শিরোনাম :
পারস্পরিক শ্রদ্ধায় ভারতের সঙ্গে কাজ করবে ঢাকা: হুমায়ুন কবির অভিযোগ না এলেও পুলিশ কি চুপ করে বসে থাকতে পারে? সুন্দরবনের কোল ঘেঁষে ২১ রিসোর্ট, অনুমতি এবং নিবন্ধন নেই একটিরও এলপিজির সংকট নেই, মজুতদারি করলেই ব্যবস্থা : প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হৃদরোগে প্রতিদিন ঝরছে ৫৬২ থেকে ৭৭৭ প্রাণ, চিকিৎসায় বিশেষজ্ঞ সংকট জুলাই জাদুঘরের পেছনের মাঠে ২০টির বেশি বোমা, ঘিরে রেখেছে এসআরবি বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও রোহিঙ্গা প্রসঙ্গে বিদায়ী রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে আলোচনা এসএসসির ভুল খাতা দেখা পরীক্ষকদের জবাবদিহির আওতায় আনছে শিক্ষা মন্ত্রণালয় না খেলেই সেমিতে ভারত-পাকিস্তান ইরানের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব ট্রাম্পের প্রত্যাখ্যানে তেলের দাম বৃদ্ধি

অভিযোগ না এলেও পুলিশ কি চুপ করে বসে থাকতে পারে?

কেউ মামলা করেনি, এই কারণ দেখিয়ে অপরাধের মুখে পুলিশ কি নীরব থাকতে পারে? আইনজ্ঞ ও সাবেক পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, পারে না। মিরপুরের রাড্ডা ক্লিনিকে হামলা ও লুটপাটের ঘটনার পর এ প্রশ্ন আবার সামনে এসেছে।

দেশের শান্তি, শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার পরিপন্থী যেকোনো কাজ ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়। এ বিষয়ে বাংলাদেশে প্রচলিত আইন ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮, যা সিআরপিসি নামে পরিচিত। সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদের ভাষ্য, আমলযোগ্য অপরাধের খবর পেলে দ্রুত সাড়া দেওয়া পুলিশের দায়িত্ব। খুন, ধর্ষণ, চুরি, ডাকাতি, চাঁদাবাজি, হামলা ও ভাঙচুর এই তালিকায় পড়ে। এসব ক্ষেত্রে আদালতের অনুমতি বা পরোয়ানা ছাড়াই পুলিশ ব্যবস্থা নিতে পারে, এমনকি অপরাধীকে গ্রেপ্তারও করতে পারে।

তাঁর মতে, ভুক্তভোগী বা তথ্যদাতা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ না করলেও পুলিশ নিজে ঘটনা পর্যবেক্ষণ করে আইনি পদক্ষেপ নিতে পারে। সাবেক মহাপুলিশ পরিদর্শক নুরুল হুদাও একই কথা বলেন। তাঁর ভাষ্য, মামলা হলে ভালো, না হলেও হাত গুটিয়ে থাকার সুযোগ নেই। আইন অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থাও নেওয়া যায়।

তবু কেন নীরবতা

আইনে স্পষ্ট নির্দেশনা থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে বহু ঘটনায় পুলিশের নীরব ভূমিকা নিয়ে অভিযোগ উঠেছে। ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের পর দুই বছরে মব তৈরি করে বিভিন্ন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও স্থাপনায় হামলার ঘটনা ঘটেছে। নুরুল হুদার মতে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ক্ষমতাসীনদের পক্ষে ব্যবহৃত হওয়া এবং অভ্যুত্থানের সময় জনতার মুখোমুখি দাঁড়ানোর কারণে বাহিনী নৈতিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে। সেই ধাক্কা এখনো কাটেনি, তাই মবের মতো শক্তির বিরুদ্ধে কঠোর হতে পারছে না পুলিশ।

মানবাধিকারকর্মী নূর খান লিটনের বক্তব্য ভিন্ন দিক থেকে। তাঁর মতে, রাড্ডা ক্লিনিকের ঘটনায় স্থানীয় থানার ভূমিকা নানা প্রশ্ন তুলেছে। ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের যোগসাজশের আভাস মিলছে। আবার ভয়, সুবিধা পাওয়ার আশা কিংবা দায় এড়ানোর প্রবণতাও কারণ হতে পারে বলে তিনি মনে করেন।

কর্তৃপক্ষ যা বলছে

ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ ঘটনাস্থল ঘুরে দেখে শনিবার সাংবাদিকদের বলেন, ভাঙচুর ও লুটপাট ঠেকানো পুলিশের দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে। রোববার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, শাহ আলী থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা মিলেছে। তাঁকে প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং বিভাগীয় মামলা করা হচ্ছে।

মন্ত্রীর দাবি, সরকার পুলিশকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দিচ্ছে। সরকারদলীয় কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ এলেও আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ আছে। নুরুল হুদা অবশ্য বলছেন, শুধু প্রত্যাহারে সমস্যার সমাধান হবে না। সরকারের সদিচ্ছা দরকার, পুলিশকে দলীয় স্বার্থে ব্যবহার বন্ধ করতে হবে, নেতাদের চাপ থামাতে হবে।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

জনপ্রিয় সংবাদ

পারস্পরিক শ্রদ্ধায় ভারতের সঙ্গে কাজ করবে ঢাকা: হুমায়ুন কবির

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

ইরানের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব ট্রাম্পের প্রত্যাখ্যানে তেলের দাম বৃদ্ধি

২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

অভিযোগ না এলেও পুলিশ কি চুপ করে বসে থাকতে পারে?

আপডেট সময় ০২:২০:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কেউ মামলা করেনি, এই কারণ দেখিয়ে অপরাধের মুখে পুলিশ কি নীরব থাকতে পারে? আইনজ্ঞ ও সাবেক পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, পারে না। মিরপুরের রাড্ডা ক্লিনিকে হামলা ও লুটপাটের ঘটনার পর এ প্রশ্ন আবার সামনে এসেছে।

দেশের শান্তি, শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার পরিপন্থী যেকোনো কাজ ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়। এ বিষয়ে বাংলাদেশে প্রচলিত আইন ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮, যা সিআরপিসি নামে পরিচিত। সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদের ভাষ্য, আমলযোগ্য অপরাধের খবর পেলে দ্রুত সাড়া দেওয়া পুলিশের দায়িত্ব। খুন, ধর্ষণ, চুরি, ডাকাতি, চাঁদাবাজি, হামলা ও ভাঙচুর এই তালিকায় পড়ে। এসব ক্ষেত্রে আদালতের অনুমতি বা পরোয়ানা ছাড়াই পুলিশ ব্যবস্থা নিতে পারে, এমনকি অপরাধীকে গ্রেপ্তারও করতে পারে।

তাঁর মতে, ভুক্তভোগী বা তথ্যদাতা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ না করলেও পুলিশ নিজে ঘটনা পর্যবেক্ষণ করে আইনি পদক্ষেপ নিতে পারে। সাবেক মহাপুলিশ পরিদর্শক নুরুল হুদাও একই কথা বলেন। তাঁর ভাষ্য, মামলা হলে ভালো, না হলেও হাত গুটিয়ে থাকার সুযোগ নেই। আইন অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থাও নেওয়া যায়।

তবু কেন নীরবতা

আইনে স্পষ্ট নির্দেশনা থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে বহু ঘটনায় পুলিশের নীরব ভূমিকা নিয়ে অভিযোগ উঠেছে। ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের পর দুই বছরে মব তৈরি করে বিভিন্ন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও স্থাপনায় হামলার ঘটনা ঘটেছে। নুরুল হুদার মতে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ক্ষমতাসীনদের পক্ষে ব্যবহৃত হওয়া এবং অভ্যুত্থানের সময় জনতার মুখোমুখি দাঁড়ানোর কারণে বাহিনী নৈতিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে। সেই ধাক্কা এখনো কাটেনি, তাই মবের মতো শক্তির বিরুদ্ধে কঠোর হতে পারছে না পুলিশ।

মানবাধিকারকর্মী নূর খান লিটনের বক্তব্য ভিন্ন দিক থেকে। তাঁর মতে, রাড্ডা ক্লিনিকের ঘটনায় স্থানীয় থানার ভূমিকা নানা প্রশ্ন তুলেছে। ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের যোগসাজশের আভাস মিলছে। আবার ভয়, সুবিধা পাওয়ার আশা কিংবা দায় এড়ানোর প্রবণতাও কারণ হতে পারে বলে তিনি মনে করেন।

কর্তৃপক্ষ যা বলছে

ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ ঘটনাস্থল ঘুরে দেখে শনিবার সাংবাদিকদের বলেন, ভাঙচুর ও লুটপাট ঠেকানো পুলিশের দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে। রোববার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, শাহ আলী থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা মিলেছে। তাঁকে প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং বিভাগীয় মামলা করা হচ্ছে।

মন্ত্রীর দাবি, সরকার পুলিশকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দিচ্ছে। সরকারদলীয় কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ এলেও আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ আছে। নুরুল হুদা অবশ্য বলছেন, শুধু প্রত্যাহারে সমস্যার সমাধান হবে না। সরকারের সদিচ্ছা দরকার, পুলিশকে দলীয় স্বার্থে ব্যবহার বন্ধ করতে হবে, নেতাদের চাপ থামাতে হবে।

Share this news as a Photo Card