বিমান বিধ্বস্তে নিহত বেড়ে ৩১, চিকিৎসাধীন ৭৮ জন

রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের একটি ভবনে বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমান (এফটি-৭ বিজিআই) বিধ্বস্তের ঘটনায় পাইলটসহ নিহত বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩১ জনে। নিহতদের সবার পরিচয় এখনও জানা যায়নি। বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে আরও৭৮ জন। এ পর্যন্ত ২০ জনের মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার (২২ জুলাই) সকালে জাতীয় বার্ন এন্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমান।

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী জানান, জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন আরও চার শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে।

এর আগে সোমবার (২১ জুলাই) আইএসপিআর জানায়, ঢাকার আটটি হাসপাতাল থেকে পাওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী মোট নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২০ জন এবং আহতের সংখ্যা হয়েছে ১৭১ জন। এর মধ্যে জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে ভর্তি রয়েছেন ৭০ জন এবং মারা গেছেন দুজন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি তিনজন ও মারা গেছেন একজন। সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন রয়েছেন ১৭ জন ও মারা গেছেন ১২ জন। কুর্মিটোলা জেনারেল হসপিটালে একজন ভর্তি এবং মারা গেছেন দুজন। উত্তরার লুবানা জেনারেল হাসপাতাল অ্যান্ড কার্ডিয়াক সেন্টারে ১১ জন ভর্তি এবং মৃত্যু হয়েছে দুজনের। উত্তরা আধুনিক হসপিটালে ৬০ জন চিকিৎসাধীন এবং একজন মারা গেছেন। কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে আটজন আহত ও উত্তরা ক্রিসেন্ট হাসপাতালে একজন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

সোমবার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ জাহেদ কামাল বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের বলেন, তাদের কর্মীরা ধ্বংসস্তূপ থেকে ১৯ জনের লাশ উদ্ধার করেছে। অর্ধশতাধিক আহত ও দগ্ধকে হাসপাতালে পাঠানো হয়।

রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে আহতদের দেখতে আসেন আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল, পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী, প্রধান উপদেষ্টা প্রেস সচিব শফিকুল আলম প্রমুখ।

উল্লেখ্য, রাজধানীর তেজগাঁও পুরোনো বিমানবন্দর থেকে যুদ্ধবিমানটি উড্ডয়নের পরপরই দুপুর সোয়া ১টা দিকে উত্তরার মাইলস্টোনে স্কুল অ্যান্ড কলেজের হায়দার আলী ভবনের ওপর আছড়ে পড়ে। এর কিছুক্ষণের মধ্যে ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। কিছুক্ষণের মধ্যে সেনাবাহিনী ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা সেখানে গিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উদ্ধারের কাজ শুরু করেন।

যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় শোক জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। প্রধান উপদেষ্টা প্রেস উইংয়ের পাঠানো এক শোক বার্তায় তা জানানো হয়েছে। এ ঘটনায় আজ মঙ্গলবার রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে এবং আজকের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।

মাইলস্টোন স্কুলে শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে আইন ও শিক্ষা উপদেষ্টা

Share this news as a Photo Card

ট্যাগস

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

জনপ্রিয় সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিশ্চিত হলে, সবকিছু ইতিবাচক হবে: ভারতীয় হাইকমিশনার

২৯ জুলাই ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

বিমান বিধ্বস্তে নিহত বেড়ে ৩১, চিকিৎসাধীন ৭৮ জন

আপডেট সময় ১১:৪০:৫১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ জুলাই ২০২৫

রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের একটি ভবনে বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমান (এফটি-৭ বিজিআই) বিধ্বস্তের ঘটনায় পাইলটসহ নিহত বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩১ জনে। নিহতদের সবার পরিচয় এখনও জানা যায়নি। বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে আরও৭৮ জন। এ পর্যন্ত ২০ জনের মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার (২২ জুলাই) সকালে জাতীয় বার্ন এন্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমান।

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী জানান, জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন আরও চার শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে।

এর আগে সোমবার (২১ জুলাই) আইএসপিআর জানায়, ঢাকার আটটি হাসপাতাল থেকে পাওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী মোট নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২০ জন এবং আহতের সংখ্যা হয়েছে ১৭১ জন। এর মধ্যে জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে ভর্তি রয়েছেন ৭০ জন এবং মারা গেছেন দুজন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি তিনজন ও মারা গেছেন একজন। সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন রয়েছেন ১৭ জন ও মারা গেছেন ১২ জন। কুর্মিটোলা জেনারেল হসপিটালে একজন ভর্তি এবং মারা গেছেন দুজন। উত্তরার লুবানা জেনারেল হাসপাতাল অ্যান্ড কার্ডিয়াক সেন্টারে ১১ জন ভর্তি এবং মৃত্যু হয়েছে দুজনের। উত্তরা আধুনিক হসপিটালে ৬০ জন চিকিৎসাধীন এবং একজন মারা গেছেন। কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে আটজন আহত ও উত্তরা ক্রিসেন্ট হাসপাতালে একজন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

সোমবার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ জাহেদ কামাল বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের বলেন, তাদের কর্মীরা ধ্বংসস্তূপ থেকে ১৯ জনের লাশ উদ্ধার করেছে। অর্ধশতাধিক আহত ও দগ্ধকে হাসপাতালে পাঠানো হয়।

রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে আহতদের দেখতে আসেন আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল, পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী, প্রধান উপদেষ্টা প্রেস সচিব শফিকুল আলম প্রমুখ।

উল্লেখ্য, রাজধানীর তেজগাঁও পুরোনো বিমানবন্দর থেকে যুদ্ধবিমানটি উড্ডয়নের পরপরই দুপুর সোয়া ১টা দিকে উত্তরার মাইলস্টোনে স্কুল অ্যান্ড কলেজের হায়দার আলী ভবনের ওপর আছড়ে পড়ে। এর কিছুক্ষণের মধ্যে ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। কিছুক্ষণের মধ্যে সেনাবাহিনী ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা সেখানে গিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উদ্ধারের কাজ শুরু করেন।

যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় শোক জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। প্রধান উপদেষ্টা প্রেস উইংয়ের পাঠানো এক শোক বার্তায় তা জানানো হয়েছে। এ ঘটনায় আজ মঙ্গলবার রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে এবং আজকের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।

মাইলস্টোন স্কুলে শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে আইন ও শিক্ষা উপদেষ্টা

Share this news as a Photo Card