শিরোনাম :

কওমি জোট নিয়ে জামায়াতের সংশয়, ১১-দলীয় ঐক্যে ফাটল

জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় রাজনৈতিক ঐক্যের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। জোটের দুটি শরিক দল—খেলাফত মজলিস ও বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন—ইতিমধ্যে জোটের কর্মসূচি থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একই সময়ে হেফাজতে ইসলামের উদ্যোগে কওমি ধারার সাতটি ইসলামি দলকে নিয়ে নতুন একটি জোট গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় রাজনৈতিক মহলে এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে।
সংশ্লিষ্টরা অবশ্য বলছেন, এখনই ১১-দলীয় জোট ভেঙে যাচ্ছে কিংবা নতুন কোনো জোট আত্মপ্রকাশ করছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার সময় হয়নি। জামায়াতের দাবি, কর্মসূচিতে অনুপস্থিত থাকলেও দল দুটি এখনো জোটেই রয়েছে।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে আসন সমঝোতা এবং সংরক্ষিত নারী আসনে প্রত্যাশিত ছাড় না পাওয়াকে কেন্দ্র করে খেলাফত মজলিসের ভেতরে দীর্ঘদিন ধরে অসন্তোষ জমছিল। দলটির অভিযোগ, জোটে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসকে বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, পাশাপাশি আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জামায়াতের এককভাবে অংশগ্রহণের সম্ভাবনাও তাদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার এক অধিবেশনে দলটি জোটের কর্মসূচি থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করে, যদিও ভবিষ্যতে বৃহত্তর ঐক্যের সম্ভাবনা উন্মুক্ত রাখার কথাও জানিয়েছে তারা।
অন্যদিকে, হেফাজতে ইসলামের আমিরের উদ্যোগে গত মাসে চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে অংশ নেয় কওমি ধারার সাতটি দল। সেখানে পারস্পরিক বিভেদ কমিয়ে একসঙ্গে চলার নীতিগত সমঝোতা হয়েছে বলে জানা গেছে। প্রতিটি দলকে আগামী ৩ আগস্টের মধ্যে লিখিত প্রস্তাব জমা দিতে বলা হয়েছে, যার ভিত্তিতে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
তবে ১১-দলীয় জোটে থাকা অন্য কওমি দলগুলোর নেতারা বলছেন, তাঁরা এখনই জোট ছাড়ার চিন্তা করছেন না। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির বলেছেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়নের আন্দোলনকে বেগবান করতেই জোট আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। জামায়াতের এক নেতা নতুন জোটের উদ্যোগের পেছনে সরকারি ইন্ধনের সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ১১-দলীয় ঐক্য এখন একধরনের পরীক্ষার মুখে পড়েছে। হেফাজতের উদ্যোগে শুরু হওয়া আলোচনা নতুন জোটের রূপ নেয় কি না, তা স্পষ্ট হতে আরও কিছুদিন সময় লাগবে বলে মনে করছেন তাঁরা।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

বিদ্যুৎ বিতরণ বেসরকারি খাতে দিতে চায় সরকার, শঙ্কায় বিশেষজ্ঞরা

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

রাষ্ট্রপতি প্রার্থী নিয়ে আজ বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক

০১ আগস্ট ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

কওমি জোট নিয়ে জামায়াতের সংশয়, ১১-দলীয় ঐক্যে ফাটল

আপডেট সময় ০৫:৪১:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় রাজনৈতিক ঐক্যের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। জোটের দুটি শরিক দল—খেলাফত মজলিস ও বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন—ইতিমধ্যে জোটের কর্মসূচি থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একই সময়ে হেফাজতে ইসলামের উদ্যোগে কওমি ধারার সাতটি ইসলামি দলকে নিয়ে নতুন একটি জোট গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় রাজনৈতিক মহলে এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে।
সংশ্লিষ্টরা অবশ্য বলছেন, এখনই ১১-দলীয় জোট ভেঙে যাচ্ছে কিংবা নতুন কোনো জোট আত্মপ্রকাশ করছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার সময় হয়নি। জামায়াতের দাবি, কর্মসূচিতে অনুপস্থিত থাকলেও দল দুটি এখনো জোটেই রয়েছে।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে আসন সমঝোতা এবং সংরক্ষিত নারী আসনে প্রত্যাশিত ছাড় না পাওয়াকে কেন্দ্র করে খেলাফত মজলিসের ভেতরে দীর্ঘদিন ধরে অসন্তোষ জমছিল। দলটির অভিযোগ, জোটে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসকে বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, পাশাপাশি আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জামায়াতের এককভাবে অংশগ্রহণের সম্ভাবনাও তাদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার এক অধিবেশনে দলটি জোটের কর্মসূচি থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করে, যদিও ভবিষ্যতে বৃহত্তর ঐক্যের সম্ভাবনা উন্মুক্ত রাখার কথাও জানিয়েছে তারা।
অন্যদিকে, হেফাজতে ইসলামের আমিরের উদ্যোগে গত মাসে চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে অংশ নেয় কওমি ধারার সাতটি দল। সেখানে পারস্পরিক বিভেদ কমিয়ে একসঙ্গে চলার নীতিগত সমঝোতা হয়েছে বলে জানা গেছে। প্রতিটি দলকে আগামী ৩ আগস্টের মধ্যে লিখিত প্রস্তাব জমা দিতে বলা হয়েছে, যার ভিত্তিতে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
তবে ১১-দলীয় জোটে থাকা অন্য কওমি দলগুলোর নেতারা বলছেন, তাঁরা এখনই জোট ছাড়ার চিন্তা করছেন না। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির বলেছেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়নের আন্দোলনকে বেগবান করতেই জোট আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। জামায়াতের এক নেতা নতুন জোটের উদ্যোগের পেছনে সরকারি ইন্ধনের সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ১১-দলীয় ঐক্য এখন একধরনের পরীক্ষার মুখে পড়েছে। হেফাজতের উদ্যোগে শুরু হওয়া আলোচনা নতুন জোটের রূপ নেয় কি না, তা স্পষ্ট হতে আরও কিছুদিন সময় লাগবে বলে মনে করছেন তাঁরা।

Share this news as a Photo Card