শিরোনাম :
ইরান যুদ্ধের অবসানে কূটনীতির চেষ্টা, কাতারের আমিরকে ট্রাম্পের ফোন ওপেনিংয়ে ওলটপালট, শেষ বিকেলে হৃদয়-মুশফিকের প্রতিরোধ সংবিধানে আল্লাহর প্রতি আস্থা ফেরানোর প্রতিশ্রুতি দিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আগামী গ্রীষ্মের আগেই সৌরবিদ্যুৎ থেকে ৫ হাজার মেগাওয়াট উৎপাদনের লক্ষ্য: বিদ্যুৎমন্ত্রী ষড়যন্ত্রকারীদের ২০২৪ সালের মতোই জনগণ উচিত জবাব দেবে : প্রধানমন্ত্রী এআই যেন বেকারত্ব আরও জটিল না করে, সতর্ক করলেন রাষ্ট্রপতি মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেস হারিয়ে ইরান যুদ্ধের দায় আংশিক মানলেন ট্রাম্প মোংলায় নতুন শিল্পকারখানা গড়ার ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর ‘ফিউচার মেকার্স’ জিতে নিল ব্রিটিশ-বাংলাদেশি কিশোর নাভহান মারধরের মামলায় পরোয়ানার পর আদালতে আত্মসমর্পণ, পরীমনির জামিন মঞ্জুর

ভালো ফল করেও কেন বিষণ্ন শিশু? যেসব লক্ষণে সতর্ক হবেন অভিভাবক

ভালো ফল করেও কেন বিষণ্ন শিশু? যেসব লক্ষণে সতর্ক হবেন অভিভাবক
পরীক্ষায় ভালো ফল, সহশিক্ষা কার্যক্রমে সাফল্য কিংবা ক্লাসে সবার আগে থাকা—এসবই একটি শিশুর সুস্থ মানসিক অবস্থার নিশ্চয়তা নয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনেক মেধাবী শিশুই সব সময় সেরা থাকার চাপ, নিজের প্রতি অতিরিক্ত প্রত্যাশা এবং পিছিয়ে পড়ার ভয়ে গভীর মানসিক চাপে ভুগতে পারে। সময়মতো বিষয়টি বুঝতে না পারলে উদ্বেগ, অবসাদ এমনকি আত্মক্ষতির ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।
বিশ্বের বিভিন্ন গবেষণার পাশাপাশি বাংলাদেশেও শিশু-কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, পরীক্ষাকেন্দ্রিক শিক্ষা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তুলনামূলক সংস্কৃতি এবং পরিবার ও সমাজের অতিরিক্ত প্রত্যাশা অনেক শিশুর ওপর অদৃশ্য চাপ তৈরি করছে।
বিশেষজ্ঞদের ভাষায়, সব কাজ নিখুঁতভাবে করার প্রবণতা বা ‘ক্লিনিক্যাল পারফেকশনিজম’ অনেক সময় বড় সমস্যার ইঙ্গিত দেয়। এ ধরনের শিশুরা ভালো ফল করেও সন্তুষ্ট হতে পারে না। একই কাজ বারবার করে, দীর্ঘ সময় বই নিয়ে বসে থাকে, কিন্তু মনোযোগ ধরে রাখতে পারে না। অতিরিক্ত মানসিক চাপ থেকে তৈরি হতে পারে অ্যাকাডেমিক বার্নআউট।
আরও কিছু লক্ষণ অভিভাবকদের নজরে রাখা জরুরি। যেমন—সামান্য ভুল করলেও অতিরিক্ত ভয় পাওয়া, কম নম্বর পেলে ভেঙে পড়া, পরীক্ষার আগে ঘন ঘন মাথাব্যথা বা পেটব্যথার অভিযোগ করা, যদিও শারীরিকভাবে বড় কোনো অসুস্থতা থাকে না। অনেক সময় এগুলো উদ্বেগজনিত সমস্যার প্রকাশ হতে পারে।
আচরণগত পরিবর্তনও গুরুত্বপূর্ণ সংকেত। স্কুলে শান্ত থাকলেও বাসায় ফিরে অকারণে রাগ করা, কান্নাকাটি, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার বা নিজেকে সব সময় ছোট করে দেখা মানসিক চাপের ইঙ্গিত হতে পারে। একইভাবে বন্ধুদের এড়িয়ে চলা, খেলাধুলা বা প্রিয় কাজের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে একা থাকতে চাওয়াও উদ্বেগের বিষয়।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, শিশুর ফলাফলের চেয়ে তার মানসিক সুস্থতাকে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। নিয়মিত তার সঙ্গে কথা বলা, ব্যর্থতাকে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করতে শেখানো এবং প্রয়োজন হলে শিশু মনোরোগ বিশেষজ্ঞ বা মনোবিজ্ঞানীর সহায়তা নেওয়া উচিত। কারণ, সময়মতো সহায়তা পেলে অধিকাংশ শিশুই স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারে। একজন আত্মবিশ্বাসী ও মানসিকভাবে সুস্থ শিশুই ভবিষ্যতে প্রকৃত অর্থে সফল মানুষ হয়ে ওঠে।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরান যুদ্ধের অবসানে কূটনীতির চেষ্টা, কাতারের আমিরকে ট্রাম্পের ফোন

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

মারধরের মামলায় পরোয়ানার পর আদালতে আত্মসমর্পণ, পরীমনির জামিন মঞ্জুর

০৫ নভেম্বর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

ভালো ফল করেও কেন বিষণ্ন শিশু? যেসব লক্ষণে সতর্ক হবেন অভিভাবক

আপডেট সময় ০১:৪৪:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬

ভালো ফল করেও কেন বিষণ্ন শিশু? যেসব লক্ষণে সতর্ক হবেন অভিভাবক
পরীক্ষায় ভালো ফল, সহশিক্ষা কার্যক্রমে সাফল্য কিংবা ক্লাসে সবার আগে থাকা—এসবই একটি শিশুর সুস্থ মানসিক অবস্থার নিশ্চয়তা নয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনেক মেধাবী শিশুই সব সময় সেরা থাকার চাপ, নিজের প্রতি অতিরিক্ত প্রত্যাশা এবং পিছিয়ে পড়ার ভয়ে গভীর মানসিক চাপে ভুগতে পারে। সময়মতো বিষয়টি বুঝতে না পারলে উদ্বেগ, অবসাদ এমনকি আত্মক্ষতির ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।
বিশ্বের বিভিন্ন গবেষণার পাশাপাশি বাংলাদেশেও শিশু-কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, পরীক্ষাকেন্দ্রিক শিক্ষা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তুলনামূলক সংস্কৃতি এবং পরিবার ও সমাজের অতিরিক্ত প্রত্যাশা অনেক শিশুর ওপর অদৃশ্য চাপ তৈরি করছে।
বিশেষজ্ঞদের ভাষায়, সব কাজ নিখুঁতভাবে করার প্রবণতা বা ‘ক্লিনিক্যাল পারফেকশনিজম’ অনেক সময় বড় সমস্যার ইঙ্গিত দেয়। এ ধরনের শিশুরা ভালো ফল করেও সন্তুষ্ট হতে পারে না। একই কাজ বারবার করে, দীর্ঘ সময় বই নিয়ে বসে থাকে, কিন্তু মনোযোগ ধরে রাখতে পারে না। অতিরিক্ত মানসিক চাপ থেকে তৈরি হতে পারে অ্যাকাডেমিক বার্নআউট।
আরও কিছু লক্ষণ অভিভাবকদের নজরে রাখা জরুরি। যেমন—সামান্য ভুল করলেও অতিরিক্ত ভয় পাওয়া, কম নম্বর পেলে ভেঙে পড়া, পরীক্ষার আগে ঘন ঘন মাথাব্যথা বা পেটব্যথার অভিযোগ করা, যদিও শারীরিকভাবে বড় কোনো অসুস্থতা থাকে না। অনেক সময় এগুলো উদ্বেগজনিত সমস্যার প্রকাশ হতে পারে।
আচরণগত পরিবর্তনও গুরুত্বপূর্ণ সংকেত। স্কুলে শান্ত থাকলেও বাসায় ফিরে অকারণে রাগ করা, কান্নাকাটি, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার বা নিজেকে সব সময় ছোট করে দেখা মানসিক চাপের ইঙ্গিত হতে পারে। একইভাবে বন্ধুদের এড়িয়ে চলা, খেলাধুলা বা প্রিয় কাজের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে একা থাকতে চাওয়াও উদ্বেগের বিষয়।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, শিশুর ফলাফলের চেয়ে তার মানসিক সুস্থতাকে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। নিয়মিত তার সঙ্গে কথা বলা, ব্যর্থতাকে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করতে শেখানো এবং প্রয়োজন হলে শিশু মনোরোগ বিশেষজ্ঞ বা মনোবিজ্ঞানীর সহায়তা নেওয়া উচিত। কারণ, সময়মতো সহায়তা পেলে অধিকাংশ শিশুই স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারে। একজন আত্মবিশ্বাসী ও মানসিকভাবে সুস্থ শিশুই ভবিষ্যতে প্রকৃত অর্থে সফল মানুষ হয়ে ওঠে।

Share this news as a Photo Card