দেশের সকল কৃষকের একটি নির্ভুল ও স্বচ্ছ তালিকা প্রণয়নের জন্য কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই এই কাজ সম্পন্ন করতে হবে এবং কৃষকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার স্বার্থে যথাযথ যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া অনুসরণ করে এটি বাস্তবায়ন করা জরুরি।
মঙ্গলবার দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগেপ্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত কৃষক কার্ড সংশ্লিষ্ট এক পর্যালোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী এই নির্দেশনা দেন। সভা শেষে গণমাধ্যমকে বিষয়টি অবহিত করেন প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু।
তিনি জানান, সভায় প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন যে কৃষক কার্ডে কৃষকের ব্যক্তিগত পরিচয়ের পাশাপাশি ছবি ও কিউআর কোড সংযুক্ত থাকবে, যার মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন সংক্রান্ত তথ্য, সরকারি প্রণোদনা ও সহায়তার হিসাব এবং কৃষিপণ্যের বাজারদর সম্পর্কিত তথ্যও সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে। এসব দিক মাথায় রেখেই কার্ডটি প্রস্তুত করতে বলেছেন তিনি।
উপ-প্রেস সচিব আরও জানান, কৃষকদের নামে ব্যাংক হিসাব খোলার প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হলে ধাপে ধাপে কৃষকদের হাতে এই কার্ড তুলে দেওয়া হবে।
সরকারের ভর্তুকি, স্বল্প সুদে ঋণ, প্রণোদনা এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা প্রকৃত কৃষকের কাছে দ্রুত ও ঝামেলাহীনভাবে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই এই কার্ড ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে বলে সভায় উল্লেখ করা হয়। চলতি অর্থবছরেই প্রায় ৪৩ লাখ কৃষক এই কার্ডের আওতায় সুবিধা পাবেন বলে জানানো হয়েছে। এছাড়া আগামী তিন বছরের মধ্যে দেশের প্রায় দুই কোটি কৃষককে এই কর্মসূচির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও সভায় জানানো হয়।
সভায় উপস্থিত ছিলেন কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আমিন উর রশিদ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার এবং প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শাকিরুল ইসলাম খান।
সভায় আরও যোগ দেন দলীয় বিশেষ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন এবং বাংলাদেশ দুগ্ধ উৎপাদনকারী সমবায় ইউনিয়ন লিমিটেডের সভাপতি এস এম আমীর হামজা শাতিল। এর পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিব এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও সভায় অংশ নেন।
কৃষক কার্ড কার্যক্রমকে দেশের কৃষি খাতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর মাধ্যমে একদিকে যেমন প্রকৃত কৃষক শনাক্তকরণ সহজ হবে, তেমনি সরকারি সহায়তা বিতরণে স্বচ্ছতাও বাড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। ডিজিটাল পদ্ধতিতে তথ্য সংরক্ষণের ফলে ভবিষ্যতে নীতিনির্ধারণেও এই তথ্যভাণ্ডার কাজে লাগবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কৃষকদের ব্যাংক হিসাব খোলার কাজ শুরু হওয়ায় আর্থিক অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রেও এটি ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। ধাপে ধাপে সারাদেশে এই কার্যক্রম সম্প্রসারিত হলে কৃষি খাতে সরকারি সহায়তা প্রাপ্তির প্রক্রিয়া আরও সহজ ও দ্রুত হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
শিরোনাম :
ডিসেম্বরের মধ্যেই দেশের সব কৃষকের তালিকা করার নির্দেশ
-
চলমান বার্তা ডেস্ক : - আপডেট সময় ০৫:১৬:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬
- 12
ট্যাগস
উপকৃত হবেন লাখো কৃষক পরিবার। নির্ভুল কৃষক তালিকা ও কৃষক কার্ড প্রণয়নে প্রধানমন্ত্রীর সুস্পষ্ট নির্দেশনা
জনপ্রিয় সংবাদ





















