সিলেট নগরীর একটি বাসা থেকে একসঙ্গে তিনজনের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার সকালে নগরীর রায়নগর মিতালি আবাসিক এলাকার একটি বাড়ি থেকে স্বামী-স্ত্রী এবং তাদের গৃহপরিচারিকার নিথর দেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে দেখা দিয়েছে গভীর উদ্বেগ ও কৌতূহল।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকাল নয়টার দিকে মিতালি আবাসিক এলাকার ১১১ নম্বর বাসা থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়। ওই বাসার বাসিন্দা ছিলেন হাজী আব্দুস সত্তার মিয়া, যিনি এলাকায় একজন মুরুব্বি হিসেবে পরিচিত এবং স্থানীয়দের কাছে সম্মানিত একজন ব্যক্তি বলে পরিচিতি রয়েছে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন সত্তার মিয়া নিজে, তার স্ত্রী এবং তাদের বাসায় কর্মরত এক গৃহপরিচারিকা।
স্থানীয়রা জানান, সকালে বাসাটি থেকে কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে প্রতিবেশীদের মনে সন্দেহ জাগে। পরে খোঁজ নিতে গিয়ে ভেতরে তিনজনের নিথর দেহ দেখতে পান তারা। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয়রা পুলিশে যোগাযোগ করেন এবং মুহূর্তের মধ্যে গোটা এলাকায় খবরটি ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাস্থলে ভিড় জমান উৎসুক জনতা, তৈরি হয় থমথমে পরিবেশ।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যায় পুলিশের একাধিক দল। মরদেহ উদ্ধারের পাশাপাশি আলামত সংগ্রহে কাজ শুরু করে তদন্তকারী কর্মকর্তারা। বাড়িটি ঘিরে রাখা হয়েছে যাতে কোনো ধরনের আলামত নষ্ট না হয়। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে হত্যাকাণ্ড হিসেবে আশঙ্কা করা হলেও এর পেছনের প্রকৃত কারণ এখনো স্পষ্ট নয়।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (মিডিয়া) মো. মনজুরুল আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডের খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং বিস্তারিত পরে জানানো হবে বলে জানান তিনি।
একই বিষয়ে কোতোয়ালি থানার ওসি খান মো. মঈনুল জাকির বলেন, স্থানীয়দের কাছ থেকে এ ধরনের একটি খবর শোনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা দেয়। তিনি আরও জানান, ঘটনার সার্বিক দিক খতিয়ে দেখার পর বিস্তারিত তথ্য গণমাধ্যমকে জানানো হবে।
এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, হাজী আব্দুস সত্তার মিয়া দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় বসবাস করছিলেন এবং তার আচরণ ও সামাজিক অবস্থানের কারণে প্রতিবেশীদের কাছে তিনি ছিলেন শ্রদ্ধার পাত্র। এমন একজন মানুষের পরিবারে এভাবে করুণ পরিণতির খবরে হতবাক হয়ে পড়েছেন এলাকার মানুষ। অনেকেই ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে নানা প্রশ্ন তুলছেন, তবে কোনো পক্ষ থেকেই এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য মেলেনি।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে পারিবারিক কোনো কারণ, ডাকাতি, নাকি অন্য কোনো বিষয় জড়িত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হবে বলেও জানা গেছে, যার প্রতিবেদন থেকে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে বলে আশা করছেন তদন্তকারীরা।
এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং আশপাশের বাসিন্দাদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ। ঘটনার রহস্য উদঘাটনে একাধিক দিক থেকে তদন্ত চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। পুরো বিষয়টি নিয়ে এলাকাজুড়ে এখন উৎকণ্ঠা আর জল্পনা-কল্পনার শেষ নেই। বিস্তারিত তথ্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে জানানো হবে বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ প্রশাসন।
চলমান বার্তা ডেস্ক : 



















