শিরোনাম :
কুড়িগ্রামে তিন সরকারি ভবনে ৮৮ কিলোওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন, উদ্বৃত্ত যাচ্ছে জাতীয় গ্রিডে
-
নুরুল আমিন, স্টাফ রিপোর্টার - আপডেট সময় ০১:৪৬:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
- 12
কুড়িগ্রামে তিনটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের ছাদে স্থাপিত সৌর প্যানেল থেকে উৎপাদিত হচ্ছে ৮৮ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর ও নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানির (নেসকো) ছাদে স্থাপিত এসব সৌর প্যানেল থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ দিয়ে দিনের বেলায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের চাহিদার একটি বড় অংশ পূরণ করা হচ্ছে। ব্যবহারের পর উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ নেট মিটারিং ব্যবস্থায় জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, সরকারি ভবনের অব্যবহৃত ছাদে সৌর প্যানেল স্থাপনের উদ্যোগ সম্প্রসারণ করা গেলে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের পাশাপাশি জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ কমানো সম্ভব হবে। কুড়িগ্রাম জেলার সরকারি অফিসগুলোর প্রায় সোয়া চার লাখ বর্গফুট ছাদে সৌর প্যানেল স্থাপন করা গেলে প্রায় ৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ছাদে সারিবদ্ধভাবে স্থাপন করা হয়েছে ৭২টি সৌর প্যানেল। এসব প্যানেল থেকে উৎপাদিত হচ্ছে ৪৫ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ। সরকারের অগ্রাধিকার প্রকল্পের আওতায় স্থাপিত এ রুফটপ সোলার সিস্টেমে ব্যয় হয়েছে ২০ লাখ ৩৪ হাজার টাকা। প্যানেলগুলোর সঙ্গে ইন্টারনেট সংযোগ সুবিধাসম্পন্ন দুটি অন-গ্রিড ইনভার্টার যুক্ত রয়েছে। চলতি বছরের ১ অক্টোবর থেকে এ ব্যবস্থায় বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়েছে।
অন্যদিকে, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ছাদে স্থাপিত সৌর প্যানেল থেকে ৩৩ কিলোওয়াট এবং নেসকোর ছাদে স্থাপিত প্যানেল থেকে ১০ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে। তিনটি প্রতিষ্ঠানে সব মিলিয়ে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা ৮৮ কিলোওয়াট। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানগুলোর বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ১০৫ কিলোওয়াট। ফলে উৎপাদন সক্ষমতার হিসাবে সৌরবিদ্যুৎ দিয়ে তাদের মোট চাহিদার প্রায় ৮৪ শতাংশ পূরণের সুযোগ রয়েছে। তবে প্রকৃত সরবরাহ নির্ভর করবে সূর্যালোক, উৎপাদনের সময় ও তাৎক্ষণিক বিদ্যুৎ ব্যবহারের ওপর।
জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্র জানায়, সৌর প্যানেল থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ সরাসরি অফিসের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। ছুটির দিন কিংবা বিদ্যুতের ব্যবহার কম থাকলে উৎপাদিত বিদ্যুতের উদ্বৃত্ত অংশ নেট মিটারিং ব্যবস্থার মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে। এতে প্রচলিত বিদ্যুতের ব্যবহার ও ব্যয় কমানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।
কুড়িগ্রাম গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুল্লাহ-আল-ফারুক জানান, পর্যায়ক্রমে সরকারি অফিস-আদালতের ভবনে সৌর প্যানেল স্থাপনের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রয়োজনীয় তথ্য চাওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এসব তথ্য সরবরাহ করা হয়েছে। সরকারি ভবনের ছাদে সৌর প্যানেল স্থাপন করা গেলে বিদ্যুতের চাহিদা কমানোর পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো সম্ভব হবে।
কুড়িগ্রাম নেসকোর নির্বাহী প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলাম জানান, জেলার সরকারি অফিসগুলোর প্রায় সোয়া চার লাখ বর্গফুট ছাদে সৌর প্যানেল স্থাপন করা গেলে প্রায় ৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে স্থানীয় পর্যায়ে বিদ্যুতের চাহিদা পূরণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, সরকারি ভবনের ছাদকে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের কাজে লাগানো হলে নতুন করে জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন ছাড়াই নবায়নযোগ্য জ্বালানির উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব। এতে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের পাশাপাশি জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানো এবং পরিবেশবান্ধব জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হবে।
তবে এ সম্ভাবনা বাস্তবায়নে সরকারি ভবনের ছাদের উপযোগিতা যাচাই, প্রয়োজনীয় অর্থায়ন, কারিগরি সক্ষমতা এবং উৎপাদিত বিদ্যুতের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। পরিকল্পনা অনুযায়ী সৌর প্যানেল স্থাপন করা গেলে কুড়িগ্রামে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিদ্যুৎ ব্যয় কমানোর পাশাপাশি জাতীয় গ্রিডে নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের সরবরাহ বাড়তে পারে।
ট্যাগস
রংপুর বিভাগ
জনপ্রিয় সংবাদ




















