শিরোনাম :
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের রিট খারিজের বিরুদ্ধে আপিল আবেদন রাজধানীরতে রিশকা চলবে এখন থেকে আট জোনে ভাগ হয়ে খেলাপির শীর্ষে জনতা, সরকারি ব্যাংকে টাকা রাখা মানেই কি নিরাপদ? অর্থবছরের শুরুতেই বাড়তি প্রবাসী আয়, ১৭ দিনে রেমিট্যান্স ১৮৮ কোটি ডলার কেন অর্থবছরের সময়কাল পরিবর্তন করলো সরকার, সুবিধা কী ? স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সিইসির সঙ্গে আইজিপির জরুরি বৈঠক মহাসড়কে কোনো ধরনের থ্রি হুইলার চলতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চট্টগ্রাম বন্দরের রাজস্ব আয় বাড়ল ৯৯৯ কোটি টাকা সৎ-দক্ষ কর্মকর্তাদের সুযোগ দিতে চায় সরকার: প্রধানমন্ত্রী বিয়ের গুঞ্জন উড়িয়ে মুখ খুললেন পূজা চেরী

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের রিট খারিজের বিরুদ্ধে আপিল আবেদন

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল স্থগিত এবং সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের বৈধতা প্রশ্নে করা রিট খারিজের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা হয়েছে। বুধবার (১৯ আগস্ট) এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন আবেদনকারী পক্ষের আইনজীবী মো. ইউনুছ আলী আকন্দ নিজেই।
এর একদিন আগে, মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী এবং বিচারপতি এ এফ এম সাইফুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রিটটি খারিজ করে আদেশ দেন। এর মধ্য দিয়ে আপাতত নির্বাচনের পথে থাকা আইনি বাধা দূর হয়েছিল বলে মনে করা হচ্ছিল, তবে এবার সেই আদেশকে চ্যালেঞ্জ করে উচ্চ আদালতে আপিল করা হলো।
গত বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) মূল রিটটি দাখিল করেছিলেন আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ। শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের প্রতিনিধিত্ব করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মামুন চৌধুরী এবং আখতার হোসেন মো. আব্দুল ওয়াহাব। রিটে আইন সচিব এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিবাদী করা হয়েছিল।
রিট আবেদনে আইনজীবী যুক্তি দেখিয়েছিলেন, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের কারণে সংসদ সদস্যরা নিজেদের বিবেক অনুযায়ী স্বাধীনভাবে ভোট প্রয়োগের সুযোগ পান না। তাঁর মতে, এই বিধান সংসদ সদস্যদের গণতান্ত্রিক অধিকারের ক্ষেত্রে একধরনের সীমাবদ্ধতা তৈরি করছে, যা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলতে পারে। এই যুক্তির ভিত্তিতেই তফসিল স্থগিত রাখার আরজি জানানো হয়েছিল আদালতের কাছে।
তবে হাইকোর্ট বেঞ্চ শুনানি শেষে রিটটি খারিজ করে দেওয়ায় নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী নির্বাচন প্রক্রিয়া এগিয়ে চলার পথ খোলা থাকে। এখন সেই আদেশকে ঘিরেই আপিল দায়ের হলো, যার ফলে বিষয়টি ফের উচ্চ আদালতের বিবেচনায় গেল।
নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী, আগামী বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় ইতোমধ্যে দুজন প্রার্থীকে বৈধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। কমিশনের হিসাব অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে মোট ভোটারসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৪৯ জনে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, আজ বুধবারই প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন নির্ধারিত রয়েছে। ফলে আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে চূড়ান্ত হতে পারে, শেষ পর্যন্ত কতজন প্রার্থী প্রকৃতপক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অংশ নিচ্ছেন। একই সঙ্গে আপিল শুনানির ফলাফলের ওপরও নজর থাকবে সংশ্লিষ্ট মহলের, কেননা এর ওপর নির্ভর করছে নির্ধারিত সময়েই ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে কি না।
সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আইনি ও রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক চলে আসছে। সংসদ সদস্যদের দলীয় সিদ্ধান্তের বিপক্ষে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে এই অনুচ্ছেদ যে সীমাবদ্ধতা আরোপ করে, তা নিয়ে ভিন্নমত পোষণকারীরা বারবার আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। এবারের আপিলও সেই ধারাবাহিকতারই একটি অংশ বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।
সব মিলিয়ে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে ঘিরে সৃষ্ট আইনি জটিলতা এখনো পুরোপুরি নিরসন হয়নি। আপিল শুনানি কবে হবে এবং তার ফলাফল কী দাঁড়ায়, তার ওপরই নির্ভর করছে নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী নির্বিঘ্নে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হবে কি না। আগামী কয়েক দিন তাই সংশ্লিষ্ট সবার নজর থাকবে আদালতের দিকে।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের রিট খারিজের বিরুদ্ধে আপিল আবেদন

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

বিয়ের গুঞ্জন উড়িয়ে মুখ খুললেন পূজা চেরী

১৮ আগস্ট ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের রিট খারিজের বিরুদ্ধে আপিল আবেদন

আপডেট সময় ০১:১০:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল স্থগিত এবং সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের বৈধতা প্রশ্নে করা রিট খারিজের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা হয়েছে। বুধবার (১৯ আগস্ট) এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন আবেদনকারী পক্ষের আইনজীবী মো. ইউনুছ আলী আকন্দ নিজেই।
এর একদিন আগে, মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী এবং বিচারপতি এ এফ এম সাইফুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রিটটি খারিজ করে আদেশ দেন। এর মধ্য দিয়ে আপাতত নির্বাচনের পথে থাকা আইনি বাধা দূর হয়েছিল বলে মনে করা হচ্ছিল, তবে এবার সেই আদেশকে চ্যালেঞ্জ করে উচ্চ আদালতে আপিল করা হলো।
গত বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) মূল রিটটি দাখিল করেছিলেন আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ। শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের প্রতিনিধিত্ব করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মামুন চৌধুরী এবং আখতার হোসেন মো. আব্দুল ওয়াহাব। রিটে আইন সচিব এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিবাদী করা হয়েছিল।
রিট আবেদনে আইনজীবী যুক্তি দেখিয়েছিলেন, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের কারণে সংসদ সদস্যরা নিজেদের বিবেক অনুযায়ী স্বাধীনভাবে ভোট প্রয়োগের সুযোগ পান না। তাঁর মতে, এই বিধান সংসদ সদস্যদের গণতান্ত্রিক অধিকারের ক্ষেত্রে একধরনের সীমাবদ্ধতা তৈরি করছে, যা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলতে পারে। এই যুক্তির ভিত্তিতেই তফসিল স্থগিত রাখার আরজি জানানো হয়েছিল আদালতের কাছে।
তবে হাইকোর্ট বেঞ্চ শুনানি শেষে রিটটি খারিজ করে দেওয়ায় নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী নির্বাচন প্রক্রিয়া এগিয়ে চলার পথ খোলা থাকে। এখন সেই আদেশকে ঘিরেই আপিল দায়ের হলো, যার ফলে বিষয়টি ফের উচ্চ আদালতের বিবেচনায় গেল।
নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী, আগামী বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় ইতোমধ্যে দুজন প্রার্থীকে বৈধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। কমিশনের হিসাব অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে মোট ভোটারসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৪৯ জনে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, আজ বুধবারই প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন নির্ধারিত রয়েছে। ফলে আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে চূড়ান্ত হতে পারে, শেষ পর্যন্ত কতজন প্রার্থী প্রকৃতপক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অংশ নিচ্ছেন। একই সঙ্গে আপিল শুনানির ফলাফলের ওপরও নজর থাকবে সংশ্লিষ্ট মহলের, কেননা এর ওপর নির্ভর করছে নির্ধারিত সময়েই ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে কি না।
সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আইনি ও রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক চলে আসছে। সংসদ সদস্যদের দলীয় সিদ্ধান্তের বিপক্ষে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে এই অনুচ্ছেদ যে সীমাবদ্ধতা আরোপ করে, তা নিয়ে ভিন্নমত পোষণকারীরা বারবার আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। এবারের আপিলও সেই ধারাবাহিকতারই একটি অংশ বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।
সব মিলিয়ে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে ঘিরে সৃষ্ট আইনি জটিলতা এখনো পুরোপুরি নিরসন হয়নি। আপিল শুনানি কবে হবে এবং তার ফলাফল কী দাঁড়ায়, তার ওপরই নির্ভর করছে নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী নির্বিঘ্নে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হবে কি না। আগামী কয়েক দিন তাই সংশ্লিষ্ট সবার নজর থাকবে আদালতের দিকে।

Share this news as a Photo Card