ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের দখলে থাকা সব ভূখণ্ড পুনরুদ্ধারে সর্বাত্মক সামরিক অভিযানের ঘোষণা দিয়েছে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার। রবিবার টেলিভিশন ভাষণে এ ঘোষণা দেন প্রেসিডেন্ট রাশাদ আল-আলিমি।
ভাষণে তিনি বলেন, প্রজাতন্ত্রের অবশিষ্ট ভূখণ্ড ফিরিয়ে আনতে এবং সারা দেশে রাষ্ট্র ও তার প্রতিষ্ঠানের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে আজ থেকে সামরিক অভিযান শুরু হচ্ছে।
কেন এই ঘোষণা
উপকূলীয় এলাকা এবং কৌশলগত বাব আল-মানদেব প্রণালি হুথিদের নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়ার পর সরকারের পক্ষ থেকে এমন কড়া বার্তা এল। সাম্প্রতিক সময়ে হুথি ও সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলাও বেড়েছে। ইয়েমেন সরকারের প্রধান সমর্থক সৌদি আরব। দেশটির সবুজ সংকেত ছাড়া আল-আলিমি এমন ঘোষণা দেননি বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য প্রতিবেদনে নেই।
তাইজ ঘিরে উত্তেজনা
ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, সরকারের অন্তর্বর্তীকালীন রাজধানী এডেনের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ শহর তাইজের সংযোগ রক্ষাকারী প্রধান সরবরাহ রুট হুথিরা বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে। সামরিক সূত্রের বরাতে সংস্থাটি বলছে, ওই এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে হুথিরা তাইজকে কার্যত অবরুদ্ধ করে ফেলেছে।
গবেষণা প্রতিষ্ঠান চ্যাথাম হাউসের ফেলো ফারেয়া আল-মুসলিমের মতে, হুথিরা তাইজ পুরোপুরি দখলে নিতে না পারলেও এডেন থেকে শহরটিকে বিচ্ছিন্ন করার সামরিক লক্ষ্য অর্জনে সফল হয়েছে।
সৌদি আরবে হামলার দাবি
এদিকে হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি দাবি করেছেন, রিয়াদ এবং সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলের তেলসমৃদ্ধ খুরেইস এলাকায় আরামকোর স্থাপনায় তাঁরা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছেন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, দুটি অভিযানই সফলভাবে লক্ষ্য অর্জন করেছে। তাঁর দাবি, হামলা ছিল নিখুঁত এবং লক্ষ্যবস্তুতে বড় ধরনের আগুন ধরে গেছে।
হুথিরা বলছে, গত ১২ ঘণ্টায় সৌদি জোটের ৫০টি হামলার জবাবেই তারা এই পাল্টা আঘাত হেনেছে। এসব দাবির বিষয়ে সৌদি আরব এখনও কোনো মন্তব্য করেনি। স্বাধীন সূত্রে দাবিগুলোর সত্যতাও নিশ্চিত হয়নি।
আগের দিনের হামলা
শনিবার ইয়েমেন সরকার জানায়, সানা, সাদা এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় তাইজের কাছে হুথিদের বিভিন্ন ঘাঁটিতে তাদের বাহিনী আঘাত হেনেছে। হুথি-পরিচালিত আল-মাসিরা টিভির খবর অনুযায়ী, সৌদি পাল্টা হামলায় অন্তত দুজন আহত হয়েছেন।
প্রেক্ষাপট
২০১৪ সালে হুথিরা রাজধানী সানা দখলে নিলে ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক চরম উত্তেজনার মধ্যে গত জুলাইয়ে এই যুদ্ধ আবার নতুন করে তীব্র হয়ে ওঠে।
চলমান বার্তা ডেস্ক : 


















