মহিলাদের নামাজ আদায়ের নিয়ম

নারীর নামাজের কেরাত, তাসবিহ, দোয়া ইত্যাদি পুরুষের মতোই, এসব ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের নামাজে কোনো পার্থক্য নেই। পুরুষের মতোই নারী দাঁড়িয়ে নামাজের নিয়ত করে ‘আল্লাহু আকবার’ বলে নামাজ শুরু করবেন, সানা পড়বেন, সুরা ফাতেহা পড়বেন, সুরা মেলাবেন, তারপর ‘আল্লাহু আকবার’ বলে ‍রুকুতে গিয়ে তিনবার ‘সুবাহানা রাব্বিয়াল আযিম’ পড়বেন, রুকু থেকে দাঁড়ানোর সময় ‘সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ’ বলবেন, দাঁড়িয়ে ‘রাব্বানা লাকাল হামদ’ বলবেন, তারপর ‘আল্লাহু আকবার’ বলে সিজদায় গিয়ে তিনবার `সুবাহানা রাব্বিয়াল আ’লা’ পড়বেন, প্রথম বৈঠকে তাশাহহুদ ও শেষ বৈঠকে তাশাহহুদ, দরুদ ও দোয়া মাসুরা পড়বেন।

তবে হানাফি মাজহাবের মতামত অনুযায়ী নারী-পুরুষের নামাজের আমলগুলো অর্থাৎ তাকবিরের সময় হাত ওঠানো, রুকু, সিজদা, বৈঠক ইত্যাদি আদায়ের ধরনে কিছু পার্থক্য আছে। নারী-পুরুষের শারীরিক গঠন ও বৈশিষ্ট্যগত পার্থ্যক্য এবং পর্দা রক্ষার জন্য এই পার্থক্য করতে হয়।

হানাফি মাজহাব অনুযায়ী নারী ও পুরুষদের নামাজ আদায়ের যে আমলগুলোতে পার্থক্য রয়েছে তা সংক্ষেপে তুলে ধরলাম:

নারীর হাত তোলা ও হাত বাঁধার সঠিক নিয়ম
পুরুষের ক্ষেত্রে তাকবিরে তাহরিমা বলার সময় দুই হাত কান পর্যন্ত ওঠানোর নিয়ম থাকলেও, নারীরা উভয় হাত কাঁধ পর্যন্ত উঠাবেন। এ সময় তারা চাদর বা ওড়নার ভেতর থেকেই হাত ওঠাবেন, হাত বাইরে বের করবেন না। হাত বাঁধার ক্ষেত্রে পুরুষরা নাভির নিচে হাত বাঁধলেও নারীরা বুকের ওপর হাত বাঁধবেন। হাত রাখার পদ্ধতিতেও ভিন্নতা রয়েছে; পুরুষরা যেখানে ডান হাত দিয়ে বাম হাতের কব্জি ধরে গোলাকৃতি বৃত্ত বানান, সেখানে নারীরা কেবল ডান হাতের পাতা বাম হাতের পিঠের ওপর রাখবেন, কোনো বৃত্ত তৈরি করবেন না।

নারীর রুকু করার সঠিক নিয়ম
রুকুতে পুরুষরা পিঠ একদম সোজা বা সমান্তরাল রাখলেও নারীরা সামান্য ঝুঁকবেন, যাতে পিঠ পুরোপুরি সোজা না হয়ে কিছুটা বাঁকা থাকে। রুকু অবস্থায় পুরুষরা আঙুল ফাঁকা করে হাঁটু আঁকড়ে ধরেন, কিন্তু নারীরা উভয় হাতের আঙুলগুলো মিলিয়ে হাঁটুর ওপর রাখবেন। এ ছাড়া নারীরা রুকু করার সময় উভয় হাতের কনুই পাঁজরের সঙ্গে একদম মিলিয়ে রাখবেন, যা পুরুষদের ক্ষেত্রে ফাঁকা রাখার নিয়ম।

নারীর সিজদা করার সঠিক নিয়ম
সিজদার সময় পুরুষরা বুক, পেট ও কনুই মাটি এবং শরীর থেকে আলাদা রাখলেও নারীরা যথাসম্ভব গুটিয়ে এবং মাটির সঙ্গে মিশিয়ে সিজদা করবেন। এ সময় তাদের পেট রানের সঙ্গে এবং দুই বাজু পাঁজরের সঙ্গে মিলে থাকবে। পুরুষরা সিজদায় কনুই মাটি থেকে ওপরে রাখলেও নারীরা উভয় হাতের কনুই মাটিতে বিছিয়ে দেবেন। এ ছাড়া সিজদার মধ্যে হাত ও পায়ের আঙুলগুলো কিবলার দিকে থাকবে, তবে পুরুষদের মতো পা খাড়া না করে নারীরা উভয় পা ডান দিক দিয়ে বের করে দেবেন।

নারীর বৈঠকে বসার সঠিক নিয়ম
নামাজে বৈঠকে বসার নিয়মের ক্ষেত্রেও নারী ও পুরুষের মাঝে পার্থক্য রয়েছে। পুরুষরা ডান পা খাড়া রেখে বাম পায়ের ওপর বসলেও নারীরা মাটিতে বাম নিতম্বের ওপর ভর দিয়ে বসবেন এবং উভয় পা ডান দিক দিয়ে বের করে রাখবেন। এ ছাড়া বৈঠকে নারীরা তাদের উভয় হাতের আঙুলগুলো ফাঁকা না রেখে পরস্পরের সঙ্গে মিলিয়ে রাখবেন।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

জনপ্রিয় সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

সেপ্টেম্বরের শেষ ও অক্টোবরের শুরুতে ডেঙ্গুর পিক সময় : স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

মহিলাদের নামাজ আদায়ের নিয়ম

আপডেট সময় ০২:৫১:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

নারীর নামাজের কেরাত, তাসবিহ, দোয়া ইত্যাদি পুরুষের মতোই, এসব ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের নামাজে কোনো পার্থক্য নেই। পুরুষের মতোই নারী দাঁড়িয়ে নামাজের নিয়ত করে ‘আল্লাহু আকবার’ বলে নামাজ শুরু করবেন, সানা পড়বেন, সুরা ফাতেহা পড়বেন, সুরা মেলাবেন, তারপর ‘আল্লাহু আকবার’ বলে ‍রুকুতে গিয়ে তিনবার ‘সুবাহানা রাব্বিয়াল আযিম’ পড়বেন, রুকু থেকে দাঁড়ানোর সময় ‘সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ’ বলবেন, দাঁড়িয়ে ‘রাব্বানা লাকাল হামদ’ বলবেন, তারপর ‘আল্লাহু আকবার’ বলে সিজদায় গিয়ে তিনবার `সুবাহানা রাব্বিয়াল আ’লা’ পড়বেন, প্রথম বৈঠকে তাশাহহুদ ও শেষ বৈঠকে তাশাহহুদ, দরুদ ও দোয়া মাসুরা পড়বেন।

তবে হানাফি মাজহাবের মতামত অনুযায়ী নারী-পুরুষের নামাজের আমলগুলো অর্থাৎ তাকবিরের সময় হাত ওঠানো, রুকু, সিজদা, বৈঠক ইত্যাদি আদায়ের ধরনে কিছু পার্থক্য আছে। নারী-পুরুষের শারীরিক গঠন ও বৈশিষ্ট্যগত পার্থ্যক্য এবং পর্দা রক্ষার জন্য এই পার্থক্য করতে হয়।

হানাফি মাজহাব অনুযায়ী নারী ও পুরুষদের নামাজ আদায়ের যে আমলগুলোতে পার্থক্য রয়েছে তা সংক্ষেপে তুলে ধরলাম:

নারীর হাত তোলা ও হাত বাঁধার সঠিক নিয়ম
পুরুষের ক্ষেত্রে তাকবিরে তাহরিমা বলার সময় দুই হাত কান পর্যন্ত ওঠানোর নিয়ম থাকলেও, নারীরা উভয় হাত কাঁধ পর্যন্ত উঠাবেন। এ সময় তারা চাদর বা ওড়নার ভেতর থেকেই হাত ওঠাবেন, হাত বাইরে বের করবেন না। হাত বাঁধার ক্ষেত্রে পুরুষরা নাভির নিচে হাত বাঁধলেও নারীরা বুকের ওপর হাত বাঁধবেন। হাত রাখার পদ্ধতিতেও ভিন্নতা রয়েছে; পুরুষরা যেখানে ডান হাত দিয়ে বাম হাতের কব্জি ধরে গোলাকৃতি বৃত্ত বানান, সেখানে নারীরা কেবল ডান হাতের পাতা বাম হাতের পিঠের ওপর রাখবেন, কোনো বৃত্ত তৈরি করবেন না।

নারীর রুকু করার সঠিক নিয়ম
রুকুতে পুরুষরা পিঠ একদম সোজা বা সমান্তরাল রাখলেও নারীরা সামান্য ঝুঁকবেন, যাতে পিঠ পুরোপুরি সোজা না হয়ে কিছুটা বাঁকা থাকে। রুকু অবস্থায় পুরুষরা আঙুল ফাঁকা করে হাঁটু আঁকড়ে ধরেন, কিন্তু নারীরা উভয় হাতের আঙুলগুলো মিলিয়ে হাঁটুর ওপর রাখবেন। এ ছাড়া নারীরা রুকু করার সময় উভয় হাতের কনুই পাঁজরের সঙ্গে একদম মিলিয়ে রাখবেন, যা পুরুষদের ক্ষেত্রে ফাঁকা রাখার নিয়ম।

নারীর সিজদা করার সঠিক নিয়ম
সিজদার সময় পুরুষরা বুক, পেট ও কনুই মাটি এবং শরীর থেকে আলাদা রাখলেও নারীরা যথাসম্ভব গুটিয়ে এবং মাটির সঙ্গে মিশিয়ে সিজদা করবেন। এ সময় তাদের পেট রানের সঙ্গে এবং দুই বাজু পাঁজরের সঙ্গে মিলে থাকবে। পুরুষরা সিজদায় কনুই মাটি থেকে ওপরে রাখলেও নারীরা উভয় হাতের কনুই মাটিতে বিছিয়ে দেবেন। এ ছাড়া সিজদার মধ্যে হাত ও পায়ের আঙুলগুলো কিবলার দিকে থাকবে, তবে পুরুষদের মতো পা খাড়া না করে নারীরা উভয় পা ডান দিক দিয়ে বের করে দেবেন।

নারীর বৈঠকে বসার সঠিক নিয়ম
নামাজে বৈঠকে বসার নিয়মের ক্ষেত্রেও নারী ও পুরুষের মাঝে পার্থক্য রয়েছে। পুরুষরা ডান পা খাড়া রেখে বাম পায়ের ওপর বসলেও নারীরা মাটিতে বাম নিতম্বের ওপর ভর দিয়ে বসবেন এবং উভয় পা ডান দিক দিয়ে বের করে রাখবেন। এ ছাড়া বৈঠকে নারীরা তাদের উভয় হাতের আঙুলগুলো ফাঁকা না রেখে পরস্পরের সঙ্গে মিলিয়ে রাখবেন।

Share this news as a Photo Card