শিরোনাম :

পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান কি ছুটিতে যাচ্ছেন?

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি অস্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। একই মন্ত্রণালয়ে এখন দায়িত্ব পালন করছেন দুজন প্রতিমন্ত্রী। এতদিন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে ছিলেন শামা ওবায়েদ ইসলাম। সম্প্রতি মন্ত্রিসভায় রদবদলের সময় প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ূন কবিরকেও একই দায়িত্বে যুক্ত করা হয়েছে। ফলে একটি মন্ত্রণালয়ে দুই প্রতিমন্ত্রীর উপস্থিতি নিয়ে আলোচনা চলছে বিভিন্ন মহলে।
এই ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে নতুন করে সামনে এসেছে একটি প্রশ্ন—আগামী এক বছরের জন্য পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান কি নিজের দায়িত্ব থেকে বিরতি নিতে যাচ্ছেন?
জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদ অধিবেশনের সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছে বাংলাদেশ, আর সেই দায়িত্বে থাকবেন ড. খলিলুর রহমান নিজেই। প্রার্থী থাকাকালে জাতিসংঘে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছিলেন, মন্ত্রিত্ব ছাড়ার কোনো পরিকল্পনা তার নেই, তবে প্রয়োজনে ছুটি নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এরপর থেকেই কূটনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে তার সম্ভাব্য ছুটির বিষয়টি।
কূটনীতি সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, অতীতে একই ব্যক্তির দুটি গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকার নজির খুব কম হলেও একেবারে বিরল নয়। তবে লক্ষণীয় বিষয় হলো, যারা এর আগে এই পদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন তাদের অধিকাংশই তখন সরকারি কোনো দায়িত্বে ছিলেন না। সাধারণত সাবেক কূটনীতিক, সাবেক মন্ত্রী কিংবা সাবেক রাষ্ট্রপ্রধানরাই এই পদের জন্য লড়াই করেছেন বলে জানা যায়।
নির্বাচনের আগে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে ড. খলিলুর রহমান বলেছিলেন, পদত্যাগ তার একমাত্র পথ নয়; সরকারপ্রধান তাকে পূর্ণকালীন সময় দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন বলে তিনি জানান।
জয়ের পর দেশে ফেরার পর গত ৪ জুন গণমাধ্যমকর্মীরা তাকে ছুটির প্রসঙ্গে প্রশ্ন করলে তিনি হালকা রসিকতার সুরে জবাব দেন, বিষয়টি নিয়ে অস্থির হওয়ার কিছু নেই এবং এর আগেও এমন নজির রয়েছে বলে মন্তব্য করেন।
নিজের বক্তব্যের সমর্থনে তিনি প্রায় চার দশক আগের একটি উদাহরণ তুলে ধরেন। তিনি জানান, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী যখন জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন, তখন তিনি নিজে তার একান্ত সচিব হিসেবে কাজ করেছিলেন। সে সময় তিনি দুটি দায়িত্বই একযোগে সামলেছিলেন বলে জানান খলিলুর রহমান। তার মতে, ইন্টারনেট-পূর্ব সেই যুগের তুলনায় বর্তমানে প্রযুক্তির কল্যাণে দুটি দায়িত্ব একসঙ্গে সামলানো আরও সহজ ও স্বাভাবিক হয়ে উঠেছে।
জার্মানির সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনালেনা বেয়ারবককে নিয়ে ওঠা প্রসঙ্গের জবাবেও কথা বলেন তিনি। তার ব্যাখ্যায়, বেয়ারবক পদ ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন মূলত রাজনৈতিক কারণে—তার দল নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পরই তিনি মন্ত্রিত্ব হারান, বিষয়টি তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের ফল ছিল না।
আগামী মাসে শুরু হতে যাচ্ছে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন, যেখানে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আগামী ৮ সেপ্টেম্বর শুরু হবে এই অধিবেশন, যার সভাপতিত্ব করবেন ড. খলিলুর রহমান নিজেই।
কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, তিনি অনুপস্থিত থাকাকালে মন্ত্রণালয়ের দৈনন্দিন কার্যক্রম সামলাবেন দুই প্রতিমন্ত্রী। তবে তিনি সত্যিই পুরো এক বছরের জন্য ছুটিতে যাচ্ছেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত করা যায়নি।
এ প্রসঙ্গে মন্তব্য জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তর্জাতিক এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পাওয়ায় আগামী এক বছর তিনি অত্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করবেন। তাই কাজের গতি বাড়াতে সরকার যে সিদ্ধান্ত নেবে, সে অনুযায়ী দলগতভাবে কাজ করার আশ্বাস দেন তিনি।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান কি ছুটিতে যাচ্ছেন?

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিলেন মির্জা ফখরুল

২১ আগস্ট ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান কি ছুটিতে যাচ্ছেন?

আপডেট সময় ০৬:২৪:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি অস্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। একই মন্ত্রণালয়ে এখন দায়িত্ব পালন করছেন দুজন প্রতিমন্ত্রী। এতদিন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে ছিলেন শামা ওবায়েদ ইসলাম। সম্প্রতি মন্ত্রিসভায় রদবদলের সময় প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ূন কবিরকেও একই দায়িত্বে যুক্ত করা হয়েছে। ফলে একটি মন্ত্রণালয়ে দুই প্রতিমন্ত্রীর উপস্থিতি নিয়ে আলোচনা চলছে বিভিন্ন মহলে।
এই ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে নতুন করে সামনে এসেছে একটি প্রশ্ন—আগামী এক বছরের জন্য পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান কি নিজের দায়িত্ব থেকে বিরতি নিতে যাচ্ছেন?
জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদ অধিবেশনের সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছে বাংলাদেশ, আর সেই দায়িত্বে থাকবেন ড. খলিলুর রহমান নিজেই। প্রার্থী থাকাকালে জাতিসংঘে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছিলেন, মন্ত্রিত্ব ছাড়ার কোনো পরিকল্পনা তার নেই, তবে প্রয়োজনে ছুটি নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এরপর থেকেই কূটনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে তার সম্ভাব্য ছুটির বিষয়টি।
কূটনীতি সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, অতীতে একই ব্যক্তির দুটি গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকার নজির খুব কম হলেও একেবারে বিরল নয়। তবে লক্ষণীয় বিষয় হলো, যারা এর আগে এই পদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন তাদের অধিকাংশই তখন সরকারি কোনো দায়িত্বে ছিলেন না। সাধারণত সাবেক কূটনীতিক, সাবেক মন্ত্রী কিংবা সাবেক রাষ্ট্রপ্রধানরাই এই পদের জন্য লড়াই করেছেন বলে জানা যায়।
নির্বাচনের আগে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে ড. খলিলুর রহমান বলেছিলেন, পদত্যাগ তার একমাত্র পথ নয়; সরকারপ্রধান তাকে পূর্ণকালীন সময় দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন বলে তিনি জানান।
জয়ের পর দেশে ফেরার পর গত ৪ জুন গণমাধ্যমকর্মীরা তাকে ছুটির প্রসঙ্গে প্রশ্ন করলে তিনি হালকা রসিকতার সুরে জবাব দেন, বিষয়টি নিয়ে অস্থির হওয়ার কিছু নেই এবং এর আগেও এমন নজির রয়েছে বলে মন্তব্য করেন।
নিজের বক্তব্যের সমর্থনে তিনি প্রায় চার দশক আগের একটি উদাহরণ তুলে ধরেন। তিনি জানান, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী যখন জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন, তখন তিনি নিজে তার একান্ত সচিব হিসেবে কাজ করেছিলেন। সে সময় তিনি দুটি দায়িত্বই একযোগে সামলেছিলেন বলে জানান খলিলুর রহমান। তার মতে, ইন্টারনেট-পূর্ব সেই যুগের তুলনায় বর্তমানে প্রযুক্তির কল্যাণে দুটি দায়িত্ব একসঙ্গে সামলানো আরও সহজ ও স্বাভাবিক হয়ে উঠেছে।
জার্মানির সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনালেনা বেয়ারবককে নিয়ে ওঠা প্রসঙ্গের জবাবেও কথা বলেন তিনি। তার ব্যাখ্যায়, বেয়ারবক পদ ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন মূলত রাজনৈতিক কারণে—তার দল নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পরই তিনি মন্ত্রিত্ব হারান, বিষয়টি তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের ফল ছিল না।
আগামী মাসে শুরু হতে যাচ্ছে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন, যেখানে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আগামী ৮ সেপ্টেম্বর শুরু হবে এই অধিবেশন, যার সভাপতিত্ব করবেন ড. খলিলুর রহমান নিজেই।
কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, তিনি অনুপস্থিত থাকাকালে মন্ত্রণালয়ের দৈনন্দিন কার্যক্রম সামলাবেন দুই প্রতিমন্ত্রী। তবে তিনি সত্যিই পুরো এক বছরের জন্য ছুটিতে যাচ্ছেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত করা যায়নি।
এ প্রসঙ্গে মন্তব্য জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তর্জাতিক এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পাওয়ায় আগামী এক বছর তিনি অত্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করবেন। তাই কাজের গতি বাড়াতে সরকার যে সিদ্ধান্ত নেবে, সে অনুযায়ী দলগতভাবে কাজ করার আশ্বাস দেন তিনি।

Share this news as a Photo Card