিনি পরে নির্বাহী প্রযোজক হিসেবেও যুক্ত হন।
পরিচালক যা জানালেন
নির্মাণের পেছনের ভাবনা নিয়ে প্রণব ভাসিন বলেন, তিন অবসরপ্রাপ্ত মানুষের এআইয়ের বিস্তার ঠেকানোর চেষ্টা নিয়ে ছোট্ট একটি মজার ধারণা থেকেই ছবির যাত্রা শুরু। কাজ করতে করতে ওই তিন চরিত্রের বন্ধুত্ব আর প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে তাঁদের লড়াইয়ের প্রতি তাঁর ভালো লাগা তৈরি হয়।
ভ্যারাইটিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রণব বলেন, ভারতের বাস্তবতা অনেক সময় কল্পনার চেয়েও বিচিত্র। সেই কারণেই তিনি মকুমেন্টারি ধারাকে বেছে নিয়েছেন। এতে বাস্তব মানুষ ও জায়গার সঙ্গে গল্পের অদ্ভুত দিকগুলো তুলে ধরার সুযোগ মিলেছে।
ছবিটি অস্কারের যোগ্যতা অর্জন করায় নিজের অনুভূতি জানিয়ে তিনি বলেন, একজন তরুণ নির্মাতা হিসেবে অভিজ্ঞ ও প্রতিশ্রুতিশীল নির্বাহী প্রযোজকদের সঙ্গে কাজ করতে পারা তাঁর কাছে অবিশ্বাস্য মনে হচ্ছে। ছবিটি আরও বেশি দর্শকের কাছে পৌঁছে দিতে সবাই মিলে কাজ করার প্রত্যাশাও জানিয়েছেন তিনি।
অভিনয়ে যাঁরা
ছবির প্রযোজক যশ গনসাই অন্যতম অভিনেতাও। এতে আরও অভিনয় করেছেন সতীশ কাশ্যপ, দেবেন্দ্র দোদকে, অরিন্দল বাগচী, শুভম কুজুর ও কল্পনা গাগদেকর।
কোথায় দেখা যাবে
বর্তমানে ‘দ্য নিউ ইয়র্কার’-এর আনুষ্ঠানিক ইউটিউব চ্যানেল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবিটি দেখা যাচ্ছে।
বিনোদন ডেস্ক : 



















