মিরপুর টেস্টের চতুর্থ দিনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সামনে ১৭০ রানের লক্ষ্য দাঁড় করিয়েছে বাংলাদেশ। নাঈম হাসানের টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম ফিফটিতে ভর করে স্বাগতিকেরা দ্বিতীয় ইনিংসে গুটিয়ে গেছে ১৪২ রানে। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ওয়েস্ট ইন্ডিজ প্রথম পাঁচ ওভারে বিনা উইকেটে তুলেছে ১৬ রান।
আগের দিন বিকেলে নাঈম যখন ব্যাটিংয়ে নামেন, বাংলাদেশের রান তখন ৬ উইকেটে ৫৩। বিপদের সেই মুহূর্ত থেকেই দলকে টেনে তোলেন তিনি। জাকের আলীর সঙ্গে ২৬ রানের জুটিতে তৃতীয় দিনের খেলা শেষ হয় ১০৬ রানের লিড নিয়ে। চতুর্থ দিন শুরুর আগে স্পিনার তাইজুল ইসলাম জানিয়েছিলেন, ২০০ রানের কাছাকাছি লক্ষ্য দিতে চায় বাংলাদেশ।
দিনের শুরুতেই অবশ্য ধাক্কা খায় স্বাগতিকেরা। জোমেল ওয়ারিক্যানের করা ওভারের শেষ বলে ফ্লাইট আর টার্নে পরাস্ত হয়ে রোস্টন চেজের হাতে ক্যাচ দেন জাকের। ২২ রান করে ফেরেন এই উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান। তখন বাংলাদেশের রান ৩১ ওভারে ৭ উইকেটে ৮৬, লিড ১১৩।
এরপর নাঈমকে সঙ্গ দেন হাসান মাহমুদ। ওয়ারিক্যানের বলে স্লিপে ক্যাচ ছেড়ে নাঈমকে জীবন দেন চেজ। তখন নাঈমের রান ২৯। ইনিংসে এটি ছিল তাঁর তৃতীয় জীবন। ২৬ রানের জুটি গড়ার পর ভাঙে এই জুটি। ওয়ারিক্যানের নিচু হয়ে আসা বল ব্যাকফুটে খেলতে গিয়ে লাইন মিস করেন হাসান। বল লাগে সামনের প্যাডে, ৮ রানে এলবিডব্লিউ হন তিনি। বাংলাদেশের রান তখন ৪১ ওভারে ৮ উইকেটে ১১৫। নাঈম তখন অপরাজিত ৩৬ রানে, যা টেস্টে তাঁর সর্বোচ্চ।
নবম উইকেট জুটিতে তাইজুলকে নিয়ে আরও ১৬ রান যোগ করেন নাঈম। তাঁর ব্যাটে ভর করে বাংলাদেশের লিড ছাড়িয়ে যায় ১৫০ রান। ৪৫.৩ ওভারে চেজের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরেন তাইজুলও, তাঁর রান ৮। তখন বাংলাদেশের স্কোর ৯ উইকেটে ১৩২, নাঈম অপরাজিত ৪৯ রানে।
ঠিক সেই সময় মিরপুরে নামে বৃষ্টি। ৪৬ ওভারে ১৩২ রানে থাকা বাংলাদেশের লিড তখন ১৫৯। খেলা বন্ধ থাকে কিছুক্ষণ। বৃষ্টি থামলে মাঠ থেকে কাভার সরিয়ে নেওয়া হয়, খেলা পুনরায় শুরু হয় বেলা ১১টায়।
মাঠে ফিরে মাত্র এক রান করলেই ফিফটি। সেটি পূর্ণ করেন নাঈম, টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম অর্ধশতক। তবে ৫২ রানে তাঁর বিদায়ের সঙ্গে সঙ্গেই ৪৮.৪ ওভারে ১৪২ রানে শেষ হয় বাংলাদেশের ইনিংস। প্রথম ইনিংসের ২৭ রানের লিডসহ ওয়েস্ট ইন্ডিজের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ১৭০।
বাংলাদেশের ইনিংসে নাঈমের পর সর্বোচ্চ ২২ রান করেন জাকের। সাদমান ইসলাম করেন ১৩, নাজমুল হোসেন ১০। লিটন দাস ৪ রান করেন। হাসান মাহমুদ ও তাইজুল দুজনেই ৮ রান করে আউট হন। শরীফুল ইসলাম অপরাজিত থাকেন ৭ রানে।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে বল হাতে সফলতম রোস্টন চেজ, ৩৬ রানে ৫ উইকেট নিয়েছেন তিনি। ওয়ারিক্যান ৬৩ রানে নিয়েছেন ৪ উইকেট। জোসেফ ১৭ রান দিয়ে একটি উইকেট পেয়েছেন, সিলস ১৩ রান দিয়ে পাননি কোনো উইকেট।
প্রথম সেশনে বাংলাদেশ ২০.৪ ওভার খেলে ৭১ রান তোলে, হারায় ৪টি উইকেট। লাঞ্চের আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজ এক ওভার ব্যাট করে বিনা উইকেটে ৮ রান নেয়। সেই ওভারে মেহেদী হাসান মিরাজ কয়েকটি সুযোগ তৈরি করলেও উইকেট পাননি। বিরতির পর প্রথম পাঁচ ওভারে মিরাজ ও তাইজুল কেউই সাফল্য এনে দিতে পারেননি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্কোর এখন ১৬/০, জিততে দরকার আরও ১৫৪ রান।
লক্ষ্য বড় নয়। তাই টেস্ট জিততে হলে বাংলাদেশের দরকার দ্রুত উইকেট। হাতে সময় আছে, তবে সেই সময়ের ভেতরেই ১০টি উইকেট তুলতে হবে স্বাগতিক বোলারদের।
চলমান বার্তা ডেস্ক : 



















