শিরোনাম :
বিশ্ববাজারে আবারও বাড়লো তেলের দাম আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের খবর গুজব: তথ্যমন্ত্রী সিলেটে বাসা থেকে স্বামী-স্ত্রীসহ তিনজনের মরদেহ উদ্ধার হরমুজ প্রণালিতে ফের মার্কিন হামলা, ক্ষেপণাস্ত্রে অচল কার্গো জাহাজ দেশকে অর্থনৈতিক-সামাজিকভাবে শক্তিশালী অবস্থান করা সরকারের লক্ষ্য বাংলাদেশিকে তুলে নেওয়ার পর ২ ভারতীয়কে ধরে আনা হয়, বৈঠকে হস্তান্তর পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে না পারা সমগ্র জীবনের সাফল্য বা ব্যর্থতা পরিমাপ করা সমীচীন কী বিদেশি বিনিয়োগকারীদের পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিলেন প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পর বসছে সংসদের তৃতীয় অধিবেশন অন্য কেউ বাড়ায়নি ,মিল্কভিটার দুধের দাম বাড়লো কেন?

বিশ্ববাজারে আবারও বাড়লো তেলের দাম

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়াবাড়ি রকম ঝুঁকিপূর্ণ পথে হাঁটছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তি নিয়ে দোদুল্যমান পরিস্থিতির মধ্যেই আজ বুধবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দর আরও একদফা বৃদ্ধি পেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে অপরিশোধিত তেলের বড় ধরনের মজুত বেড়ে যাওয়ার তথ্য প্রকাশিত হলেও, তাতে দামের এই ঊর্ধ্বমুখী স্রোত থামেনি; বরং মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির রাজনৈতিক আবহাওয়াই এখন বাজারের চালিকাশক্তি হয়ে উঠেছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৭৫ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৮৪ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৯ দশমিক ৬৬ ডলারে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম বেড়েছে ৭২ সেন্ট, শতাংশের হিসাবে যা শূন্য দশমিক ৮৭ ভাগ। এতে প্রতি ব্যারেল ডব্লিউটিআই ক্রুডের দর ঠেকেছে ৮৩ দশমিক ৯২ ডলারে। তবে দিনের লেনদেন শুরুর দিকে দুই ধরনের জ্বালানি তেলেরই দাম ব্যারেলপ্রতি এক ডলারের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছিল, যা পরবর্তীতে সামান্য সংশোধিত হয়।

এই ঊর্ধ্বগতি কোনো এক দিনের ঘটনা নয়। এর আগের দিন, অর্থাৎ মঙ্গলবারও উভয় বেঞ্চমার্ক তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি এক ডলারের বেশি বেড়ে গত ৩১ জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে গিয়ে ঠেকেছিল। আর তারও আগে সোমবার তেলের দাম এক লাফেই প্রায় পাঁচ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়, যা সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানি বাজারে অন্যতম বড় উল্লম্ফন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। মূলত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধ ও হামলায় ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নতুন দাবি সামনে আনার পরই ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান শান্তি আলোচনার সম্ভাবনা ক্রমশ ক্ষীণ হতে শুরু করে, আর তারই প্রতিচ্ছবি পড়েছে তেলের বাজারে।

সিঙ্গাপুরভিত্তিক ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান ফিলিপ নোভার বাজার বিশ্লেষক প্রিয়াঙ্কা সচদেবা এই পরিস্থিতিকে তুলনা করেছেন এক অদ্ভুত দোলনার সঙ্গে, যেখানে মধ্যপ্রাচ্য যেন প্রতিনিয়ত দুলছে শান্তি চুক্তি আর যুদ্ধের মাঝামাঝি এক অনিশ্চিত বিন্দুতে। তার ভাষ্যমতে, এই টানাপোড়েনের কারণেই তেলের বাজার ব্যারেলপ্রতি ৭০ থেকে ৯০ ডলারের একটি সংকীর্ণ পরিসরে ওঠানামা করে চলেছে, যা বিনিয়োগকারীদের জন্য এক ধরনের অনিশ্চয়তার জন্ম দিচ্ছে।

উত্তেজনার আগুনে ঘি ঢেলেছে সাম্প্রতিক কিছু ঘটনাও। গত মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালি এবং বাব আল-মানদেব প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর নতুন করে পৃথক দুটি হামলার খবর নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা। এই হামলাগুলো বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত স্পর্শকাতর একটি জলপথে নিরাপত্তাহীনতার নতুন মাত্রা যোগ করেছে। পাশাপাশি ইরানের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা কর্মকর্তা মহসিন রেজাই কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের অবরুদ্ধ সম্পত্তি ফিরিয়ে না দেয় এবং আঞ্চলিক সংঘাত বন্ধের শর্ত পূরণ না করে, তাহলে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখা হবে। বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল সরবরাহের একটি বড় অংশ এই প্রণালি দিয়েই পরিবাহিত হয় বলে এমন হুঁশিয়ারি স্বাভাবিকভাবেই বাজারে উদ্বেগ ছড়িয়ে দিয়েছে।

এদিকে মঙ্গলবার এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরান প্রসঙ্গে দুটি বিপরীতমুখী সম্ভাবনার কথাই তুলে ধরেছেন—একদিকে ছাড় দেওয়ার ইঙ্গিত, অন্যদিকে কঠোর আঘাত হানার হুমকি। পুরো সংঘাত জুড়েই তার এই দ্বৈত অবস্থান লক্ষ্য করা গেছে; কখনো তীব্র হুমকির সুর, আবার কখনো দ্রুতই শান্তি চুক্তি সম্পাদনের আশাবাদ প্রকাশ করতে দেখা গেছে তাকে। এই অস্থির কূটনৈতিক বার্তাই বাজারকে দিশাহীন করে তুলছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

তবে বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এই কূটনৈতিক অনিশ্চয়তা স্বল্পমেয়াদি বিনিয়োগকারীদের জন্য বরং মুনাফা অর্জনের এক বিশেষ সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছে। দামের ঘন ঘন ওঠানামাকে কাজে লাগিয়ে অনেকেই দ্রুত লাভের পথ খুঁজে নিচ্ছেন। জাহাজ চলাচল সংক্রান্ত তথ্য বলছে, উত্তেজনার প্রভাবে মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালি অতিক্রমকারী জাহাজের সংখ্যা নেমে এসেছে মাত্র আটটিতে। অথচ যুদ্ধ শুরুর আগে প্রতিদিন গড়ে ১২৫ থেকে ১৪০টি জাহাজ এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে নিয়মিত চলাচল করত। এই বিশাল ব্যবধানই স্পষ্ট করে দেয়, সংঘাতের প্রভাব কতটা গভীরভাবে পড়েছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও পরিবহন খাতে।

সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়েও একটি বিপরীতমুখী চিত্র উঠে এসেছে সাম্প্রতিক তথ্যে। আমেরিকান পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউটের (এপিআই) হিসাব অনুযায়ী, গত ৭ আগস্ট শেষ হওয়া সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেলের মজুত হঠাৎ করেই বেড়েছে ৯ দশমিক ১ মিলিয়ন ব্যারেল। স্বাভাবিক নিয়মে এত বড় মাত্রায় মজুত বৃদ্ধি হলে বাজারে দাম কমার কথা, কেননা তা সরবরাহ পর্যাপ্ততার ইঙ্গিত দেয়। প্রাথমিক পূর্বাভাসের তুলনায় এই বৃদ্ধির পরিমাণ ছিল অনেক বেশি। তবু মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এতটাই প্রবল যে, সরবরাহ নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি দুশ্চিন্তাই আপাতত বাজারকে টেনে তুলছে ওপরের দিকে।

সব মিলিয়ে এই মুহূর্তে বিশ্ব জ্বালানি বাজার এক জটিল সমীকরণের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে—একদিকে প্রাচুর্যপূর্ণ মজুত, অন্যদিকে সংঘাতের ছায়ায় ঢাকা সরবরাহ পথ। কূটনৈতিক টেবিলে শান্তির আলোচনা যতদিন না চূড়ান্ত রূপ নেয়, ততদিন এই দোলাচল অব্যাহত থাকার সম্ভাবনাই বেশি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশ্ব অর্থনীতির জন্য স্পর্শকাতর এই সময়ে জ্বালানি তেলের দামের গতিপ্রকৃতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণে রাখছেন নীতিনির্ধারক থেকে শুরু করে বিনিয়োগকারী—সকলেই।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

বিশ্ববাজারে আবারও বাড়লো তেলের দাম

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

অন্য কেউ বাড়ায়নি ,মিল্কভিটার দুধের দাম বাড়লো কেন?

১১ আগস্ট ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

বিশ্ববাজারে আবারও বাড়লো তেলের দাম

আপডেট সময় ০৩:২১:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়াবাড়ি রকম ঝুঁকিপূর্ণ পথে হাঁটছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তি নিয়ে দোদুল্যমান পরিস্থিতির মধ্যেই আজ বুধবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দর আরও একদফা বৃদ্ধি পেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে অপরিশোধিত তেলের বড় ধরনের মজুত বেড়ে যাওয়ার তথ্য প্রকাশিত হলেও, তাতে দামের এই ঊর্ধ্বমুখী স্রোত থামেনি; বরং মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির রাজনৈতিক আবহাওয়াই এখন বাজারের চালিকাশক্তি হয়ে উঠেছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৭৫ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৮৪ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৯ দশমিক ৬৬ ডলারে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম বেড়েছে ৭২ সেন্ট, শতাংশের হিসাবে যা শূন্য দশমিক ৮৭ ভাগ। এতে প্রতি ব্যারেল ডব্লিউটিআই ক্রুডের দর ঠেকেছে ৮৩ দশমিক ৯২ ডলারে। তবে দিনের লেনদেন শুরুর দিকে দুই ধরনের জ্বালানি তেলেরই দাম ব্যারেলপ্রতি এক ডলারের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছিল, যা পরবর্তীতে সামান্য সংশোধিত হয়।

এই ঊর্ধ্বগতি কোনো এক দিনের ঘটনা নয়। এর আগের দিন, অর্থাৎ মঙ্গলবারও উভয় বেঞ্চমার্ক তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি এক ডলারের বেশি বেড়ে গত ৩১ জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে গিয়ে ঠেকেছিল। আর তারও আগে সোমবার তেলের দাম এক লাফেই প্রায় পাঁচ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়, যা সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানি বাজারে অন্যতম বড় উল্লম্ফন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। মূলত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধ ও হামলায় ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নতুন দাবি সামনে আনার পরই ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান শান্তি আলোচনার সম্ভাবনা ক্রমশ ক্ষীণ হতে শুরু করে, আর তারই প্রতিচ্ছবি পড়েছে তেলের বাজারে।

সিঙ্গাপুরভিত্তিক ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান ফিলিপ নোভার বাজার বিশ্লেষক প্রিয়াঙ্কা সচদেবা এই পরিস্থিতিকে তুলনা করেছেন এক অদ্ভুত দোলনার সঙ্গে, যেখানে মধ্যপ্রাচ্য যেন প্রতিনিয়ত দুলছে শান্তি চুক্তি আর যুদ্ধের মাঝামাঝি এক অনিশ্চিত বিন্দুতে। তার ভাষ্যমতে, এই টানাপোড়েনের কারণেই তেলের বাজার ব্যারেলপ্রতি ৭০ থেকে ৯০ ডলারের একটি সংকীর্ণ পরিসরে ওঠানামা করে চলেছে, যা বিনিয়োগকারীদের জন্য এক ধরনের অনিশ্চয়তার জন্ম দিচ্ছে।

উত্তেজনার আগুনে ঘি ঢেলেছে সাম্প্রতিক কিছু ঘটনাও। গত মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালি এবং বাব আল-মানদেব প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর নতুন করে পৃথক দুটি হামলার খবর নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা। এই হামলাগুলো বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত স্পর্শকাতর একটি জলপথে নিরাপত্তাহীনতার নতুন মাত্রা যোগ করেছে। পাশাপাশি ইরানের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা কর্মকর্তা মহসিন রেজাই কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের অবরুদ্ধ সম্পত্তি ফিরিয়ে না দেয় এবং আঞ্চলিক সংঘাত বন্ধের শর্ত পূরণ না করে, তাহলে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখা হবে। বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল সরবরাহের একটি বড় অংশ এই প্রণালি দিয়েই পরিবাহিত হয় বলে এমন হুঁশিয়ারি স্বাভাবিকভাবেই বাজারে উদ্বেগ ছড়িয়ে দিয়েছে।

এদিকে মঙ্গলবার এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরান প্রসঙ্গে দুটি বিপরীতমুখী সম্ভাবনার কথাই তুলে ধরেছেন—একদিকে ছাড় দেওয়ার ইঙ্গিত, অন্যদিকে কঠোর আঘাত হানার হুমকি। পুরো সংঘাত জুড়েই তার এই দ্বৈত অবস্থান লক্ষ্য করা গেছে; কখনো তীব্র হুমকির সুর, আবার কখনো দ্রুতই শান্তি চুক্তি সম্পাদনের আশাবাদ প্রকাশ করতে দেখা গেছে তাকে। এই অস্থির কূটনৈতিক বার্তাই বাজারকে দিশাহীন করে তুলছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

তবে বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এই কূটনৈতিক অনিশ্চয়তা স্বল্পমেয়াদি বিনিয়োগকারীদের জন্য বরং মুনাফা অর্জনের এক বিশেষ সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছে। দামের ঘন ঘন ওঠানামাকে কাজে লাগিয়ে অনেকেই দ্রুত লাভের পথ খুঁজে নিচ্ছেন। জাহাজ চলাচল সংক্রান্ত তথ্য বলছে, উত্তেজনার প্রভাবে মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালি অতিক্রমকারী জাহাজের সংখ্যা নেমে এসেছে মাত্র আটটিতে। অথচ যুদ্ধ শুরুর আগে প্রতিদিন গড়ে ১২৫ থেকে ১৪০টি জাহাজ এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে নিয়মিত চলাচল করত। এই বিশাল ব্যবধানই স্পষ্ট করে দেয়, সংঘাতের প্রভাব কতটা গভীরভাবে পড়েছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও পরিবহন খাতে।

সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়েও একটি বিপরীতমুখী চিত্র উঠে এসেছে সাম্প্রতিক তথ্যে। আমেরিকান পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউটের (এপিআই) হিসাব অনুযায়ী, গত ৭ আগস্ট শেষ হওয়া সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেলের মজুত হঠাৎ করেই বেড়েছে ৯ দশমিক ১ মিলিয়ন ব্যারেল। স্বাভাবিক নিয়মে এত বড় মাত্রায় মজুত বৃদ্ধি হলে বাজারে দাম কমার কথা, কেননা তা সরবরাহ পর্যাপ্ততার ইঙ্গিত দেয়। প্রাথমিক পূর্বাভাসের তুলনায় এই বৃদ্ধির পরিমাণ ছিল অনেক বেশি। তবু মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এতটাই প্রবল যে, সরবরাহ নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি দুশ্চিন্তাই আপাতত বাজারকে টেনে তুলছে ওপরের দিকে।

সব মিলিয়ে এই মুহূর্তে বিশ্ব জ্বালানি বাজার এক জটিল সমীকরণের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে—একদিকে প্রাচুর্যপূর্ণ মজুত, অন্যদিকে সংঘাতের ছায়ায় ঢাকা সরবরাহ পথ। কূটনৈতিক টেবিলে শান্তির আলোচনা যতদিন না চূড়ান্ত রূপ নেয়, ততদিন এই দোলাচল অব্যাহত থাকার সম্ভাবনাই বেশি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশ্ব অর্থনীতির জন্য স্পর্শকাতর এই সময়ে জ্বালানি তেলের দামের গতিপ্রকৃতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণে রাখছেন নীতিনির্ধারক থেকে শুরু করে বিনিয়োগকারী—সকলেই।

Share this news as a Photo Card