১২ রানে ৬ উইকেট! স্টার্কের তোপে ৬৪ রানেই শেষ বাংলাদেশ

মিচেল স্টার্কের আগুনে বোলিংয়ের সামনে দাঁড়াতেই পারল না বাংলাদেশ। ম্যাকাই টেস্টের প্রথম ইনিংসে মাত্র ৬৪ রানেই গুটিয়ে যায় টাইগাররা, যা টেস্ট ক্রিকেটে দেশের ইতিহাসে চতুর্থ সর্বনিম্ন সংগ্রহ। এক পর্যায়ে ৩৯ রানে ৯ উইকেট হারিয়ে বসা বাংলাদেশের সামনে তখন উঁকি দিচ্ছিল টেস্ট ইতিহাসের সর্বনিম্ন ৪৩ রানের লজ্জাজনক রেকর্ড। কিন্তু শেষ জুটিতে তাইজুল ইসলাম আর শরিফুল ইসলামের দৃঢ়তায় সেই বিভীষিকা থেকে কোনোমতে রক্ষা পায় দল।

ম্যাচের শুরুটাই ছিল দুঃস্বপ্নের মতো। ইনিংসের একদম প্রথম বলেই সাদমান ইসলামকে ফিরিয়ে দেন স্টার্ক, আর সেখান থেকেই শুরু হয় বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপের ধস। মাত্র ২২ বলের ছোট্ট এক স্পেলে পাঁচ উইকেট তুলে নেন এই বাঁহাতি পেসার। খেলার প্রথম ঘণ্টাতেই মাত্র ১২ রানে পাঁচ উইকেট হারিয়ে বসে বাংলাদেশ, যার মধ্যে তিনজন ব্যাটার ফেরেন কোনো রান না করেই।

মধ্যক্রম কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেছিল। অধিনায়ক মমিনুল হক ১৬ বলে ৯ রান করে স্টার্কের শিকার হন, এরপর লিটন দাসও শূন্য হাতে ফেরেন প্যাভিলিয়নে। মুশফিকুর রহিম কিছুটা সময় উইকেটে টিকে থাকার চেষ্টা করলেও ৪২ বল খেলে মাত্র ৫ রান করে প্যাট কামিন্সের বলে আউট হন। এরপর মেহেদী হাসান মিরাজ ও হাসান মাহমুদও লড়াইয়ের চেষ্টা করেন, কিন্তু দলীয় ৩৬ ও ৩৮ রানে তাঁরাও সাজঘরে ফেরেন। তাসকিন আহমেদও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি, কামিন্সের শিকার হয়ে বিদায় নেন তিনি।

তখন বাংলাদেশের সামনে সত্যিই দাঁড়িয়ে ছিল টেস্ট ইতিহাসের সবচেয়ে বিব্রতকর অধ্যায় রচনার শঙ্কা। সেই মুহূর্তে হাল ধরেন লেজের দুই ব্যাটার শরিফুল ইসলাম ও তাইজুল ইসলাম। দুজন মিলে শেষ উইকেট জুটিতে যোগ করেন ২৫ রান, যার সুবাদে দলীয় সংগ্রহ ৬০-এর কোঠা পেরিয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত শরিফুলকে ফিরিয়ে ইনিংসের ইতি টানেন সেই স্টার্কই।

পরিসংখ্যান বলছে, টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের সর্বনিম্ন সংগ্রহ ৪৩ রান, যা ২০১৮ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে হয়েছিল। এরপর ২০২২ সালে কেপটাউনে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৫৩ রানে গুটিয়ে যায় টাইগাররা। তৃতীয় সর্বনিম্ন সংগ্রহটি এসেছিল ২০০৭ সালে, কলম্বোতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৬২ রানে অলআউট হয়ে। আর এবার ম্যাকাইয়ে ৬৪ রানে অলআউট হয়ে সেই তালিকায় চতুর্থ স্থানে যুক্ত হলো বাংলাদেশ।

ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার তিন পেসারই ভাগাভাগি করে নেন বাংলাদেশের ১০টি উইকেট। মাত্র ১২ রান দিয়ে ছয় উইকেট নিয়ে একাই ইনিংসের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে রাখেন স্টার্ক। অধিনায়ক প্যাট কামিন্স নেন তিন উইকেট, আর বাকি একটি উইকেট শিকার করেন জশ হ্যাজেলউড। বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপের এমন ভরাডুবি নিঃসন্দেহে দলের জন্য বড় এক ধাক্কা, আর ম্যাচে ফেরার লড়াইটা এখন থেকেই কঠিন হয়ে উঠল টাইগারদের জন্য।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান কি ছুটিতে যাচ্ছেন?

২২ আগস্ট ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

১২ রানে ৬ উইকেট! স্টার্কের তোপে ৬৪ রানেই শেষ বাংলাদেশ

আপডেট সময় ১২:২৮:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬

মিচেল স্টার্কের আগুনে বোলিংয়ের সামনে দাঁড়াতেই পারল না বাংলাদেশ। ম্যাকাই টেস্টের প্রথম ইনিংসে মাত্র ৬৪ রানেই গুটিয়ে যায় টাইগাররা, যা টেস্ট ক্রিকেটে দেশের ইতিহাসে চতুর্থ সর্বনিম্ন সংগ্রহ। এক পর্যায়ে ৩৯ রানে ৯ উইকেট হারিয়ে বসা বাংলাদেশের সামনে তখন উঁকি দিচ্ছিল টেস্ট ইতিহাসের সর্বনিম্ন ৪৩ রানের লজ্জাজনক রেকর্ড। কিন্তু শেষ জুটিতে তাইজুল ইসলাম আর শরিফুল ইসলামের দৃঢ়তায় সেই বিভীষিকা থেকে কোনোমতে রক্ষা পায় দল।

ম্যাচের শুরুটাই ছিল দুঃস্বপ্নের মতো। ইনিংসের একদম প্রথম বলেই সাদমান ইসলামকে ফিরিয়ে দেন স্টার্ক, আর সেখান থেকেই শুরু হয় বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপের ধস। মাত্র ২২ বলের ছোট্ট এক স্পেলে পাঁচ উইকেট তুলে নেন এই বাঁহাতি পেসার। খেলার প্রথম ঘণ্টাতেই মাত্র ১২ রানে পাঁচ উইকেট হারিয়ে বসে বাংলাদেশ, যার মধ্যে তিনজন ব্যাটার ফেরেন কোনো রান না করেই।

মধ্যক্রম কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেছিল। অধিনায়ক মমিনুল হক ১৬ বলে ৯ রান করে স্টার্কের শিকার হন, এরপর লিটন দাসও শূন্য হাতে ফেরেন প্যাভিলিয়নে। মুশফিকুর রহিম কিছুটা সময় উইকেটে টিকে থাকার চেষ্টা করলেও ৪২ বল খেলে মাত্র ৫ রান করে প্যাট কামিন্সের বলে আউট হন। এরপর মেহেদী হাসান মিরাজ ও হাসান মাহমুদও লড়াইয়ের চেষ্টা করেন, কিন্তু দলীয় ৩৬ ও ৩৮ রানে তাঁরাও সাজঘরে ফেরেন। তাসকিন আহমেদও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি, কামিন্সের শিকার হয়ে বিদায় নেন তিনি।

তখন বাংলাদেশের সামনে সত্যিই দাঁড়িয়ে ছিল টেস্ট ইতিহাসের সবচেয়ে বিব্রতকর অধ্যায় রচনার শঙ্কা। সেই মুহূর্তে হাল ধরেন লেজের দুই ব্যাটার শরিফুল ইসলাম ও তাইজুল ইসলাম। দুজন মিলে শেষ উইকেট জুটিতে যোগ করেন ২৫ রান, যার সুবাদে দলীয় সংগ্রহ ৬০-এর কোঠা পেরিয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত শরিফুলকে ফিরিয়ে ইনিংসের ইতি টানেন সেই স্টার্কই।

পরিসংখ্যান বলছে, টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের সর্বনিম্ন সংগ্রহ ৪৩ রান, যা ২০১৮ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে হয়েছিল। এরপর ২০২২ সালে কেপটাউনে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৫৩ রানে গুটিয়ে যায় টাইগাররা। তৃতীয় সর্বনিম্ন সংগ্রহটি এসেছিল ২০০৭ সালে, কলম্বোতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৬২ রানে অলআউট হয়ে। আর এবার ম্যাকাইয়ে ৬৪ রানে অলআউট হয়ে সেই তালিকায় চতুর্থ স্থানে যুক্ত হলো বাংলাদেশ।

ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার তিন পেসারই ভাগাভাগি করে নেন বাংলাদেশের ১০টি উইকেট। মাত্র ১২ রান দিয়ে ছয় উইকেট নিয়ে একাই ইনিংসের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে রাখেন স্টার্ক। অধিনায়ক প্যাট কামিন্স নেন তিন উইকেট, আর বাকি একটি উইকেট শিকার করেন জশ হ্যাজেলউড। বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপের এমন ভরাডুবি নিঃসন্দেহে দলের জন্য বড় এক ধাক্কা, আর ম্যাচে ফেরার লড়াইটা এখন থেকেই কঠিন হয়ে উঠল টাইগারদের জন্য।

Share this news as a Photo Card