গ্রামীণফোনের ‘অপারেটরস প্রসিডিউর অ্যান্ড সিস্টেমস অডিট’ পরিচালনার দায়িত্ব পাওয়া অডিট প্রতিষ্ঠান হাওলাদার ইউনুস অ্যান্ড কো., চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টসের কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে স্বার্থের সংঘাতের অভিযোগ তোলার পরই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
lগ্রামীণফোনের ২০১৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ের কার্যক্রম পর্যালোচনার জন্য টেন্ডারের মাধ্যমে প্রায় ৩ কোটি ১৭ লাখ টাকার এই অডিট কাজ পায় হাওলাদার ইউনুস অ্যান্ড কো.। ওই টেন্ডারে দ্বিতীয় স্থানে থাকা প্রতিষ্ঠান এম এ ফজল অ্যান্ড কো. পরে বিটিআরসির কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে। চূড়ান্ত মূল্যায়নে হাওলাদার ইউনুস অ্যান্ড কো. ৭৭.৪৫ নম্বর পেয়ে কাজ পায়, আর এম এ ফজল অ্যান্ড কো. পায় ৭৪.১৯ নম্বর।
তবে খাত-সংশ্লিষ্ট অনেকে মনে করছেন, টেন্ডারে হেরে যাওয়া প্রতিষ্ঠানের করা এই অভিযোগ পুরোপুরি নিরপেক্ষ দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা কঠিন।
অভিযোগের মূল বিষয়
অভিযোগে বলা হয়েছে, বিজয়ী কনসোর্টিয়ামের কারিগরি প্রস্তাবে মূল বিশেষজ্ঞ হিসেবে মনোনীত ব্যক্তি এর আগে ভিন্ন একটি অডিট প্রতিষ্ঠানে কর্মরত অবস্থায় ২০২১ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত গ্রামীণফোনের ‘আইটি সিস্টেমস অ্যান্ড কন্ট্রোলস’-সংক্রান্ত পর্যালোচনায় যুক্ত ছিলেন এবং তখন সন্তোষজনক প্রতিবেদন দিয়েছিলেন। এখন বিটিআরসির নিয়ন্ত্রক অডিটেও একই বিষয় পর্যালোচনার আওতায় থাকায় এতে স্বার্থের সংঘাত ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে অভিযোগকারী প্রতিষ্ঠান। তাদের দাবি, নিজের আগের কাজ নিজেই মূল্যায়ন করার প্রশ্নে ওই বিশেষজ্ঞের পক্ষে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ মতামত দেওয়া সম্ভব নয়, তাই সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত নিয়ম অনুযায়ী কনসোর্টিয়ামের যোগ্যতা পুনর্যাচাই করা প্রয়োজন।
এ ছাড়া গ্রামীণফোনের ভেতরে সংবেদনশীল তথ্যের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে, যেহেতু আগের অডিটে যুক্ত থাকা একই ব্যক্তি এখন নিয়ন্ত্রক অডিটেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় রয়েছেন। যদিও এই বিষয়ে গ্রামীণফোনের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগের তথ্য পাওয়া যায়নি।
সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য
গ্রামীণফোনের চিফ কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার বলেছেন, স্বার্থের সংঘাতের বিষয়টি তাঁরা অবগত এবং আশা করছেন বিটিআরসি প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। অভিযুক্ত অডিট প্রতিষ্ঠানের কাছে একাধিকবার বক্তব্য জানতে চাওয়া হলেও তারা সাড়া দেয়নি।
বিটিআরসির পদক্ষেপ
বিষয়টি নিয়ে সরকারি ক্রয় কর্তৃপক্ষের (বিপিপিএ) মতামত চাওয়ার পর সরকারি ক্রয় বিধিমালা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়ার নির্দেশনা পায় বিটিআরসি। এরপর অভিযোগ তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অডিট কার্যক্রম এবং সংশ্লিষ্ট বিল পরিশোধ স্থগিত রাখা হয়েছে
এস কে চন্দন, ঢাকা 

























