ইরান-সমর্থিত হুতি যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে ইয়েমেনে নতুন করে সামরিক অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে সৌদি আরব। লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বাব আল মান্দাব প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এ অভিযান শুরু হতে পারে বলে আঞ্চলিক ও পশ্চিমা কর্মকর্তাদের বরাতে জানিয়েছে রয়টার্স। শনিবার (৩ অক্টোবর) প্রতিবেদন বলা হয়েছে, অভিযানে ইয়েমেনের সৌদি-সমর্থিত বাহিনী স্থলভাগে নেতৃত্ব দেবে। তাদের সহায়তায় সৌদি আরব বিমান হামলা চালাবে। অভিযানের পরিসর অনুযায়ী এক লাখের বেশি ইয়েমেনি সেনা ও যোদ্ধাকে মোতায়েন করা হতে পারে।
একটি হলো বাব আল-মান্দাব প্রণালিকে ঘিরে সীমিত অভিযান চালানো। অন্যটি হলো আল-বায়দা, মারিব, তাইজ ও আল জাওফসহ ইয়েমেনের একাধিক এলাকায় একযোগে বড় ধরনের অভিযান পরিচালনা করা।
গত মাসে হুতিরা ইয়েমেনের উপকূলীয় এলাকায় দ্রুত অগ্রসর হয়ে বাব আল-মান্দাবের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর সৌদি আরব এই অভিযান পরিকল্পনা করছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। ভূমধ্যসাগর ও এশিয়ার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হওয়ায় প্রণালিটির নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়া রিয়াদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
এদিকে ইয়েমেনে সৌদি সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র গোয়েন্দা তথ্য ও সামরিক পরামর্শ দিয়ে সহায়তা করছে। তবে সরাসরি যুদ্ধ অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র বা অন্যান্য মিত্র দেশের অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা নেই বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
তুরস্ক ও পাকিস্তানও সৌদি আরবকে সামরিক সরঞ্জাম দিয়েছে। পাকিস্তানের সামরিক কর্মকর্তারা সৌদি বাহিনীর সঙ্গে কাজ করছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সৌদি আরবের আরেকটি বড় উদ্বেগ হলো হুথিদের পাল্টা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে দেশটির তেল স্থাপনা ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো রক্ষা করা। এ জন্য কয়েকটি মিত্র দেশের কাছে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা চেয়েছে রিয়াদ।
২০১৫ সালেও হুতিদের বিরুদ্ধে ইয়েমেনে সামরিক অভিযান শুরু করেছিল সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। ২০২২ সালের যুদ্ধবিরতির পর সংঘাত অনেকটা কমে এলেও চলতি বছর আবার হামলা ও পাল্টা হামলা বেড়েছে। নতুন অভিযান শুরু হলে ইয়েমেনের সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : 


















