শিরোনাম :
গুলিবিদ্ধ শাকিলের ফিরে আসার গল্প, এখনো থামেনি কষ্ট হাম চিকিৎসায় ঋণে জর্জরিত দেশের অধিকাংশ পরিবার জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সৌরশক্তি বাড়াতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা স্থানীয় নির্বাচনে সরকারের সুস্পষ্ট নির্দেশনা পায়নি ইসি পঞ্চগড়ে মাইকে ঘোষণা দিয়ে চা বাগান দখলচেষ্টার অভিযোগ আওয়ামী লীগের নাশকতার সক্ষমতা নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আবর্জনা মুক্ত দেশ গড়তে সহযোগিতা প্রত্যাশা প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ বিতরণ বেসরকারি খাতে দিতে চায় সরকার, শঙ্কায় বিশেষজ্ঞরা বেনজীর আহমেদের জামিন বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু বেনজীরকে ফেরাতে সরকারের প্রক্রিয়া শুরু, জানালেন উপদেষ্টা

বুকে ব্যথা ছাড়াই হৃদ্‌রোগের যে লক্ষণগুলো উপেক্ষা করা বিপজ্জনক

হৃদ্‌রোগ মানেই বুকে চাপ ধরা ব্যথা বা শ্বাসকষ্ট—এমন ধারণাই বেশির ভাগ মানুষের মনে বদ্ধমূল। কিন্তু চিকিৎসকেরা বলছেন, বাস্তবতা এর চেয়ে জটিল। অনেক ক্ষেত্রেই হৃদ্‌যন্ত্র নিঃশব্দে বিকল হতে শুরু করে, আর তার লক্ষণগুলো এমনই সাধারণ যে সেগুলোকে হৃদ্‌রোগের পূর্বাভাস বলে চেনা কঠিন হয়ে পড়ে। এই ধরনের ঘটনাকে বলা হয় ‘সাইলেন্ট হার্ট অ্যাটাক’।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর জরিপ অনুযায়ী, দেশে মোট মৃত্যুর প্রায় এক-পঞ্চমাংশ ঘটে হৃদ্‌রোগের কারণে, যা জনস্বাস্থ্যবিদদের কাছে একটি উদ্বেগজনক বার্তা (Prothomalo) । এমন প্রেক্ষাপটে হৃদ্‌রোগের অস্বাভাবিক ও কম আলোচিত লক্ষণগুলো জানা জরুরি হয়ে পড়ে।
অকারণ ক্লান্তি ও ঘাম
পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রামের পরেও যদি সারাদিন ক্লান্তি না কাটে, দিনের বেলায় ঝিমুনি আসে, অথবা বিনা কারণে গা দিয়ে ঘাম ঝরে—তা অবহেলা করা ঠিক নয়। এই লক্ষণ দীর্ঘদিন ধরে চললে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
মাথা ঘোরা ও মনোযোগহীনতা
হৃদ্‌যন্ত্রের কার্যক্ষমতা কমে গেলে মস্তিষ্কে রক্ত ও অক্সিজেনের প্রবাহ ব্যাহত হয়। হার্ভার্ড মেডিক্যাল স্কুলের গবেষণা অনুযায়ী, এর ফলে আচমকা মাথা ঘোরা, বিভ্রান্তি এবং কাজে অনীহা তৈরি হতে পারে—যা অনেকেই সাধারণ দুর্বলতা বলে উপেক্ষা করেন।
অকারণ কাঁপুনি বা জ্বরভাব
ঠান্ডা-সর্দি না থাকলেও শরীরে কাঁপুনি, জ্বরের অনুভূতি বা পেশিতে টান লাগতে পারে। গবেষকদের মতে, হৃদ্‌কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হলে রক্তে সাইটোকাইন নামের প্রদাহজনক উপাদান নিঃসৃত হয়, যা এমন অনুভূতির জন্ম দেয়।
চোয়াল, ঘাড় ও পিঠে ব্যথা
চোয়াল বা ঘাড়ের নিচের দিকে টানা ব্যথা, কখনো পেশিতে খিঁচুনি—এসবও হৃদ্‌রোগের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে বলে গবেষকেরা জানিয়েছেন।
হজমে সমস্যা ও পেট ফাঁপা
সাইলেন্ট হার্ট অ্যাটাকে ধমনীতে রক্ত সঞ্চালন বাধাগ্রস্ত হলে ভেগাস স্নায়ু উত্তেজিত হয়। এই স্নায়ু পরিপাকতন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত থাকায় বমিভাব, অম্বল বা পেট ফাঁপার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে, যাকে প্রায়ই সাধারণ গ্যাস্ট্রিক সমস্যা ভেবে ভুল করা হয়।
পা বা গোড়ালি ফোলা
পায়ে বা গোড়ালিতে পানি জমে ফুলে যাওয়া রক্তে উচ্চ মাত্রার খারাপ কোলেস্টেরলের সংকেত হতে পারে, যা হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
চিকিৎসকদের পরামর্শ, এই লক্ষণগুলো একবার-দুবার দেখা দিলে আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই, কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে চললে বা একসঙ্গে একাধিক উপসর্গ দেখা গেলে দ্রুত বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনই হতে পারে সাইলেন্ট হার্ট অ্যাটাক প্রতিরোধের মূল উপায়।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

বেনজীরকে ফেরাতে সরকারের প্রক্রিয়া শুরু, জানালেন উপদেষ্টা

০২ আগস্ট ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

বুকে ব্যথা ছাড়াই হৃদ্‌রোগের যে লক্ষণগুলো উপেক্ষা করা বিপজ্জনক

আপডেট সময় ০১:১১:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬

হৃদ্‌রোগ মানেই বুকে চাপ ধরা ব্যথা বা শ্বাসকষ্ট—এমন ধারণাই বেশির ভাগ মানুষের মনে বদ্ধমূল। কিন্তু চিকিৎসকেরা বলছেন, বাস্তবতা এর চেয়ে জটিল। অনেক ক্ষেত্রেই হৃদ্‌যন্ত্র নিঃশব্দে বিকল হতে শুরু করে, আর তার লক্ষণগুলো এমনই সাধারণ যে সেগুলোকে হৃদ্‌রোগের পূর্বাভাস বলে চেনা কঠিন হয়ে পড়ে। এই ধরনের ঘটনাকে বলা হয় ‘সাইলেন্ট হার্ট অ্যাটাক’।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর জরিপ অনুযায়ী, দেশে মোট মৃত্যুর প্রায় এক-পঞ্চমাংশ ঘটে হৃদ্‌রোগের কারণে, যা জনস্বাস্থ্যবিদদের কাছে একটি উদ্বেগজনক বার্তা (Prothomalo) । এমন প্রেক্ষাপটে হৃদ্‌রোগের অস্বাভাবিক ও কম আলোচিত লক্ষণগুলো জানা জরুরি হয়ে পড়ে।
অকারণ ক্লান্তি ও ঘাম
পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রামের পরেও যদি সারাদিন ক্লান্তি না কাটে, দিনের বেলায় ঝিমুনি আসে, অথবা বিনা কারণে গা দিয়ে ঘাম ঝরে—তা অবহেলা করা ঠিক নয়। এই লক্ষণ দীর্ঘদিন ধরে চললে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
মাথা ঘোরা ও মনোযোগহীনতা
হৃদ্‌যন্ত্রের কার্যক্ষমতা কমে গেলে মস্তিষ্কে রক্ত ও অক্সিজেনের প্রবাহ ব্যাহত হয়। হার্ভার্ড মেডিক্যাল স্কুলের গবেষণা অনুযায়ী, এর ফলে আচমকা মাথা ঘোরা, বিভ্রান্তি এবং কাজে অনীহা তৈরি হতে পারে—যা অনেকেই সাধারণ দুর্বলতা বলে উপেক্ষা করেন।
অকারণ কাঁপুনি বা জ্বরভাব
ঠান্ডা-সর্দি না থাকলেও শরীরে কাঁপুনি, জ্বরের অনুভূতি বা পেশিতে টান লাগতে পারে। গবেষকদের মতে, হৃদ্‌কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হলে রক্তে সাইটোকাইন নামের প্রদাহজনক উপাদান নিঃসৃত হয়, যা এমন অনুভূতির জন্ম দেয়।
চোয়াল, ঘাড় ও পিঠে ব্যথা
চোয়াল বা ঘাড়ের নিচের দিকে টানা ব্যথা, কখনো পেশিতে খিঁচুনি—এসবও হৃদ্‌রোগের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে বলে গবেষকেরা জানিয়েছেন।
হজমে সমস্যা ও পেট ফাঁপা
সাইলেন্ট হার্ট অ্যাটাকে ধমনীতে রক্ত সঞ্চালন বাধাগ্রস্ত হলে ভেগাস স্নায়ু উত্তেজিত হয়। এই স্নায়ু পরিপাকতন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত থাকায় বমিভাব, অম্বল বা পেট ফাঁপার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে, যাকে প্রায়ই সাধারণ গ্যাস্ট্রিক সমস্যা ভেবে ভুল করা হয়।
পা বা গোড়ালি ফোলা
পায়ে বা গোড়ালিতে পানি জমে ফুলে যাওয়া রক্তে উচ্চ মাত্রার খারাপ কোলেস্টেরলের সংকেত হতে পারে, যা হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
চিকিৎসকদের পরামর্শ, এই লক্ষণগুলো একবার-দুবার দেখা দিলে আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই, কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে চললে বা একসঙ্গে একাধিক উপসর্গ দেখা গেলে দ্রুত বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনই হতে পারে সাইলেন্ট হার্ট অ্যাটাক প্রতিরোধের মূল উপায়।

Share this news as a Photo Card