বহুল আলোচিত ও বিতর্কিত এলিট ফোর্স র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন তথা র্যাব বিলুপ্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে সরকার। এর জায়গায় বাংলাদেশ পুলিশের অধীনে গঠিত হচ্ছে সম্পূর্ণ নতুন একটি বিশেষায়িত বাহিনী, যার নাম রাখা হয়েছে ‘স্পেশাল রেসপন্স ফোর্সেস/ব্যাটালিয়ন’ বা এসআরএফ/এসআরবি।
এ-সংক্রান্ত একটি খসড়া আইন ইতিমধ্যে প্রণয়ন করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। আগামী ২৯ জুলাই সচিবালয়ে এক উচ্চপর্যায়ের আন্তমন্ত্রণালয় ও অংশীজন সভায় এই খসড়া চূড়ান্ত হতে পারে বলে জানা গেছে সংশ্লিষ্ট একটি নোটিসের সূত্রে। তবে সংশ্লিষ্টদের পর্যবেক্ষণ, নতুন আইনের মাধ্যমে মূলত নামেরই পরিবর্তন ঘটছে, কার্যত পুরোনো র্যাবই নতুন নামে চলবে।
এ প্রসঙ্গে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, শুধু নাম পরিবর্তন করলে বাস্তব সুফল মিলবে না, প্রয়োজন র্যাবের অপকর্মের সহায়ক রাজনৈতিক-আমলাতান্ত্রিক ক্ষমতাকাঠামোর মৌলিক পরিবর্তন।
খসড়া অনুযায়ী, আইনটি কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ১৯৭৯ সালের আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নস অর্ডিন্যান্সের অধীনে গঠিত র্যাব বিলুপ্ত হয়ে যাবে। নতুন বাহিনীর প্রধান হবেন একজন মহাপরিচালক, যিনি কাজ করবেন পুলিশ মহাপরিদর্শকের নিয়ন্ত্রণাধীনে। সদর দপ্তর থাকবে ঢাকায়।
পূর্বসূরির মতোই এই বাহিনী পাবে বিনা পরোয়ানায় প্রবেশ, তল্লাশি ও গ্রেপ্তারের ব্যাপক ক্ষমতা। তবে অতীতের মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ মাথায় রেখে যুক্ত হচ্ছে অভিযোগ প্রতিকার কমিটি, থানায় সোপর্দের বাধ্যবাধকতা এবং হেফাজতে নির্যাতনের জন্য শাস্তির বিধান।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক বলেন, সমস্যা নামে নয়, বাহিনীর আচরণে। নাম বদলালেও কাজের ধরন না বদলালে বিতর্ক থেকে মুক্তি মিলবে না।
আগামী ২৯ জুলাইয়ের সভায় অংশীজনদের মতামত নিয়ে খসড়াটি চূড়ান্ত করে পাঠানো হবে মন্ত্রিসভায়।
চলমান বার্তা ডেস্ক : 




















