কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে বিকাশ ও রকেট এজেন্ট ব্যবসায়ী নুর মোহাম্মদকে (৩৯) কুপিয়ে গুরুতর আহত করে টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনতাইয়ের ঘটনায় দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় ছিনতাই হওয়া একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন উপজেলার কামাত আঙ্গারিয়া গ্রামের মো. শরিফুল আলম সোহাগ (৩৫), পিতা মৃত শহিদুল আলম এবং নলেয়া গ্রামের সোহেল রানা স্বপন (৩৬), পিতা মৃত রুহুল রব্বানী।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কুড়িগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার খন্দকার ফজলে রাব্বি (পিপিএম)-এর নির্দেশনায় শনিবার (৭ নভেম্বর) দিবাগত রাতে ভূরুঙ্গামারী উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হয়। ভূরুঙ্গামারী পুলিশ সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মুনতাসির মামুন মুন ও উপপরিদর্শক (এসআই) জাহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে থানা পুলিশের একটি দল অভিযান পরিচালনা করে তাঁদের গ্রেপ্তার করে।
পুলিশ জানায়, গত ১৯ অক্টোবর রাতে ভূরুঙ্গামারী সদর ইউনিয়নের দক্ষিণ দেওয়ানের খামার এলাকায় মের্সাস সাহা ফিলং স্টেশন এর পূর্ব দিকে এ ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। দোকানের কার্যক্রম শেষে বাড়ি ফেরার পথে নির্জন সড়কে দুর্বৃত্তদের হামলার শিকার হন বিকাশ ও রকেট এজেন্ট ব্যবসায়ী নুর মোহাম্মদ। এ সময় দুর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁর মাথা ও হাঁটুতে আঘাত করে সঙ্গে থাকা নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে।
পরে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি করতে গিয়ে বাড়ির সামনের সড়কে তাঁকে রক্তাক্ত ও অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। স্থানীয়দের সহায়তায় তাঁকে ভূরুঙ্গামারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে অবস্থার অবনতি হলে ওই রাতেই উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এ ঘটনায় ভূরুঙ্গামারী থানায় মামলা দায়েরের পর পুলিশ তদন্ত শুরু করে। তদন্তের একপর্যায়ে অভিযান চালিয়ে দুইজনকে গ্রেপ্তার এবং ছিনতাই হওয়া একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের পাশাপাশি ছিনতাই হওয়া নগদ টাকা এবং বাকি মালামাল উদ্ধারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, বিকাশ, নগদ ও রকেটের মতো মোবাইল আর্থিক সেবার এজেন্টরা প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ নিয়ে চলাচল করেন। বিশেষ করে রাতে তাঁদের নিরাপত্তাঝুঁকি বেশি থাকে। এ অবস্থায় ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের টহল ও দৃশ্যমান উপস্থিতি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
নুরুল আমিন, (স্টাফ রিপোর্টার) 



















