স্কুইড গেম’–এর পর এবার বিশ্বজুড়ে নেটফ্লিক্সে ঝড় তুলছে কোরিয়ান সিরিজ ‘টিচ ইউ আ লেসন’
বিশ্বজুড়ে দক্ষিণ কোরিয়ান ড্রামার জনপ্রিয়তা নতুন কোনো বিষয় নয়। তবে ‘স্কুইড গেম’-এর বৈশ্বিক সাফল্যের পর ওটিটি প্ল্যাটফর্ম নেটফ্লিক্সে পরবর্তী বড় হিট কী হতে যাচ্ছে, তা নিয়ে অনুরাগী ও বিশ্লেষকদের কৌতুহল ছিল তুঙ্গে। সেই অপেক্ষার সমাপ্তি ঘটিয়ে এবার পর্দার নতুন চমক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে থ্রিলার সিরিজ ‘টিচ ইউ আ লেসন’।
মাত্র দেড় মাস আগে মুক্তি পাওয়া এই ড্রামাটি ইতিমধ্যে বিশ্বব্যাপী দর্শকের মনোযোগ কেড়ে নিয়েছে। একের পর এক রেকর্ড ভেঙে নেটফ্লিক্সের সর্বাধিক দেখা সিরিজের তালিকায় নিজের অবস্থান মজবুত করে নিচ্ছে সিরিজটি।
দর্শকপ্রিয়তার শীর্ষে পৌঁছানোর গল্প
চলতি বছরের অর্ধবার্ষিক দর্শক সংখ্যার তথ্যভিত্তিক একটি প্রতিবেদন সম্প্রতি প্রকাশ করেছে নেটফ্লিক্স। গত জানুয়ারি থেকে জুন মাস পর্যন্ত প্ল্যাটফর্মটির ভিউয়ারশিপের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, মাত্র কয়েক সপ্তাহে ‘টিচ ইউ আ লেসন’ ড্রামাটির ভিউ বা দর্শক সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪ কোটি ৮২ লাখে।
চলচ্চিত্র বাদ দিলে কেবল টেলিভিশন ও ওয়েব সিরিজের বিশ্বব্যাপী সামগ্রিক তালিকায় এটি বর্তমানে ষষ্ঠ স্থানে অবস্থান করছে। সংক্ষিপ্ত সময়ে এই বিপুল পরিমাণ ভিউ অর্জন করাকে বিনোদন জগতের একটি বিরল ঘটনা বলে মনে করছেন মাধ্যম সংশ্লিষ্টরা।
আন্তর্জাতিক বিনোদনবিষয়ক সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্যমতে, ‘স্কুইড গেম’-এর পর নেটফ্লিক্সের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বাধিক জনপ্রিয় কোরিয়ান সিরিজ হওয়ার পথে দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে এটি।
কী আছে এই সিরিজের গল্পে?
গত জুন মাসের প্রথমার্ধে মুক্তি পাওয়া এই ড্রামাটির মূল উপজীব্য দক্ষিণ কোরিয়ার আধুনিক সমাজ ও শিক্ষাব্যবস্থা। রহস্য, টানটান উত্তেজনা, অ্যাকশন এবং সূক্ষ্ম সামাজিক বার্তার এক দারুণ মেলবন্ধনে তৈরি হয়েছে এর মূল কাহিনি।
গল্পে দেখা যায়, দেশটির ভেঙে পড়া বা অনিয়মে জর্জরিত শিক্ষাব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে গড়ে ওঠে একটি গোপন ও বিশেষ সরকারি সংস্থা। এই সংস্থার অসম সাহসী অভিযান এবং শিক্ষার্থীদের মানসিক টানাপোড়েন বেশ আকর্ষণীয়ভাবে পর্দায় ফুটিয়ে তুলেছেন নির্মাতা। সমাজের গভীরে লুকিয়ে থাকা বৈষম্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের গল্পটি বৈশ্বিক দর্শকদের হৃদয়ে দারুণভাবে সাড়া ফেলেছে।
নেটফ্লিক্সে কোরিয়ান কনটেন্টের প্রাধান্য
যদিও এখনো পর্যন্ত নেটফ্লিক্সে কোরিয়ান কনটেন্টের মধ্যে শীর্ষ তিনটি স্থান একচ্ছত্রভাবে দখল করে রয়েছে ‘স্কুইড গেম’-এর বিভিন্ন মৌসুম। পাশাপাশি ‘ক্যান দিস লাভ বি ট্রান্সলেটেড?’ এবং ‘দ্য আর্ট অব সারাহ’-এর মতো সিরিজগুলোও বৈশ্বিক তালিকায় শক্তিশালী অবস্থান ধরে রেখেছে। তবে সার্বিক পারফরম্যান্স বিবেচনা করলে, ‘টিচ ইউ আ লেসন’ যেভাবে হু হু করে ভিউ বাড়াচ্ছ—তা নিশ্চিতভাবেই কোরিয়ান ওয়েভ বা ‘হাল্লু’-র এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।
কেবল একক অরিজিনাল সিরিজই নয়, একইসঙ্গে টেলিভিশন এবং নেটফ্লিক্সে প্রচারিত অন্যান্য কোরিয়ান নাটকগুলোও বেশ সমাদৃত হচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ, ‘মাই রয়্যাল নেমেসিস’ সিরিজটি ইতোমধ্যে দেড় কোটিরও বেশি ভিউ অর্জন করে নেটফ্লিক্সের জনপ্রিয়তার পারদ উঁচুতে রাখছে।
সব মিলিয়ে বলা চলে, সামাজিক বাস্তবতা ও ভিন্নধর্মী গল্পের এই জয়রথ প্রমাণ করে দিচ্ছে—সঠিক উপস্থাপনা পেলে ভাষার দেয়াল ভেঙে বিশ্বমঞ্চ জয় করতে কোরিয়ান কনটেন্ট এখনো অনন্য।
চলমান বার্তা ডেস্ক : 

























