বিশ্বের উদীয়মান অর্থনীতির জোট ব্রিকসের সদস্যপদ পেতে দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পাকিস্তান। তবে জোটের সিদ্ধান্ত গ্রহণে সর্বসম্মতির নীতি থাকায় ভারতের আপত্তির মুখে ইসলামাবাদের এই পথ এখনো রুদ্ধ হয়ে আছে।
শনিবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ সালে ব্রিকসের সদস্যপদের জন্য আনুষ্ঠানিক আবেদন জানায় পাকিস্তান। ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকাকে নিয়ে গঠিত এই জোট গত বছর মিশর, ইথিওপিয়া, ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতকে অন্তর্ভুক্ত করে ‘ব্রিকস প্লাস’ রূপ নেয়। কিন্তু নতুন সদস্য নিতে হলে বিদ্যমান সব দেশের সর্বসম্মত সমর্থন প্রয়োজন হওয়ায় ভারতের আপত্তিতে আটকে যায় পাকিস্তানের সদস্যপদ প্রক্রিয়া।
চরম অর্থনৈতিক সংকটে থাকা পাকিস্তান বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের ওপর নির্ভরতা কমাতে ব্রিকসের নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকে প্রায় ৫৮ কোটি ডলারের শেয়ার কিনেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। সদস্যপদপ্রত্যাশী মোট ২৯টি দেশের তালিকায়ও রয়েছে দেশটির নাম। বর্তমানে সম্প্রসারিত ব্রিকস বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪৯ শতাংশ এবং বৈশ্বিক জিডিপির (ক্রয়ক্ষমতার সমতা অনুযায়ী) প্রায় ৪০ শতাংশের প্রতিনিধিত্ব করে।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মমতাজ জোহরা বালোচ বলেছেন, গ্লোবাল সাউথের প্রতিনিধিত্বকারী এই জোটে যুক্ত হয়ে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়াতে চায় ইসলামাবাদ। এ ছাড়া রাশিয়ায় নিযুক্ত পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত মুহাম্মদ খালিদ জামালি জানিয়েছেন, সদস্যপদের সমর্থন আদায়ে রাশিয়াসহ অন্যান্য সদস্য দেশের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে তারা।
চীন ও রাশিয়ার সমর্থন থাকলেও নয়াদিল্লির আপত্তির কারণে জোটে যুক্ত হতে পারছে না পাকিস্তান। এদিকে ব্রিকসভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে ভারতের বাণিজ্যও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে; এসব দেশে ভারতের রপ্তানি ৪৮ দশমিক ৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৬৪ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার থেকে ৯৫ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।
সম্পা সুত্রধর,ঢাকা 




















