ইরানের দেওয়া সাত দিনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফিরিয়ে দেওয়ায় বিশ্ববাজারে আবার অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। মূল্যস্ফীতি নিয়ে নতুন উদ্বেগের মধ্যে আজ সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বেড়েছে তেলের দাম ও বন্ডের সুদহার। বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
গত সপ্তাহে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যুদ্ধবিরতির পরিকল্পনাটি তুলে ধরে ইরান। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলে হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়া হবে। বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের জন্য এই নৌপথ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরবরাহ সংকটে পণ্য ও জ্বালানির যে খরচ এখন বেড়েছে, প্রণালি খুললে তা কিছুটা কমার সুযোগ তৈরি হতে পারত।
কিন্তু হোয়াইট হাউসের বাইরে সাংবাদিকদের সামনে ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ‘আমি তাদের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করছি।’ অবশ্য এরপর অ্যাক্সিওসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আলোচনার দরজা পুরোপুরি বন্ধ করেননি তিনি। ট্রাম্প বলেন, ইরান চুক্তি করতে চায়, তবে তারা যেমন চুক্তি চায়, তা তিনি করতে চান না। তাঁর ভাষায়, এক বছর আগে হয়তো এমন চুক্তিতে রাজি হওয়া যেত, কিন্তু ইরান নিজেদের অবস্থান প্রয়োজনের চেয়ে বেশি কঠোর করে ফেলেছে।
অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা সোমবার থেকেই শুরু হতে পারে। তবে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার প্রশ্নে ইরান এখনো নিজেদের শর্তে অনড়। শর্তগুলো হলো জব্দ করা ইরানি সম্পদ ছেড়ে দেওয়া, ইরানি তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া এবং মার্কিন নৌ অবরোধের অবসান।
এর মধ্যে ইয়েমেনের পুরো লোহিত সাগর উপকূল ও বাব আল-মান্দাব প্রণালি হুতিরা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ায় বৈশ্বিক জাহাজ চলাচল আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
বাজারে কী প্রভাব
যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবের খবর প্রকাশের পর গত শুক্রবার তেলের দাম দুই শতাংশের বেশি কমেছিল। নতুন সপ্তাহের শুরুতেই সেই দাম আবার বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৬ ডলারের ওপরে উঠেছে।
দীর্ঘ ছুটির পর সোমবার লেনদেন শুরু হলে দক্ষিণ কোরিয়ার সিউল শেয়ারবাজারের প্রধান সূচক দুই শতাংশের বেশি কমে যায়। টোকিও, সাংহাই, ম্যানিলা, ব্যাংকক ও জাকার্তার বাজারেও দরপতন হয়েছে। বিপরীতে হংকং, সিডনি, সিঙ্গাপুর ও ওয়েলিংটনে সূচক বেড়েছে।
বন্ডবাজারেও চাপ স্পষ্ট। ব্লুমবার্গের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী বন্ডের গড় সুদহার গত সপ্তাহে চার শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। ২০০৭ সালের পর এই প্রথম সুদহার এতটা বাড়ল।
নজর ফেডের দিকে
তেল ও অন্যান্য পণ্যের দাম বাড়ায় এখন বাজারের নজর যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের পরবর্তী নীতিনির্ধারণী বৈঠকের দিকে। বৈঠকটি অক্টোবরের শেষ দিকে হওয়ার কথা। সিএমইর ফেডওয়াচ টুলের হিসাবে, টানা দ্বিতীয়বারের মতো সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা ৬৫ শতাংশের বেশি বলে বাজারে ধারণা করা হচ্ছে। তার আগে চলতি সপ্তাহে ফেডের পছন্দের মূল্যস্ফীতি সূচক ও একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসংস্থান প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে, যার দিকে তাকিয়ে আছেন বিনিয়োগকারীরা।
কুইনটেক্স ইন্টেলের স্টিফেন ইনেস বলেন, ট্রাম্পের প্রত্যাখ্যানের পর মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা আবার বেড়েছে। তেলের দাম চড়েছে, এশিয়ার শেয়ারবাজার দুর্বল হয়েছে। শুক্রবার বন্ডবাজারে যে স্বস্তি দেখা গিয়েছিল, এখন তাকে স্থায়ী স্বস্তির বদলে সাময়িক বিরতি বলেই মনে হচ্ছে। তবে ইনেসের মতে, বাজার এখনো একটি সম্ভাবনা ধরে রেখেছে: শেষ পর্যন্ত সবাই আবার আলোচনার টেবিলে ফিরতে পারে।
এস কে চন্দন, ঢাকা 



















