চলমান এইচএসসি পরীক্ষা ঘিরে শিক্ষার্থীদের উদ্বেগ ও বিক্ষোভের মধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি জানিয়েছেন, পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে যেসব ত্রুটি ধরা পড়েছে, সেসব প্রশ্নের জন্য পরীক্ষার্থীদের পূর্ণ নম্বর দেওয়া হবে। পাশাপাশি যেসব পরীক্ষাকেন্দ্রে গুরুতর ভুল বা অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে, সেসব ক্ষেত্রে প্রয়োজন হলে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার ব্যবস্থাও করা হবে।
মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্যদের পৃথক দুটি সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী। ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অধিবেশনের শুরুতে এ বিষয়ে আলোচনা হয়।
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এইচএসসি পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষার কিছু প্রশ্নে ভুল থাকার অভিযোগ ওঠে। একই সময়ে প্রতিকূল আবহাওয়া ও বন্যা পরিস্থিতির মধ্যেও পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ায় দেশের বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। সোমবারের পরীক্ষার পর মঙ্গলবার ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন।
এই পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই সরকার বিষয়টি বিবেচনা করছে। পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষার ভুল থাকা দুটি প্রশ্নে পরীক্ষার্থীদের পূর্ণ নম্বর দেওয়া হবে, যাতে কোনো শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত না হন।
তিনি আরও বলেন, যেসব পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রশ্নপত্র বা পরীক্ষা পরিচালনায় ত্রুটির অভিযোগ পাওয়া গেছে, সেগুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্তে অনিয়মের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রে পুনরায় পরীক্ষা আয়োজনের বিষয়টিও বিবেচনা করা হবে।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে শিক্ষামন্ত্রী সড়ক ছেড়ে শ্রেণিকক্ষ ও পড়ার টেবিলে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সরকার শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক উদ্বেগকে গুরুত্ব সহকারে দেখছে এবং পরীক্ষা-সংক্রান্ত সব বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, সংশ্লিষ্ট আবহাওয়া ও প্রশাসনিক সংস্থাগুলোর কাছ থেকে অনুকূল পরিস্থিতির পূর্বাভাস পাওয়ার ভিত্তিতেই পরীক্ষা বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তবে বাস্তব পরিস্থিতি প্রত্যাশার সঙ্গে পুরোপুরি মিলেনি।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরীক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষায় পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রশ্নপত্রের ত্রুটি, পরীক্ষা পরিচালনার মান এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগজনিত সমস্যাগুলো পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এদিকে শিক্ষামন্ত্রীর এই ঘোষণার পর পরীক্ষার্থীদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও, পুনঃপরীক্ষা ও মূল্যায়ন পদ্ধতি নিয়ে শিক্ষা বোর্ডগুলোর আনুষ্ঠানিক নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা।
চলমান বার্তা ডেস্ক : 























