কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে একটি রিসোর্টের অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারিয়েছেন ১০ জন। নিহতদের মধ্যে পাঁচজন নারী এবং পাঁচ বছর বয়সী একটি শিশু রয়েছে। এ ঘটনায় দগ্ধ আরও ছয়জন কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে মেরিন ড্রাইভ সড়কসংলগ্ন পাটোয়ারটেক সৈকতের টুপটুপ রিসোর্টে আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, সকাল ৭টা ২৫ মিনিটে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ আগুনের খবর পায়। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ফায়ার সার্ভিসের দল। সকাল ৮টা থেকে তারা আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে এবং ৮টা ১৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তিনটি ইউনিট এই অভিযানে অংশ নেয়। আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও রিসোর্টের ভেতর থেকে একে একে মরদেহ উদ্ধারের কাজ চলতে থাকে।
ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তরের স্টেশন অফিসার তালহা বিন জসিম ১০ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছেন। কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ হোসেন জানান, উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর শনাক্তকরণ ও উদ্ধারকাজ এখনো চলছে।
এখন পর্যন্ত ছয়জনের পরিচয় জানা গেছে। তাঁরা হলেন ঢাকার বনশ্রীর ইসরাত জাহান মালিহা (৩০) ও মিলিতা মেহেজাবিন আলভী (২৩), খিলগাঁওয়ের লায়লা জাহান নাবিলা (২৭) ও নাফিসতা মীম (২৭), চুয়াডাঙ্গার ফারিহা কবির (৩৩) এবং পাঁচ বছর বয়সী ফায়িজান আহম্মেদ। কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা সুবক্তগীন মাহমুদ সোহেল এই ছয়জনের পরিচয় নিশ্চিত করেছেন। একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাঁরা সবাই একই পরিবারের সদস্য। বাকি চারজনের পরিচয় এখনো জানা যায়নি।
দগ্ধ ছয়জনের মধ্যে রয়েছেন মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক শিহাব উদ্দীন (৩১), তাঁর স্ত্রী নাফিজা নেওয়াজ খান (২৯), মান্নান (৩৪), মেহেরুন্নেসা (৩০), মাসুদ (৩০) ও সামিদা (৩২)। তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান জানান, ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ছয়জনের মরদেহ উদ্ধার করেছেন এবং ছয়জন দগ্ধ ব্যক্তিকে হাসপাতালে পাঠিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, রিসোর্টের রান্নাঘরের চুল্লি থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়। ঘটনার কারণ খুঁজে বের করতে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
ইনানী কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভ সড়কের পাশের একটি পর্যটন এলাকা। সৈকতঘেঁষা এই অঞ্চলে পর্যটকের আনাগোনা থাকে সারা বছরই। এমন এক জনপ্রিয় গন্তব্যে সকালবেলার এই দুর্ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
চলমান বার্তা ডেস্ক : 



















