শিরোনাম :
খুলনায় ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চাইনিজ কুড়াল হাতে পাঁচ যুবকের হামলা ২৪২ রানে অপরাজিত সেঞ্চুরিতে ইতিহাস গড়লেন হৃদয় শিশুদের শিক্ষার মান বাড়াতে ৩০ কোটি ডলার দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক অভিষেকের বাড়িতে রাত ২টায় সশস্ত্র হামলার অভিযোগ, উড়িয়ে দিল বিজেপি গ্রাম পুলিশের বেতন বাড়ল ৩ হাজার টাকা, মিলবে মোবাইল ভাতাও ট্রাকের চাপায় বাবা মা সহ নিহত আট মাসের শিশু ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে একাই লড়ছেন তাওহীদ হৃদয়, ১৫৪ রানে অপরাজিত দল, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে পরিচয় একটাই বাংলাদেশি: প্রধানমন্ত্রী ‘উই ওয়্যার হিয়ার’: এআইয়ের বিরুদ্ধে মাইক্রোওয়েভ ইরানের পারমাণবিক তথ্যে ২ কোটি ডলার পুরস্কার ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের

খুলনায় ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চাইনিজ কুড়াল হাতে পাঁচ যুবকের হামলা

শনিবার দুপুর পৌনে একটা। খুলনা নগরীর ব্যস্ত পিটিআই মোড়ে তখন স্বাভাবিক কর্মচাঞ্চল্য। পাশেই নিউ এ্যাপোলো ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড কনসালটেশন সেন্টারে ছিল রোগীদের ভিড়। হঠাৎ চাইনিজ কুড়াল হাতে সেখানে ঢুকে পড়েন পাঁচ যুবক। কিছু বুঝে ওঠার আগেই কাচের দরজা, জানালা, এসি ও টিভিসহ সামনে যা পান, ভাঙচুর করেন তাঁরা। হামলাকারীদের একজন পুরো ঘটনা মুঠোফোনে ভিডিও করেন। কাজ শেষে সবার সামনে দিয়েই নির্বিঘ্নে বেরিয়ে যান তাঁরা।

ঘটনাস্থল ঘুরে ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে খানজাহান আলী রোডের ওই প্রতিষ্ঠানে ঢোকেন পাঁচজন। তাঁরা দুটি এসি, একটি টিভি, সামনের দরজার কাচ ও রিসিপশন কাউন্টার ভেঙে ফেলেন। এক কর্মীর মোবাইল ফোনও ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এ সময় ভেতরে থাকা রোগীরা ভয়ে ছোটাছুটি করছিলেন।

মালিকপক্ষ নীরব

গত এক মাসে খুলনায় স্বাস্থ্যপ্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুরের এটি চতুর্থ ঘটনা। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ধরলে সংখ্যাটি পাঁচ। আগের ঘটনাগুলোর মতো এবারও মালিকপক্ষ কিছু বলতে চাইছেন না।

ওই ভবনের অন্য প্রতিষ্ঠান ও ভুক্তভোগীদের দাবি, পিটিআই মোড়কেন্দ্রিক প্রতিটি ভাঙচুরের পেছনে রয়েছে নূর আজিম ও তাঁর বাহিনীর সদস্যরা। তাঁদের ভাষ্য, চাঁদা না পেয়ে এবং কিছু ক্ষেত্রে ভয় দেখাতেই এসব হামলা চালানো হচ্ছে। অভিযুক্তরা গ্রেপ্তার না হওয়ায় তাঁরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে বলেও দাবি করা হয়। তবে এসব অভিযোগ এখনো প্রমাণিত নয়।

ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন বলেন, কিছুদিন আগে টুটপাড়ার নূর আজিম বাহিনীর এক সদস্য তাঁকে ফোন করেছিলেন। তিনি ওই নামে কাউকে চেনেন না বলার পরপরই ওপাশ থেকে লাইন কেটে দেওয়া হয়। মালিকপক্ষের কারও কাছে চাঁদা চাওয়া হয়েছে কি না, তা তাঁর জানা নেই।

পুলিশ যা বলছে

খুলনা সদর থানার ওসি লোকমান হোসেন বলেন, ঘটনাস্থলের সিসি ফুটেজ সংগ্রহ করে হামলাকারীদের শনাক্ত করা গেছে। তাঁদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু হয়েছে। খুলনা মহানগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (খুলনা জোন) শফিকুল ইসলাম জানান, ভাঙচুরের ঘটনাগুলোতে ভুক্তভোগীরা কোনো মামলা করেননি। সন্ধানী ক্লিনিকে গুলির খোসা পাওয়ায় পুলিশ নিজেই বাদী হয়ে মামলা করে। সেই মামলায় তিনজন গ্রেপ্তার হয়েছেন। বাকি ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।

আগের ঘটনাগুলো
গত মাসের মাঝামাঝি: রয়েল মোড়ের সিটি কুইন্স ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে হামলা ও ভাঙচুর।
২৪ অক্টোবর: সন্ধানী ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক কমপ্লেক্সে আট-দশজনের মুখোশধারী দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। তারা চিকিৎসকের চেম্বারের সামনের কাচ, চেয়ার-টেবিল ও ক্যাশ কাউন্টার ভাঙচুর করে। যাওয়ার সময় আতঙ্ক ছড়াতে ফাঁকা গুলি ছোড়ে।
২৮ অক্টোবর: আহসান আহমেদ সড়কের ‘চাইনিজ প্যালেস’ রেস্তোরাঁয় দিনের বেলায় কয়েকজন যুবক ঢুকে মালিককে খোঁজেন। তাঁকে না পেয়ে এবং কথিত ‘ভাইয়ের’ ফোন ধরা হয়নি বলে ক্ষুব্ধ হয়ে ব্যাপক ভাঙচুর চালান।
৩ নভেম্বর, মঙ্গলবার সন্ধ্যা: শামসুর রহমান রোডের রংধনু ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার এবং আব্দুল্লাহ প্যাথলজিতে হামলা হয়। প্রতিষ্ঠান দুটি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়ে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মারধর করা হয়।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগস

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

জনপ্রিয় সংবাদ

মদিনা থেকে জেদ্দা যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় ৭ বাংলাদেশির মৃত্যু

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

ইরানের পারমাণবিক তথ্যে ২ কোটি ডলার পুরস্কার ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের

০৭ নভেম্বর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

খুলনায় ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চাইনিজ কুড়াল হাতে পাঁচ যুবকের হামলা

আপডেট সময় ০৫:২৭:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬

শনিবার দুপুর পৌনে একটা। খুলনা নগরীর ব্যস্ত পিটিআই মোড়ে তখন স্বাভাবিক কর্মচাঞ্চল্য। পাশেই নিউ এ্যাপোলো ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড কনসালটেশন সেন্টারে ছিল রোগীদের ভিড়। হঠাৎ চাইনিজ কুড়াল হাতে সেখানে ঢুকে পড়েন পাঁচ যুবক। কিছু বুঝে ওঠার আগেই কাচের দরজা, জানালা, এসি ও টিভিসহ সামনে যা পান, ভাঙচুর করেন তাঁরা। হামলাকারীদের একজন পুরো ঘটনা মুঠোফোনে ভিডিও করেন। কাজ শেষে সবার সামনে দিয়েই নির্বিঘ্নে বেরিয়ে যান তাঁরা।

ঘটনাস্থল ঘুরে ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে খানজাহান আলী রোডের ওই প্রতিষ্ঠানে ঢোকেন পাঁচজন। তাঁরা দুটি এসি, একটি টিভি, সামনের দরজার কাচ ও রিসিপশন কাউন্টার ভেঙে ফেলেন। এক কর্মীর মোবাইল ফোনও ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এ সময় ভেতরে থাকা রোগীরা ভয়ে ছোটাছুটি করছিলেন।

মালিকপক্ষ নীরব

গত এক মাসে খুলনায় স্বাস্থ্যপ্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুরের এটি চতুর্থ ঘটনা। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ধরলে সংখ্যাটি পাঁচ। আগের ঘটনাগুলোর মতো এবারও মালিকপক্ষ কিছু বলতে চাইছেন না।

ওই ভবনের অন্য প্রতিষ্ঠান ও ভুক্তভোগীদের দাবি, পিটিআই মোড়কেন্দ্রিক প্রতিটি ভাঙচুরের পেছনে রয়েছে নূর আজিম ও তাঁর বাহিনীর সদস্যরা। তাঁদের ভাষ্য, চাঁদা না পেয়ে এবং কিছু ক্ষেত্রে ভয় দেখাতেই এসব হামলা চালানো হচ্ছে। অভিযুক্তরা গ্রেপ্তার না হওয়ায় তাঁরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে বলেও দাবি করা হয়। তবে এসব অভিযোগ এখনো প্রমাণিত নয়।

ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন বলেন, কিছুদিন আগে টুটপাড়ার নূর আজিম বাহিনীর এক সদস্য তাঁকে ফোন করেছিলেন। তিনি ওই নামে কাউকে চেনেন না বলার পরপরই ওপাশ থেকে লাইন কেটে দেওয়া হয়। মালিকপক্ষের কারও কাছে চাঁদা চাওয়া হয়েছে কি না, তা তাঁর জানা নেই।

পুলিশ যা বলছে

খুলনা সদর থানার ওসি লোকমান হোসেন বলেন, ঘটনাস্থলের সিসি ফুটেজ সংগ্রহ করে হামলাকারীদের শনাক্ত করা গেছে। তাঁদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু হয়েছে। খুলনা মহানগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (খুলনা জোন) শফিকুল ইসলাম জানান, ভাঙচুরের ঘটনাগুলোতে ভুক্তভোগীরা কোনো মামলা করেননি। সন্ধানী ক্লিনিকে গুলির খোসা পাওয়ায় পুলিশ নিজেই বাদী হয়ে মামলা করে। সেই মামলায় তিনজন গ্রেপ্তার হয়েছেন। বাকি ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।

আগের ঘটনাগুলো
গত মাসের মাঝামাঝি: রয়েল মোড়ের সিটি কুইন্স ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে হামলা ও ভাঙচুর।
২৪ অক্টোবর: সন্ধানী ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক কমপ্লেক্সে আট-দশজনের মুখোশধারী দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। তারা চিকিৎসকের চেম্বারের সামনের কাচ, চেয়ার-টেবিল ও ক্যাশ কাউন্টার ভাঙচুর করে। যাওয়ার সময় আতঙ্ক ছড়াতে ফাঁকা গুলি ছোড়ে।
২৮ অক্টোবর: আহসান আহমেদ সড়কের ‘চাইনিজ প্যালেস’ রেস্তোরাঁয় দিনের বেলায় কয়েকজন যুবক ঢুকে মালিককে খোঁজেন। তাঁকে না পেয়ে এবং কথিত ‘ভাইয়ের’ ফোন ধরা হয়নি বলে ক্ষুব্ধ হয়ে ব্যাপক ভাঙচুর চালান।
৩ নভেম্বর, মঙ্গলবার সন্ধ্যা: শামসুর রহমান রোডের রংধনু ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার এবং আব্দুল্লাহ প্যাথলজিতে হামলা হয়। প্রতিষ্ঠান দুটি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়ে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মারধর করা হয়।

Share this news as a Photo Card