দুর্নীতির বিরুদ্ধে আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা : স্থানীয় সরকারমন্ত্রী

গত এক যুগেরও বেশি সময় ধরে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ে যারা অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন, তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া মেনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, তার দল প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাসী নয়, তবে অন্যায়ের ক্ষেত্রে আইন তার নিজস্ব গতিতেই চলবে।
রোববার সচিবালয়ে নিজের দপ্তরে প্রথম কর্মদিবস কাটানোর পর মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভা করেন তিনি। সভা শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব মন্তব্য করেন। এ সময় তার পাশে ছিলেন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, যিনি স্থানীয় সরকার বিষয়ে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজন রাজনীতিক বলে পরিচিত।
সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী বলেন, বিগত সতেরো বছরের প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনার কারণে দেশের দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হয়েছে। তিনি জানান, তার প্রধান অগ্রাধিকার হবে সাধারণ মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণ এবং সরকারি সেবা যেন সঠিকভাবে তাদের দোরগোড়ায় পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করা। পাশাপাশি মন্ত্রণালয়কে দুর্নীতিমুক্ত করে এর হারানো ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
দেশের প্রায় পঞ্চাশটি মন্ত্রণালয়ের মধ্যে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে ভিন্ন এক গুরুত্ব দিয়ে ব্যাখ্যা করেন মন্ত্রী। তার ভাষায়, এই মন্ত্রণালয় সরাসরি সাধারণ জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ত, আর সরকারের মূল দায়িত্বই হলো জনসেবা নিশ্চিত করা। স্থানীয় সরকারব্যবস্থাকে তিনি গণতান্ত্রিক কাঠামোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এই স্তর সঠিকভাবে কাজ করলে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনার সার্বিক কার্যকারিতাও বৃদ্ধি পাবে।
তিনি আরও বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে সেবা সঠিকভাবে পৌঁছে দিতে পারলে তার সুফল কেবল একটি অঞ্চল নয়, বরং সমগ্র দেশ ও সরকার ভোগ করবে। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই তিনি ও তার সহকর্মীরা দায়িত্ব নিয়েছেন বলে জানান। এ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের অভিজ্ঞতা থেকে শেখার আগ্রহও প্রকাশ করেন তিনি।
কর্মকর্তাদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে মন্ত্রী মনে করিয়ে দেন, রাষ্ট্রক্ষমতা যত শক্তিশালীই হোক না কেন, তা সরকারের নিজস্ব সম্পদ নয়। এই ক্ষমতার প্রকৃত উৎস জনগণ। নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ যাদের ভোট দিয়ে ক্ষমতায় বসায়, তাদেরই দায়িত্ব হলো সেই আস্থার প্রতিদান দেওয়া এবং জনকল্যাণে দেশ পরিচালনা করা।
সমাজের সচ্ছল অংশ নিজেদের প্রয়োজন নিজেরাই মেটাতে সক্ষম হলেও দরিদ্র মানুষ মূলত সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল বলে মন্তব্য করেন মন্ত্রী। তাই তাদের ন্যায্য অধিকার ও প্রয়োজন নিশ্চিত করাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
তিনি উল্লেখ করেন, দেশে এখনো একটি উল্লেখযোগ্য জনগোষ্ঠী কোনো না কোনোভাবে দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছে, আর গত সতেরো বছরের অব্যবস্থাপনা তাদের অধিকারকে আরও সংকুচিত করেছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মতো উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন তিনি।
সবশেষে নিজের রাজনৈতিক পটভূমি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণার সঙ্গে জড়িয়ে আছে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নাম। মুক্তিযুদ্ধের সেই কঠিন মুহূর্তে তিনি সাহসিকতার সঙ্গে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে সরাসরি যুদ্ধেও অংশ নেন, যার স্বীকৃতিস্বরূপ জাতি তাকে ‘বীর উত্তম’ খেতাবে ভূষিত করে। তার হাত ধরেই রাজনীতিতে পথচলা শুরু হয়েছিল বলে জানান মন্ত্রী, যিনি দলের প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদেরও একজন।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান কি ছুটিতে যাচ্ছেন?

২২ আগস্ট ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

দুর্নীতির বিরুদ্ধে আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা : স্থানীয় সরকারমন্ত্রী

আপডেট সময় ০২:০২:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬

গত এক যুগেরও বেশি সময় ধরে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ে যারা অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন, তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া মেনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, তার দল প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাসী নয়, তবে অন্যায়ের ক্ষেত্রে আইন তার নিজস্ব গতিতেই চলবে।
রোববার সচিবালয়ে নিজের দপ্তরে প্রথম কর্মদিবস কাটানোর পর মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভা করেন তিনি। সভা শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব মন্তব্য করেন। এ সময় তার পাশে ছিলেন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, যিনি স্থানীয় সরকার বিষয়ে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজন রাজনীতিক বলে পরিচিত।
সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী বলেন, বিগত সতেরো বছরের প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনার কারণে দেশের দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হয়েছে। তিনি জানান, তার প্রধান অগ্রাধিকার হবে সাধারণ মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণ এবং সরকারি সেবা যেন সঠিকভাবে তাদের দোরগোড়ায় পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করা। পাশাপাশি মন্ত্রণালয়কে দুর্নীতিমুক্ত করে এর হারানো ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
দেশের প্রায় পঞ্চাশটি মন্ত্রণালয়ের মধ্যে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে ভিন্ন এক গুরুত্ব দিয়ে ব্যাখ্যা করেন মন্ত্রী। তার ভাষায়, এই মন্ত্রণালয় সরাসরি সাধারণ জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ত, আর সরকারের মূল দায়িত্বই হলো জনসেবা নিশ্চিত করা। স্থানীয় সরকারব্যবস্থাকে তিনি গণতান্ত্রিক কাঠামোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এই স্তর সঠিকভাবে কাজ করলে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনার সার্বিক কার্যকারিতাও বৃদ্ধি পাবে।
তিনি আরও বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে সেবা সঠিকভাবে পৌঁছে দিতে পারলে তার সুফল কেবল একটি অঞ্চল নয়, বরং সমগ্র দেশ ও সরকার ভোগ করবে। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই তিনি ও তার সহকর্মীরা দায়িত্ব নিয়েছেন বলে জানান। এ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের অভিজ্ঞতা থেকে শেখার আগ্রহও প্রকাশ করেন তিনি।
কর্মকর্তাদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে মন্ত্রী মনে করিয়ে দেন, রাষ্ট্রক্ষমতা যত শক্তিশালীই হোক না কেন, তা সরকারের নিজস্ব সম্পদ নয়। এই ক্ষমতার প্রকৃত উৎস জনগণ। নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ যাদের ভোট দিয়ে ক্ষমতায় বসায়, তাদেরই দায়িত্ব হলো সেই আস্থার প্রতিদান দেওয়া এবং জনকল্যাণে দেশ পরিচালনা করা।
সমাজের সচ্ছল অংশ নিজেদের প্রয়োজন নিজেরাই মেটাতে সক্ষম হলেও দরিদ্র মানুষ মূলত সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল বলে মন্তব্য করেন মন্ত্রী। তাই তাদের ন্যায্য অধিকার ও প্রয়োজন নিশ্চিত করাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
তিনি উল্লেখ করেন, দেশে এখনো একটি উল্লেখযোগ্য জনগোষ্ঠী কোনো না কোনোভাবে দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছে, আর গত সতেরো বছরের অব্যবস্থাপনা তাদের অধিকারকে আরও সংকুচিত করেছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মতো উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন তিনি।
সবশেষে নিজের রাজনৈতিক পটভূমি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণার সঙ্গে জড়িয়ে আছে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নাম। মুক্তিযুদ্ধের সেই কঠিন মুহূর্তে তিনি সাহসিকতার সঙ্গে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে সরাসরি যুদ্ধেও অংশ নেন, যার স্বীকৃতিস্বরূপ জাতি তাকে ‘বীর উত্তম’ খেতাবে ভূষিত করে। তার হাত ধরেই রাজনীতিতে পথচলা শুরু হয়েছিল বলে জানান মন্ত্রী, যিনি দলের প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদেরও একজন।

Share this news as a Photo Card