দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও নয়জন এবং হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে সাত শিশুর মৃত্যু হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পৃথক দুটি বিজ্ঞপ্তিতে মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু জ্বরে নতুন এই মৃত্যুর পর চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত দেশে মোট ৪০৯ জনের প্রাণ গেছে। অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, একই সময়ে নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এক হাজার ১৯৮২ জন। বর্তমানে সারা দেশে হাসপাতালে ভর্তি আছেন ছয় হাজার ২০৫ জন।
অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণে মাসভিত্তিক মৃত্যুর চিত্রও উঠে এসেছে। জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে, মে মাসে একজন এবং জুনে ১৩ জন প্রাণ হারান। মার্চ ও এপ্রিলে কোনো মৃত্যুর তথ্য নেই। এরপর পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে থাকে। জুলাইয়ে ৩৬ ও আগস্টে ৪৩ জন মারা যান। সেপ্টেম্বরে মৃত্যু বেড়ে দাঁড়ায় ১৪৮ জনে।
আগের বছরগুলোর হিসাবও অধিদপ্তরের তথ্যে রয়েছে। ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশে এক লাখ দুই হাজার ৮৬১ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন, মৃত্যু হয় ৪১৩ জনের। ২০২৪ সালে আক্রান্ত হন এক লাখ এক হাজার ২১৪ জন, মারা যান ৫৭৫ জন। ২০২৩ সালে হাসপাতালে ভর্তি হন তিন লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন, আর সে বছর ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয় এক হাজার ৭০৫ জনের।
অন্যদিকে হামের বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হালনাগাদ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে সাত শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, এর মধ্যে ছয় শিশু মারা গেছে হামের উপসর্গ নিয়ে, আর একজনের মৃত্যু হয়েছে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে।
একই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে এক হাজার ২৯৫ শিশু। এর মধ্যে ৬৩ জনের হাম নিশ্চিত হয়েছে, আর হামের উপসর্গজনিত রোগীর সংখ্যা এক হাজার ২৩২। এই সময়ে এক হাজার ১২৮ শিশু নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে এবং ছাড়পত্র পেয়েছে এক হাজার ৫৪ শিশু।
১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে এক হাজার ১৩৫ শিশু। নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছে আরও ১০৫ শিশু। সব মিলিয়ে এই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে এক হাজার ২৪০ শিশুর।
অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগীর মোট সংখ্যা দুই লাখ ২৩ হাজার ৭৮৪ এবং নিশ্চিত রোগীর সংখ্যা ২৩ হাজার ৫৪১। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে এক লাখ ৯৯ হাজার ১২৭ জন। তাদের মধ্যে এক লাখ ৯১ হাজার ৯০ জন ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফিরেছে।
ডেঙ্গু ও হাম, দুই রোগেই প্রাণহানির এই হিসাব স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মঙ্গলবারের বিজ্ঞপ্তি ও প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তৈরি। ডেঙ্গুতে জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রতি মাসেই মৃত্যুর সংখ্যা আগের মাসের চেয়ে বেড়েছে। হামে ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত মৃত শিশুর সংখ্যা এক হাজার ২৪০।
সূত্র: স্বাস্থ্য অধিদপ্তর
চলমান বার্তা ডেস্ক : 




















