যুক্তরাষ্ট্র তাদের ‘আগ্রাসী কর্মকাণ্ড’ বন্ধ না করা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। একই সঙ্গে তারা সতর্ক করেছে, উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে তেল ও গ্যাস রপ্তানির জন্য ব্যবহৃত অন্য গুরুত্বপূর্ণ পথগুলোও লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।
মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন আইআরআইবির বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
আইআরজিসির এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপ অব্যাহত থাকলে এ অঞ্চলের জ্বালানি রপ্তানির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য রুটও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। তবে কোন কোন পথকে লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য দেয়নি বাহিনীটি।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘এই অঞ্চল থেকে তেল ও গ্যাস রপ্তানির পথ হয় সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে, অথবা কারও জন্যই থাকবে না।’ একই সঙ্গে আইআরজিসি জানায়, তাদের ‘প্রতিশোধমূলক অভিযান’ চলতে থাকবে এবং যুক্তরাষ্ট্র আগ্রাসী কর্মকাণ্ড বন্ধ না করা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখার অবস্থান বহাল থাকবে।
ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাতের জেরে মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা ক্রমেই বেড়েছে। বিশ্বের উল্লেখযোগ্য অংশের অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এই প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছে থাকে। ফলে এ পথের যেকোনো অস্থিরতা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
আইআরআইবির খবরে আরও বলা হয়েছে, ইরানের ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে আইআরজিসি বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। যদিও এসব হামলায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বা হতাহতের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
আইআরজিসির ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপ শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তাই নয়, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকেও ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। তাদের দাবি, ভারত মহাসাগরমুখী রুটসহ বিভিন্ন জ্বালানি পরিবহন পথের ওপর চাপ সৃষ্টি হয়েছে, যার প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের ওপরও পড়তে পারে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র এর আগে হরমুজ প্রণালিতে নৌচলাচল নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে ইরানের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। মার্কিন কর্মকর্তারা বলেছেন, আন্তর্জাতিক নৌপথ উন্মুক্ত রয়েছে এবং বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে উদ্বেগ বাড়ছে। পরিস্থিতি আরও জটিল হলে তেল ও গ্যাসের দাম, সরবরাহব্যবস্থা এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে এর প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
শিরোনাম :
মার্কিন আগ্রাসন বন্ধ না হলে হরমুজ বন্ধ: ইরান
-
চলমান বার্তা ডেস্ক : - আপডেট সময় ১২:২৫:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬
- 31
ট্যাগস
আইআরজিসি ইরান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত জ্বালানি সংকট তেল রপ্তানি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার মধ্যপ্রাচ্য মার্কিন আগ্রাসন বন্ধ না হলে হরমুজ বন্ধ: ইরান যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালি হরমুজ স্ট্রেইট
জনপ্রিয় সংবাদ





















