শিরোনাম :
মানবপাচার ও স্ক্যাম প্রতিরোধে জিরো টলারেন্স নীতি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরলেই আইনি ব্যবস্থা: আইনমন্ত্রী গ্যাস সংকট, স্বাভাবিক হতে লাগবে দুই সপ্তাহ রুপিতে বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য চায় রাশিয়া মানুষের দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণে প্রকল্প নেওয়ার নির্দেশ মির্জা ফখরুলের প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিশ্চিত হলে, সবকিছু ইতিবাচক হবে: ভারতীয় হাইকমিশনার উন্নয়ন প্রকল্পে লাভের হিসাবে কারসাজি আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে থাকা আসামির হাতে হাতকড়া লাল কাপড় বেঁধে প্রতিবাদ, রাষ্ট্রীয় শোক প্রত্যাখ্যান আন্দোলনকারীদের হবিগঞ্জে এনসিপির পদযাত্রায় হামলা: দেশজুড়ে বিক্ষোভ

মামলা জট কমাতে এডিআরে জোর সরকারের, জানালেন আইনমন্ত্রী

বাংলাদেশে বিচারাধীন মামলার পাহাড় কমাতে এবং সাধারণ মানুষের দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি পদ্ধতি বা এডিআরকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। বৃহস্পতিবার ঢাকায় আইন মন্ত্রণালয়ের এক অনুষ্ঠানে একথা জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
রাজধানীর কারওয়ান বাজারে আইন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের সঙ্গে ব্লাস্ট ও ব্র্যাকের পৃথক দুটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী জানান, সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ ও এডিআরের কার্যকর প্রয়োগের ফলে ২০২৫ সালের তুলনায় চলতি বছর নির্দিষ্ট কয়েকটি আইনের অধীনে মামলা দায়েরের হার ৬২ শতাংশেরও বেশি কমে এসেছে। তিনি বলেন, দেশের আদালতগুলোতে বর্তমানে প্রায় ৪৫ লাখ মামলা ঝুলে আছে, যা বিচার বিভাগের ওপর বিশাল চাপ তৈরি করেছে, আর এই জট কমাতেই সরকার ধারাবাহিক পদক্ষেপ নিচ্ছে।
ইতিহাস স্মরণ করে মন্ত্রী বলেন, ১৯৯৪ সালে বেগম খালেদা জিয়ার আমলে প্রশাসনিক আদেশের মাধ্যমে দেশে প্রথমবারের মতো সরকারি আইনি সহায়তা কার্যক্রম চালু হয়েছিল, যা ২০০১ সালে আইনে পরিণত হয়। সেই আইন এখন আরও যুগোপযোগী করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
একার পক্ষে এই বিপুল দায়িত্ব সামলানো সম্ভব নয় উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, প্রান্তিক পর্যায়ে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্লাস্ট ও ব্র্যাকের মতো সংস্থার সহযোগিতা সরকার কাজে লাগাতে চায়। পাশাপাশি জাপানের জাইকা, জার্মানির জিআইজেড এবং জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)-ও এডিআর শক্তিশালী করতে পাশে দাঁড়িয়েছে।
মালয়েশিয়ার দৃষ্টান্ত তুলে ধরে তিনি বলেন, মধ্যস্থতার মাধ্যমে দেশটি মাত্র দুই বছরে মামলার জট ব্যাপকভাবে কমাতে পেরেছিল, আর বাংলাদেশও সেই মডেল খতিয়ে দেখছে। মামলা দায়েরের আগে ও পরে—উভয় পর্যায়েই বিচারকদের এডিআর প্রয়োগে উৎসাহিত করার কথাও বলেন তিনি।
জমিসংক্রান্ত দেওয়ানি মামলা কমাতে সম্পত্তি হস্তান্তর আইনে সংস্কারের পরিকল্পনার কথাও জানান আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, সন্তানকে সম্পত্তি লিখে দেওয়ার পর অনেক বাবা-মা অসহায় হয়ে পড়েন—এই সমস্যা এড়াতে দানপত্রে ‘ভোগাধিকার’ যুক্ত করার চিন্তা চলছে, যাতে জীবদ্দশায় সম্পত্তির ভোগদখল বাবা-মায়ের হাতেই থাকে এবং সন্তান তাদের অনুমতি ছাড়া তা বিক্রি করতে না পারে। এতে পারিবারিক সম্পত্তি বিরোধ ও দেওয়ানি মামলা উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে বলে তার আশা।
আইনি সহায়তা প্রাপ্তি সবার সাংবিধানিক অধিকার উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, সাম্প্রতিক একটি নির্যাতনের ঘটনা ও এক নিখোঁজ ব্যক্তির পরিবারকে সরকারি খরচে লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে সব ধরনের আইনি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। অর্থের অভাবে কেউ যেন ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত না হন, সেই অঙ্গীকারের কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে আইন ও বিচার বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, ব্লাস্টের নির্বাহী পরিচালক ব্যারিস্টার সারা হোসেন এবং ব্র্যাকের প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

জনপ্রিয় সংবাদ

মানবপাচার ও স্ক্যাম প্রতিরোধে জিরো টলারেন্স নীতি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

হবিগঞ্জে এনসিপির পদযাত্রায় হামলা: দেশজুড়ে বিক্ষোভ

২৯ জুলাই ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

মামলা জট কমাতে এডিআরে জোর সরকারের, জানালেন আইনমন্ত্রী

আপডেট সময় ০২:২১:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬

বাংলাদেশে বিচারাধীন মামলার পাহাড় কমাতে এবং সাধারণ মানুষের দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি পদ্ধতি বা এডিআরকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। বৃহস্পতিবার ঢাকায় আইন মন্ত্রণালয়ের এক অনুষ্ঠানে একথা জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
রাজধানীর কারওয়ান বাজারে আইন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের সঙ্গে ব্লাস্ট ও ব্র্যাকের পৃথক দুটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী জানান, সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ ও এডিআরের কার্যকর প্রয়োগের ফলে ২০২৫ সালের তুলনায় চলতি বছর নির্দিষ্ট কয়েকটি আইনের অধীনে মামলা দায়েরের হার ৬২ শতাংশেরও বেশি কমে এসেছে। তিনি বলেন, দেশের আদালতগুলোতে বর্তমানে প্রায় ৪৫ লাখ মামলা ঝুলে আছে, যা বিচার বিভাগের ওপর বিশাল চাপ তৈরি করেছে, আর এই জট কমাতেই সরকার ধারাবাহিক পদক্ষেপ নিচ্ছে।
ইতিহাস স্মরণ করে মন্ত্রী বলেন, ১৯৯৪ সালে বেগম খালেদা জিয়ার আমলে প্রশাসনিক আদেশের মাধ্যমে দেশে প্রথমবারের মতো সরকারি আইনি সহায়তা কার্যক্রম চালু হয়েছিল, যা ২০০১ সালে আইনে পরিণত হয়। সেই আইন এখন আরও যুগোপযোগী করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
একার পক্ষে এই বিপুল দায়িত্ব সামলানো সম্ভব নয় উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, প্রান্তিক পর্যায়ে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্লাস্ট ও ব্র্যাকের মতো সংস্থার সহযোগিতা সরকার কাজে লাগাতে চায়। পাশাপাশি জাপানের জাইকা, জার্মানির জিআইজেড এবং জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)-ও এডিআর শক্তিশালী করতে পাশে দাঁড়িয়েছে।
মালয়েশিয়ার দৃষ্টান্ত তুলে ধরে তিনি বলেন, মধ্যস্থতার মাধ্যমে দেশটি মাত্র দুই বছরে মামলার জট ব্যাপকভাবে কমাতে পেরেছিল, আর বাংলাদেশও সেই মডেল খতিয়ে দেখছে। মামলা দায়েরের আগে ও পরে—উভয় পর্যায়েই বিচারকদের এডিআর প্রয়োগে উৎসাহিত করার কথাও বলেন তিনি।
জমিসংক্রান্ত দেওয়ানি মামলা কমাতে সম্পত্তি হস্তান্তর আইনে সংস্কারের পরিকল্পনার কথাও জানান আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, সন্তানকে সম্পত্তি লিখে দেওয়ার পর অনেক বাবা-মা অসহায় হয়ে পড়েন—এই সমস্যা এড়াতে দানপত্রে ‘ভোগাধিকার’ যুক্ত করার চিন্তা চলছে, যাতে জীবদ্দশায় সম্পত্তির ভোগদখল বাবা-মায়ের হাতেই থাকে এবং সন্তান তাদের অনুমতি ছাড়া তা বিক্রি করতে না পারে। এতে পারিবারিক সম্পত্তি বিরোধ ও দেওয়ানি মামলা উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে বলে তার আশা।
আইনি সহায়তা প্রাপ্তি সবার সাংবিধানিক অধিকার উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, সাম্প্রতিক একটি নির্যাতনের ঘটনা ও এক নিখোঁজ ব্যক্তির পরিবারকে সরকারি খরচে লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে সব ধরনের আইনি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। অর্থের অভাবে কেউ যেন ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত না হন, সেই অঙ্গীকারের কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে আইন ও বিচার বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, ব্লাস্টের নির্বাহী পরিচালক ব্যারিস্টার সারা হোসেন এবং ব্র্যাকের প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

Share this news as a Photo Card