জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে গিয়ে সন্ত্রাসবাদ প্রশ্নে অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। লস্কর-ই-তাইয়েবার প্রধান হাফিজ সাঈদকে কবে বিচারের আওতায় আনা হবে, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের কোনো জবাব দেননি তিনি। ভারতীয় একটি সংবাদমাধ্যমের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।
গত বৃহস্পতিবার জাতিসংঘ সদর দপ্তরে প্রবেশের সময় সাংবাদিকরা শেহবাজ শরিফের কাছে জানতে চান, সন্ত্রাসীদের আশ্রয় দেওয়া পাকিস্তান কবে বন্ধ করবে। তবে কোনো উত্তর না দিয়েই তিনি ভেতরে চলে যান। পরে সদর দপ্তর থেকে বের হওয়ার সময়ও একই প্রসঙ্গে তাকে প্রশ্ন করা হয়। এবার এক সাংবাদিক সরাসরি জানতে চান, লস্কর-ই-তাইয়েবার প্রধান হাফিজ সাঈদকে কবে বিচারের মুখোমুখি করা হবে। তবে এবারও নীরবতাই ছিল শেহবাজের একমাত্র জবাব।
হাফিজ সাঈদ লস্কর-ই-তাইয়েবার প্রতিষ্ঠাতা, যাকে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র সন্ত্রাসী হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। ২০০৮ সালের মুম্বাই হামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া পাকিস্তানের অভ্যন্তরেই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অর্থায়নের অভিযোগে দণ্ডিত হয়েছেন তিনি।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল ভারতের পহেলগামে সংঘটিত সন্ত্রাসী হামলার তদন্তেও উঠে এসেছে হাফিজ সাঈদের নাম। ভারতের জাতীয় তদন্ত সংস্থা (এনআইএ) ওই হামলা সংক্রান্ত সম্পূরক অভিযোগপত্রে তাকে অষ্টম আসামি হিসেবে উল্লেখ করেছে। সংস্থাটির দাবি, লস্কর-ই-তাইয়েবার পাকিস্তানভিত্তিক সদস্যরা এই হামলার বৃহত্তর পরিকল্পনায় জড়িত ছিল।
শুধু হাফিজ সাঈদ প্রশ্নেই নয়, জাতিসংঘের বিভিন্ন মঞ্চে পাকিস্তানকে নিয়ে ইতিপূর্বেও কড়া সমালোচনা করেছে ভারত। জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদে জবাব দেওয়ার সময় ভারতীয় কূটনীতিক ক্ষিতিজ ত্যাগী পাকিস্তানের উদ্দেশে বলেন, দেশটির উচিত অন্যের ভূখণ্ডের প্রতি আকাঙ্ক্ষা ও সীমান্তপারের সন্ত্রাসে মদদ দেওয়া বাদ দিয়ে নিজেদের অর্থনীতি ও উন্নয়নের দিকে মনোযোগ দেওয়া। তার মতে, এমনটা হলে দেশটির জনগণই প্রকৃত উপকৃত হবে।
এ সময় পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরের পরিস্থিতি নিয়েও কড়া বার্তা দেন ওই ভারতীয় কূটনীতিক। তিনি অভিযোগ করেন, সেখানে বেসামরিক মানুষের মৃত্যু ঘটছে, শিক্ষার্থীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে এবং খাদ্য ও ওষুধের মতো জরুরি সরবরাহেও বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে জাতিসংঘের এবারের অধিবেশনও পাকিস্তানের জন্য স্বস্তিদায়ক হয়নি। সন্ত্রাসবাদ ও মানবাধিকার—দুই প্রশ্নেই আন্তর্জাতিক মঞ্চে বারবার কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হয়েছে দেশটিকে। হাফিজ সাঈদের বিচার নিয়ে সরাসরি প্রশ্নের মুখে প্রধানমন্ত্রীর নীরবতা ইস্যুটিকে নতুন করে আন্তর্জাতিক আলোচনায় নিয়ে এসেছে।
চলমান বার্তা ডেস্ক : 



















