শিরোনাম :
পুলিশের উচ্চপর্যায়ে বড় রদবদল, ঢাকা-রাজশাহী-খুলনা রেঞ্জে নতুন ডিআইজি আগামী ৭২ ঘণ্টায় দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে বন্যার শঙ্কা, কয়েকটি জেলার নদী বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে খামেনির শোকানুষ্ঠানে ৭০টির বেশি দেশের প্রতিনিধিত্ব কি কারণে শুভশ্রীর আবেগঘন বার্তা সরকারি ব্যানার-ফেস্টুনে প্রধানমন্ত্রীর ছবি নিষিদ্ধ শাহজাদপুরে মাদক ব্যবসার অভিযোগে নারীর বাড়িতে ভাঙচুর, আইন নিজের হাতে না নেওয়ার আহ্বান পুলিশের ‘জুলাই চেতনা’ নিয়ে ব্যবসা কাম্য নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নতুন নেতৃত্বে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি: সভাপতি শিবা শানু, সাধারণ সম্পাদক জয় চৌধুরী লেভেল ক্রসিংয়ে মৃত্যুফাঁদ: প্রযুক্তি ও অব্যবস্থাপনার গোলকধাঁধায় রেলওয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ‘ফিফা শান্তি পুরস্কার’: ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি ইউরোপীয় পার্লামেন্টের ৫০ সদস্যের

আগামী ৭২ ঘণ্টায় দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে বন্যার শঙ্কা, কয়েকটি জেলার নদী বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে

আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি জেলার নদ-নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে বলে সতর্ক করেছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। সংস্থাটির সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে বান্দরবান, কক্সবাজার, ফেনী, চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ির কয়েকটি নদীর পানি দ্রুত বাড়তে পারে। ফলে এসব জেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

রোববার (৫ জুলাই) প্রকাশিত বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী কয়েক দিন দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল এবং ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের উজানে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। এর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে সীমান্তবর্তী নদীগুলোর ওপর, যা বাংলাদেশের কয়েকটি জেলায় আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেবে।

পূর্বাভাস অনুযায়ী, বান্দরবান, কক্সবাজার, ফেনী, চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ি জেলার কিছু নদীর পানি আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এসব নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বসবাসকারী মানুষের জন্য সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালী জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নভূমির কিছু এলাকা সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কার কথাও জানিয়েছে বন্যা তথ্য কেন্দ্র। যদিও সেখানে দীর্ঘস্থায়ী বন্যার পূর্বাভাস দেওয়া হয়নি, তবে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত ও নদীর পানি বৃদ্ধি পরিস্থিতিকে দ্রুত পরিবর্তন করতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আবহাওয়া সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী আগামী পাঁচ দিন চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে এবং এর সঙ্গে সংযুক্ত ভারতের ত্রিপুরা অঞ্চলে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। উজানে অতিবৃষ্টির কারণে সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে প্রবেশকারী নদীগুলোর পানির প্রবাহও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পার্বত্য অঞ্চল ও সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোর নদীগুলো স্বল্প সময়ের মধ্যে পানি ধারণক্ষমতা অতিক্রম করলে হঠাৎ করেই বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। এ ধরনের বন্যা সাধারণত দ্রুত শুরু হয় এবং অল্প সময়ের মধ্যে বিস্তীর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই আগাম সতর্কতা এবং স্থানীয় প্রশাসনের প্রস্তুতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি নদীর পানির উচ্চতায় পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের মনু, ধলাই এবং খোয়াই নদীর পানি সমতল বৃদ্ধি পেয়েছে।

অন্যদিকে সারিগোয়াইন, সোমেশ্বরী ও কংস নদীর পানি কিছুটা কমেছে। যাদুকাটা ও ভুগাই নদীর পানি বর্তমানে স্থিতিশীল থাকলেও আগামী ৭২ ঘণ্টায় এসব নদীর পানিও দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বিশেষ করে সিলেট অঞ্চলের নদীগুলোর প্রবণতা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। অতীতে উজানের ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে এই অঞ্চলে একাধিকবার আকস্মিক বন্যা দেখা দিয়েছে। ফলে বর্তমান পরিস্থিতিতেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিয়মিত পানি পর্যবেক্ষণ এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় অব্যাহত রেখেছে।

অন্যদিকে দেশের উত্তরাঞ্চলের পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে। বন্যা তথ্য কেন্দ্র জানিয়েছে, রংপুর বিভাগের তিস্তা নদীর পানি সমতল বর্তমানে স্থিতিশীল রয়েছে। একই সময়ে ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি কিছুটা কমেছে এবং আগামী দুই দিন এই নিম্নমুখী প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে।

তবে আবহাওয়ার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে নদীর পানির অবস্থাও দ্রুত পরিবর্তিত হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তাই নিয়মিত পূর্বাভাস অনুসরণ এবং স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞদের মতে, বন্যা মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশে কমিয়ে আনতে পারে। বিশেষ করে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের প্রয়োজনীয় খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, ওষুধ এবং জরুরি সামগ্রী প্রস্তুত রাখার পাশাপাশি নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র সম্পর্কে আগেই ধারণা রাখা উচিত।

এ ছাড়া কৃষকদের ক্ষেতের ফসল, গবাদিপশু এবং প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের ঝুঁকিও বেড়ে যেতে পারে, তাই পাহাড়ের ঢাল বা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের অতিরিক্ত সতর্ক থাকতে বলা হচ্ছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বৃষ্টিপাত ও নদীর পানির প্রবাহের পরিবর্তনের ওপর ভিত্তি করে প্রয়োজন হলে নতুন পূর্বাভাস ও সতর্কবার্তা প্রকাশ করা হবে।

সব মিলিয়ে, আগামী কয়েক দিন দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নদীগুলোর পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের প্রয়োজন রয়েছে। ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে কয়েকটি জেলার নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও সতর্ক ও প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

জনপ্রিয় সংবাদ

শাহজাদপুরে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীকে নির্যাতনের অভিযোগ, শিক্ষিকার স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ‘ফিফা শান্তি পুরস্কার’: ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি ইউরোপীয় পার্লামেন্টের ৫০ সদস্যের

০৩ জুলাই ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

আগামী ৭২ ঘণ্টায় দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে বন্যার শঙ্কা, কয়েকটি জেলার নদী বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে

আপডেট সময় ০৭:৫১:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬

আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি জেলার নদ-নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে বলে সতর্ক করেছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। সংস্থাটির সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে বান্দরবান, কক্সবাজার, ফেনী, চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ির কয়েকটি নদীর পানি দ্রুত বাড়তে পারে। ফলে এসব জেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

রোববার (৫ জুলাই) প্রকাশিত বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী কয়েক দিন দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল এবং ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের উজানে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। এর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে সীমান্তবর্তী নদীগুলোর ওপর, যা বাংলাদেশের কয়েকটি জেলায় আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেবে।

পূর্বাভাস অনুযায়ী, বান্দরবান, কক্সবাজার, ফেনী, চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ি জেলার কিছু নদীর পানি আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এসব নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বসবাসকারী মানুষের জন্য সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালী জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নভূমির কিছু এলাকা সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কার কথাও জানিয়েছে বন্যা তথ্য কেন্দ্র। যদিও সেখানে দীর্ঘস্থায়ী বন্যার পূর্বাভাস দেওয়া হয়নি, তবে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত ও নদীর পানি বৃদ্ধি পরিস্থিতিকে দ্রুত পরিবর্তন করতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আবহাওয়া সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী আগামী পাঁচ দিন চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে এবং এর সঙ্গে সংযুক্ত ভারতের ত্রিপুরা অঞ্চলে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। উজানে অতিবৃষ্টির কারণে সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে প্রবেশকারী নদীগুলোর পানির প্রবাহও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পার্বত্য অঞ্চল ও সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোর নদীগুলো স্বল্প সময়ের মধ্যে পানি ধারণক্ষমতা অতিক্রম করলে হঠাৎ করেই বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। এ ধরনের বন্যা সাধারণত দ্রুত শুরু হয় এবং অল্প সময়ের মধ্যে বিস্তীর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই আগাম সতর্কতা এবং স্থানীয় প্রশাসনের প্রস্তুতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি নদীর পানির উচ্চতায় পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের মনু, ধলাই এবং খোয়াই নদীর পানি সমতল বৃদ্ধি পেয়েছে।

অন্যদিকে সারিগোয়াইন, সোমেশ্বরী ও কংস নদীর পানি কিছুটা কমেছে। যাদুকাটা ও ভুগাই নদীর পানি বর্তমানে স্থিতিশীল থাকলেও আগামী ৭২ ঘণ্টায় এসব নদীর পানিও দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বিশেষ করে সিলেট অঞ্চলের নদীগুলোর প্রবণতা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। অতীতে উজানের ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে এই অঞ্চলে একাধিকবার আকস্মিক বন্যা দেখা দিয়েছে। ফলে বর্তমান পরিস্থিতিতেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিয়মিত পানি পর্যবেক্ষণ এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় অব্যাহত রেখেছে।

অন্যদিকে দেশের উত্তরাঞ্চলের পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে। বন্যা তথ্য কেন্দ্র জানিয়েছে, রংপুর বিভাগের তিস্তা নদীর পানি সমতল বর্তমানে স্থিতিশীল রয়েছে। একই সময়ে ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি কিছুটা কমেছে এবং আগামী দুই দিন এই নিম্নমুখী প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে।

তবে আবহাওয়ার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে নদীর পানির অবস্থাও দ্রুত পরিবর্তিত হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তাই নিয়মিত পূর্বাভাস অনুসরণ এবং স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞদের মতে, বন্যা মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশে কমিয়ে আনতে পারে। বিশেষ করে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের প্রয়োজনীয় খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, ওষুধ এবং জরুরি সামগ্রী প্রস্তুত রাখার পাশাপাশি নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র সম্পর্কে আগেই ধারণা রাখা উচিত।

এ ছাড়া কৃষকদের ক্ষেতের ফসল, গবাদিপশু এবং প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের ঝুঁকিও বেড়ে যেতে পারে, তাই পাহাড়ের ঢাল বা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের অতিরিক্ত সতর্ক থাকতে বলা হচ্ছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বৃষ্টিপাত ও নদীর পানির প্রবাহের পরিবর্তনের ওপর ভিত্তি করে প্রয়োজন হলে নতুন পূর্বাভাস ও সতর্কবার্তা প্রকাশ করা হবে।

সব মিলিয়ে, আগামী কয়েক দিন দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নদীগুলোর পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের প্রয়োজন রয়েছে। ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে কয়েকটি জেলার নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও সতর্ক ও প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

Share this news as a Photo Card